নবাবগঞ্জ.দোহার প্রতিনিধি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নে অবস্থিত সোনাহাজরা মুফিজিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসা। ১৯২২ সালে হযরত মাওলানা আহম্মদ উল্লা ও হযরত ইসমাইল কারী (রঃ) এলাকার জনসাধারণের সার্বিক সহায়তায় এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। সুনামের সাথেই প্রতিষ্ঠানটি তার অবস্থান বজায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘ দিন। কিন্তু ২০১৩ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে কেএম মাহমুদুল হাসান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নানা অনিয়ম আর দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে এই প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বনামধন্য এই মাদ্রাসার যশ ও খ্যাতি নষ্ট হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে। এছাড়া মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুর প্রত্যক্ষ মদদেই এসব হচ্ছে বলে জানা গেছ

কমিটি ও শিক্ষকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল হাসানের নিয়োগ অবৈধ । তারপরেও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তিনি উপাধ্যক্ষ পদে কাজ করছিলেন। সাবেক অধ্যক্ষ অবসরে যাওয়ার পর তিনি ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পারন করেন। পরিচালনা কমিটি নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলে তিনি এই পদে পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে সরকারী বিধি মোতাবেক উপাধ্যক্ষ হিসেবে ১৫বছরের অভিজ্ঞতা না থাকলে তিনি অধ্যক্ষ পদে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু কেএম মাহমুদুল হাসান এ বিধি ভঙ্গ করেই কমিটির কতিপয় লোকের আর্শীবাদে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। বিষয়টি মাদ্রাসা বোর্ড জানতে পেরে তাকে অবৈধ ঘোষনা করেন।

এছাড়া কেএম মাহমুদুল হাসান অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও বোর্ডে নির্দেশে তিনি এ পদে সরকারী বেতন পান না। তবে উপাধ্যক্ষ পদে স্বাক্ষর করে বেতন তুলে নিচ্ছেন আর প্রতিষ্ঠানের বেতন নিচ্ছেন অধ্যক্ষ হিসেবে। নানা অভিযোগে জর্জরিত এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে খোদ শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রদের ক্ষোভের অন্ত নেই।
একটি সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই অধ্যক্ষকে প্রভাবিত করে নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু সোনাহাজরা মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদ বাগিয়ে নেন। এরপর থেকেই অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান ধরাকে সরা জ্ঞান করে সভাপতির সাথে যোগসাজশে সব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি ছাত্র ভর্তির ক্ষেত্রেও বেশী টাকা নিয়ে রশিদে কম টাকা উল্লেখ করে আত্মসাত করেন। এমন কিছু অভিযোগের সত্যতাও তদন্তে বেরিয়ে আসে। ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই ইমারুল ইসলাম নামে এক ছাত্র আলীম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। তার কাছ থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা নেয়া হলেও তাকে ৫শত টাকার রশিদ দেয়া হয়। এভাবে তিনি অনেক ছাত্রের কাছ থেকেই টাকা আদায় করে চলেছেন। এছাড়া উন্নযনের নামে প্রতিষ্ঠানের হিসাব থেকে টাকা তুলেও লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ আছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় জনতা ব্যাংকের দুটি একাউন্টে প্রায় ১৫ লাখ টাকার তহবিল ছিলো। যা বর্তমানে ২৩ হাজার ২৭৪টাকা মাত্র। এসব টাকা কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তা অনেকেই জানে না।

পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এতো সব অনিয়ম থাকার পরেও আমাদের সভাপতি নাসির উদ্দিন ঝিলু তার পক্ষে সব সময়ই সাফাই গেয়ে সব অপরাধ অনিয়ম ও দুর্ণীতিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চলছে ব্যাপক উত্তেজনা । বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অব্যাহত আছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কেএম মাহমুদুল হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। বোর্ড তাকে বাতিল ঘোষনা করলেও উচ্চ আদালতের রায় তার পক্ষে। একজন শিক্ষক অধ্যক্ষ পদে আসীন হতেই এসব ষড়যন্ত্র করছে।

এবিষয়ে সোনাহাজরা মুফিজিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, অধ্যেক্ষর বিরুদ্ধে বোর্ডের যে অভিযোগ সে বিষয়ে তিনি উচ্চ আদালতে গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া অর্থনৈতিক কোনো অনিয়ম থাকলে তা আমরা খতিয়ে দেখবো।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes