কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল্লহ আল ওয়ালিদ মাসুম এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ইউপির ৯জন সদস্য যে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারীতার অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করছেন ওই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বরং ওই ইউপি সদস্যরাই পিআইওর সঙ্গে যোগসাজস করে প্রকল্পের টাকা আতত্মসাৎ করে এখন আমার নামে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা বিএনপির কর্মী হওয়ায় সাবেক দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের পক্ষ নিয়ে তারা আমার উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে বলেও দাবি করেন চেয়ারম্যান। ৯ জন সদস্যের ১০টি অভিযোগের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।

এ প্রতিনিধিকে তিনি আরো জানান, ২০১৭ অর্থ বছরে কাবিটা কর্মসুচির অধিন রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটকরণ প্রকল্পের ২ লাখ টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করেছেন তা তিনি শতভাগই সম্পন্ন করেন। এ কাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস থেকে তদন্ত করে মাটি কাটা বুঝে নিয়ে তারপর পিআইও ফাইনাল বিল দিয়েছেন। আর তখন ৪০ দিনের কর্মসূচির কোনো কাজই ছিল না এবং সাপখাওয়া গ্রামের ময়নুলের বাড়ী হতে আনোয়ারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পূণ:নির্মাণের জন্য বরাদকৃত ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার প্রকল্প দু‘টির কাজ ওখানকার স্থানীয় ইউপি সদস্যের তত্ত¦াবধানে করে সেটা পিআইও দেখার পরই বিল দেয় । এছাড়া রেজিষ্টারী অফিসের ১ টাকা দিয়ে ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর বিভিন্ন জায়গায় খানা খন্দর ও ভাঙ্গা থাকায় সেগুলো ভরাট ও রিপারিং এর কাজে লাগানো হয়েছে। এসব কাজের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।

তিনি আরো জানান, আরডিআরএস ও ইউনিয়ন পরিষদের যৌথভাবে গাছ লাগানোর যে টাকা তা ৪০ নয় ২০। নিলামকৃত এসব গাছের ২০ টাকা দিয়ে সব ইউপি সদস্য ও তার নিজের ২ মাসের বেতন পরিশোধ করেছেন। বাকী টাকা ইউনিয়ন পরিষদের আপ্যায়ন, বিভিন্ন কাজের মাস্টারররোল তৈরির খরচসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক কাজে ব্যয় করা হয়েছে। বরং তারাই এটা আত্মসাতের জন্য পায়তারা করছিল। ইউপি‘র শৌচাগারের ইট গোপনে বিক্রী করে আতত্মসাতের বিষয়ে তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদে কোনো সৌচাগার নেই। আছে বিএস কোয়ার্টার। যা দীর্ঘদিন থেকেই ভগ্নদশায় পরে আছে। কিছু ইট খুলে খুলে পরে ছিল। এগুলো দু চারটা করে করে হারিয়ে গেছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বরাদ্ধকৃত জি,আর এর চাল ও টাকা ইউপি সদস্যদের ডেকে তাদের আওতায় থাকা স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থদের তারাই বিতরণ করেছে। সেখানে ট্যাগ অফিসার ও আর্মিও উপস্থিত ছিল।

এছাড়া তিনি নির্বাচিত সদস্যদের রেজুলেশন ছাড়া তার মনগড়া একাই সিন্ধান্ত নিয়ে যা মন চায় তাই করার বিষয়ে জানান, বন্যার সময় ইমার্জেন্সি পিরিয়ডে তাদের ডাকা সম্ভব ছিল না। তাছাড়াও এ মিটিংটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে করা হয়। তাদেরকে নিয়েই মিটিংটি করা হয়েছিল। গত ইদুল ফিতরে ভিজিএফ কর্মসুচির অধিন ৫৮টন গম নয় এখানে ৭৬ টন গম ১৩ কেজি করে ৫ হাজার ৮শ জনকে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হয়েছে যার প্রমাণস্বরুপ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইউপি ও পিআইও অফিসেও জমা আছে। এছাড়া কমলাকুঠির আবাসন প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধকৃত ৯ লাখ টাকার ১০ কাজ করে ৯০ভাগ আতত্মসাৎ করার অভিযোগও সম্পূর্ণ মিথ্যে। কেননা কমলারকুটি আবাসনের কাজ এখনও চলমান রয়েছে।

এ কাজের প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। অল্পকিছুদিনের মধ্যেই এ কাজ শেষ হবে বলেও জানান তিনি। অপরদিকে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির তালিকায় ১০টাকা কেজি দরের চাল খুবই স্বচ্ছভাবেই করা হয়েছে।১০টি অভিযোগের জবাব দিয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল্লহ আল ওয়ালিদ মাসুম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে এগুলো সবই মিথ্যে তার সব প্রমাণই আমার কাছে আছে। তাই এটার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া আমার জন্য মঙ্গলজনক। তিনি আরো বলেন, অভিযোগকারী মেম্বাররাই বিভিন্নভাবে গরিব দু:খির হক আত্মসাতের পায়তারা করেছে। কিন্তু আমি এ সুযোগ না দেয়ায় তারা আমার ভাবমুর্তি নষ্ট করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। এখন আমার নামে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এতে তাদের কোন লাভ হবে না। সরকার ও জনগন আমার পক্ষে আছে।

আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালন করে এই ইউনিয়নবাসীর পাশে আছি থাকব। এ ইউনিয়নের উন্নয়ন করব। কেউ এ উন্নয়নকে বাধা দিতে পারবে না। ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানায়, মাসুম চেয়ারম্যান খুবই ভালো মানুষ। তার কাজে সবাই সন্তুষ্ট। বিগত চেয়ারম্যান থেকে শতগুণ ভালো। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, তদন্ত করলে সব জানা যাবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন