হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, বল্লভেরখাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেন ও সকল ইউপি সদস্য-সদস্যাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত কাবিখা টিআর অতিদরিদ্রদের কর্মসুচী প্রকল্প নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত কাজ ইউপি সদস্য-সদস্যাদের না দিয়ে তাদের কে বঞ্চিত করে চেয়ারম্যান একাই কাগজেকলমে কাজ দেখিয়ে সিংহভাগ লুটপাট করে আসছে। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য-সদস্যা ১০জন দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউএনও, কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অভিযোগ করেছে। বন্যাকবলিত এলাকা ফান্দেরচর, সফি মোক্তারের চর, কালিকাপুর, মহাসিনের চর, হাছিরচর চরাঞ্চলের মানুষের ত্রাণের জন্য হাহাকার। সরকারের তরফে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেয়ার কথা বলা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ তারা পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না।

অপরদিকে বল্লভেরখাষ ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ করেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। বল্লভেরখাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেন গত-২৪আগষ্ট ২০০৭খ্রিস্টাব্দ নাগেশ্বরী উপজেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন (পিআইও) অফিসের মাধ্যমে জিআরের ২মে.টন চাল উত্তোলন করে তা থেকে রাতের অন্ধকারে রিলিফ অফিসার ইসাহাক আলীর অনুপস্থিতিতে অল্প কিছু চাল মাজিপাড়া গ্রামে বিতরণ করে বেশির ভাগ চাল বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে জানান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা। এছাড়া গত ২৬আগষ্ট ২০০৭খ্রিস্টাব্দ জিআরের ২মে.টন চাল উত্তোলন করে নিজের ফায়দা লুটিয়ে নিয়েছে চেয়ারম্যান। ঈদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৬মে.টন চাল ও ২০হাজার টাকা ত্রাণ চেয়ারম্যান একা বিতরণ করতে চাইলে ইউপি সদস্যরা ইউএনও কে অভিযোগ করবে বলে জানালে চেয়ারম্যান ঈদের আগের দিন রিলিফ অফিসারের মাধ্যমে ৯ইউপি সদস্য-সদস্যাদের মধ্যে ৩মে.টন চাল বিতরণ করেন। অবশিষ্ট ৩মে.টন চাল ঈদের পরে ৬সেপ্টম্বর রিলিফ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চেয়ারম্যান ৩মে.টন চালের মধ্যে ২মে.টন বিতরণ করেন ও রাস্তা মেরামতের নামে সরকারি ত্রাণের ১মে.টন চাল ২০হাজার টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ করেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা।

সরেজমিনে, বল্লভেরখাষ ইউপিতে চলতি বছরের বরাদ্দকৃত কাবিখা টিআর ও ননওয়েজ প্রকল্পের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখা যায়, প্রথম-দ্বিতীয় পর্যায়ের কাবিখা প্রকল্পে চেয়ারম্যান নিজেই সভাপতি হয়ে প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে নিজের ফায়দা লুটিয়ে নিয়েছেন। সরকারি নীতিমালা অনুসারে জুন ক্লোজিং এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে কিন্তু বল্লভেরখাষ ইউনিয়নে ননওয়েজ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্যা মমতাজ বেগম প্রকল্প ইউড্রেন বরাদ্দ ৫৩হাজার ৮শত টাকার কাজ নামমাত্র করে অবৈধভাবে গত সপ্তাহে পিআইও অফিসের কর্মরত সুজন এর সাথে আঁতাত করে বিল উত্তোলন করে। মমতাজ বেগমের স্বামী নুর ইসলাম বলেন, ইউড্রেন প্রকল্পের ৫৩হাজার ৮শত কাজের বিল উত্তোলন করাতে চেয়ারম্যান কে পিসি ১০হাজার ও পিআইও কে পিসি ১২হাজার টাকা দিতে হয়েছে। অপরদিকে বল্লভেরখাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেন নির্বাচিত হয়ে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে নাগেশ্বরী বানুরখামার সওজ রাস্তার পশ্চিম পাশ্বে কালীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন ইউপি সদস্যা কোহিনুর বেগম এর জায়গা ও বাড়ি দশ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন।

বন্যাকবলিত বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের ফান্দেরচর, সফি মোক্তারের চর, কালিকাপুর, মহাসিনের চর, হাছিরচর এর আমিন, আনোয়ার, মকো, সহিদুল, শফি, ছবিরন বেগম, রুপালী বেগমসহ অনেকে জানান, বন্যায় ধান, পাট, ফসল হারিয়ে খাদ্য অভাবে কষ্টে দিন যাপন করছি। চেয়ারম্যান আমাদের কোন খোঁজ খবর রাখেনি ও ত্রাণও পাইনি। রাস্তা মেরামতের নামে সরকারি ত্রাণের ২মে.টন চাল চেয়ারম্যান বিক্রি করেছে ও ২০হাজার টাকা আত্মসাৎ করাসহ চেয়ারম্যান জনগণের সাথে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন, বদমেজাজি বলে অভিযোগ করেন।
বল্লভেরখাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ হলে আপনাকে দেখে নিবো ও মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করবো।

এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শঙ্কর কুমার বিশ্বাস বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক এ সহযোগিতা কামনা করছেন।

স/মা

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন