ইমদাদুল হক

পাইকগাছায় শারদীয়া দূর্গোৎসব উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরভার ১৪৩টি মন্ডপে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে মন্ডপে মন্ডপে চলছে জোর প্রস্তুতি। অধিকাংশ মন্ডপে প্রতিমা তৈরী ও রঙের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বেশিরভাগ মন্ডপে চলছে প্যান্ডেল ও সাজ-সজ্জার কাজ।
উল্লেখ্য, মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সনাতন ধর্মালম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে প্রতি বছর শারদ উৎসবে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আসেন দূর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দূর্গা। ভক্তদের ডাকে সাড়া দিয়ে একবছর পরে মা আবারও আসছেন ভক্তদের মাঝে। ধর্মের গ্লানি আর অধর্ম রোধ, সাধুদের রক্ষা, অসুরদের বধ আর ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবছর দুগর্তিনাশিনী দেবী দুর্গা ভক্তদের মাঝে আবির্ভূত হন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাদেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আর ৩০ সেপ্টেম্বর বিসর্যনের মধ্য দিয়ে ৫ দিন ব্যাপী এ মহা উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটবে। উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে চলছে জোর প্রস্তুতি। মন্ডপ গুলোতে মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবক ও কারিগররা দিবারাত্রি কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রতিমা তৈরি ও রঙের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কেন্দ্রীয় পূজা মন্দির কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জগদীশ চন্দ্র রায়। অনুরূপভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানান, গত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি মন্ডপে নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। বর্তমানে সবগুলো ইউনিয়ন ও পৌরসভায় সদস্য বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, এখনও পর্যন্ত এলাকার কোথাও তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং আশাকরছি সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দূর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তৃপ্তি রঞ্জন সেন জানান, এ বছর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভায় মোট ১৪৩ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার মধ্যে পৌরসভায় ৭টি, হরিঢালীতে ১৯টি, কপিলমুনিতে ১৭টি, লতায় ১৩টি, দেলুটিতে ১৪টি, সোলাদানায় ১২টি, লস্করে ১৬টি, গদাইপুরে ৫টি, রাড়–লীতে ১৭টি, চাঁদখালীতে ১২টি এবং গড়ইখালীতে ১১ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর ৫টি অতিরিক্ত মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহালয়ের আবির্ভাবের মধ্যদিয়ে ইতোমধ্যে পূজা শুরু হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রত্যেক মন্দির কমিটিকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, আযানের সময় মাইক বন্ধ রাখা, উচ্চ স্বরে গান বাজনা না করা সহ বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আশা করছি উৎসব মূখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শারদীয়া দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন