কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে হিমু পরিবার। হিমু হচ্ছে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট একটি জনপ্রিয় ও কাল্পনিক চরিত্র। হিমু মূলত একজন বেকার যুবক যার আচরণ কিছুটা অস্বাভাবিক। চাকরির সুযোগ থাকলেও সে চাকরি কখনো করে না বলেই সে বেকার। তার অস্বাভাবিক চরিত্রের মধ্যে সে হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে খালি পায়ে রাস্তাঘাটে দিন রাত ঘুরে বেড়ায় এবং মাঝে মাঝে এমন কিছু ভবিষ্যৎবানী করে যা বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। নব্বইয়ের দশকে হিমুর প্রথম উপন্যাস ময়ূরাক্ষী প্রকাশিত হয়। প্রাথমিক সাফল্যের পর হিমু চরিত্র বিচ্ছিন্নভাবে হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন উপন্যাসে প্রকাশিত হতে থাকে। হিমু ও মিসির আলি হুমায়ুন আহমেদ সৃষ্ট সর্বাধিক জনপ্রিয় দুইটি কাল্পনিক চরিত্র।

বর্তমানে হিমুদের নিয়ে কাজ করছেন হিমু পরিবারের সম্বনয়ক জনাব আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি হিমুদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মুলক কাজ এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় হুমায়ূন আহমেদ এর নামে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠাসহ নানা ধরণের জন হিতৈষীমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। সম্প্রতি কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর জন্মদিনকে সামনে রেখে এক সাক্ষাৎকারের তিনি জানান- হিমুদের সাথে কাজ করছি, কিছু স্বপ্ন নিয়ে। মেধাবী ও অসীম সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণীরা হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসে এবং হিমু সাজে এবং তারা খালি পায়ে রাত বিরাতে রাস্তায় হেঁটে বেড়ায় এবং চাঁদের আলোতে তারা অন্য আলো খুঁজে ফিরে।

অনেকে বৃষ্টি দেখলেই ঘর ছেড়ে বেড়িয়ে পরে বৃষ্টি বিলাসে। মানুষ বিপদে পরেছে রক্ত দরকার, ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য টাকা দরকার, শীতে গরম কাপড় দরকার সব সমস্যায় সাধ্যমত সহায় হয়ে পাশে দাঁড়ান হিমু, হিমুরা। একজন মানুষকে ভালোবেসে তার সৃষ্ট চরিত্রে ঢুকতে চাওয়া হিমুরা সত্যি অদ্ভুত। পরম সৌভাগ্য যে, হুমায়ূনপত্মী মেহের আফরোজ শাওন এর নির্দেশনায় হিমু পরিবার নামক সংগঠনটির সমন্বয়ক এর দায়িত্ব পালন করছি। এই সংগঠনের সাথে কাজ করতে গিয়ে নন্দিত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় ও কাছের প্রায় প্রত্যেক মানুষেরই সহযোগিতা পেয়েছি এবং সাংগঠনিক যেকোন প্রয়োজনে যেখানেই গিয়েছি সবাই স্বতষ্ফুর্তঃ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। এজন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা। হিমু পরিবার বর্তমানে যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে চলছে, তা হলো হুমায়ূন আহমেদ এর বই গুলোকে তৃণমূল পাঠকদের কাছে পৌঁছে দেয়া। সে লক্ষ্যেই দেশের আনাচে-কানাচে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার কাজ হাতে নিয়েছে হিমু পরিবার।

যেখানে হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের সাথে থাকবে অন্যসব লেখকদেরও বই। সৃজনশীল মানুষ তৈরীতে হিমু পরিবারের এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের সকলের প্রতি চাওয়া থাকবে অন্তত একটি করে বই হিমু পরিবারের লাইব্রেরীকে প্রদান করবেন। আপনার দেয়া বই পৌঁছে যাবে একদম পাঁড়াগায়ের সেই পাঠকের কাছে যে অধীর আগ্রহে বসে থাকে বই পড়তে। আসছে ১৩ই নভেম্বর নন্দিত মানুষটির জন্মদিন উপলক্ষে আমরা একসাথে বেশকিছু লাইব্রেরী উদ্ভোধন করবো। আমাদের বিশ্বাস ভালো কাজে সবাই এগিয়ে আসবেন। এবং পাঠকদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরীতে সহযোগিতার হাত বাড়াবেন। সবশেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা লাখো হিমুরা খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে মুক্তচিত্তে চিৎকার করে বলতে পারবে, হে হুমায়ূন শান্তিতে ঘুমাও তুমি হিমুরা তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়নে পথে আছে এবং থাকবে……

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন