মোঃরাজিব তালুকদার

একাদশ সংসদ নির্বাচনে,ঝালকাঠি ১,২আসনে মৌসুমি নেতাদের মনোনয়ন প্রত্যাশা। তবুও তারা ঝালকাঠি দুটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি। তাদের ফেসবুক ওয়াল সহ কিছু মনোনীত কর্মী বাহিনীর প্রচারনায় তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি ১ ও ২ আসনে দলীয় মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। বিভিন্ন নিউজের স্বাক্ষাৎকারে তারা এভাবেই আশা প্রকাশ করেন। অথচ গুটিকয়েক নিজস্ব লোক ছাড়া তৃনমূল পর্যায় দলীয় কর্মী সহ জনগনের মাধ্যে তাদের সামন্যতম পরিচিতিও নেই। অনেকে দলের জেলা কমিটির সদস্য পর্যন্ত নন। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঝালকাঠিতে বড় দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এ ধরনের অদৃশ্যমান মনোয়ন প্রত্যাশিদের তৎপরতা লক্ষ করা যায়।

ঝালকাঠি-১ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনায়োন প্রত্যাশিদের মধ্যে দৃশ্যমান কার্যক্রম রয়েছে মাত্র ৩ জনের। এরা হলেন বর্তমান সাংসদ বিএইচ হারুন, জেলা আওয়ামীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. খান সাইফুল্লাহ পনির, বাংলাদেশ কৃর্ষি ব্যাংকের চেয়ার ম্যান ইসমাইল হোসেন ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামান মনির। এ আসনে আওয়ামী লীগের আরও কমপক্ষে ৩/৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি থাকলেও তাদের দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম ও নেতাকর্মীদের সাথে কোন যোগাযোগও নেই। তাই তারা অদৃশ্যমান মনোনয়ন প্রত্যশি হিসেবেই নেতা কর্মীদের কাছে বিবেচিত।ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে শুধু দৃশ্যমান কার্যক্রম রয়েছে এ আসনের সাবেক এমপি ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিষ্টার শাজাহান ওমরের। তার সাথে রাজাপুর কাঠালিয়ার তৃনমূল নেতাকর্মীদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ আছে।

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেয়া রফিকুল ইসলাম জামালেরও নির্বাচনী এলাকায় কর্মীবাহিনী না থাকলেও পরিচিতি রয়েছে।ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামীলীগের একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশি, এ আসনের বর্তমান এমপি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর নির্বাচনী এলাকায় দৃশ্যমান কার্যক্রম রয়েছে। তিনি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ঝালকাঠি সদর ও নলছিটিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন।ঝালকাঠি-২আসনের বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে তৃনমূলের পরিচিতি রয়েছে মাত্র ৪ জনের। এরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংঠনিক সম্পাদক ও বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মাহাবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া ও এ আসনের সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টোর। তবে চারজনের পরিচিতি থাকলেও নেতকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে শুধু মাত্র নুপুর, নান্নু ও কিবরিয়ার। জেলায় বিএনপি’র নেতা-কর্মিদের সাথে ব্যাপক উদ্দিপনা ও পরিচিতি দৃশ্যমান রয়েছে মনিরুল ইসলাম নুপুরের। সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টোর জনসাধারন ও নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগের অভাবের কারনে তিনি এখন নেতাকর্মীদের কাছে অদৃশ্যমান মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে পরিচিত।

এ আসনের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশি জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া মাঝে মাঝে এলাকায় আসলেও তার পরিচিতি ও প্রভাব শুধু মাত্র নলছিটি উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সদর উপজেলার দশটি ইউনিয়নের তার তেমন কোন পরিচিতি ও কার্যক্রম নেই। উল্লেখিতরা ছাড়াও ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির আরও ৫/৬ জন মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন। তবে এই ৫/৬ জন নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাশি দাবী করলেও নেতাকর্মীরা যাদেরকে কাছে পাননা অথবা যাদের নির্বচনী এলাকায় দৃশ্যমান কোন কার্যক্রম নেই, তাদেরকে মনোনয়ন প্রত্যাশি হিসেবে মানতে রাজি নন।

জেলায় বিএনপির এসব অদৃশ্যমান মনোনয়ন প্রত্যাশিদের বিষয় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন অদৃশ্যমান মনোনয়ন প্রত্যাশিরা মৌসুমী নেতা। নির্বাচনী মৌসুম আসলেই এরা নিজেদের জানান দেন। এদের ব্যাপারে নেতাকর্মীরা সচেতন রয়েছেন।নুপুর আরও বলেন, ঢাকায় বসে বা দেশের বাইরে বসে মনোনয়ন চাইলেই হবেনা। যারা দলের দুঃসময় নেতা কর্মীদের পাশে থাকবে নির্বাচনের সময় নেতা কর্মীরা তাদেরকেই মূল্যয়ন করবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন