রকিবুল হাসান রকি

ইয়াবা, গাজা, মদে আসক্ত হয়ে পড়েছে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার তরুণ সমাজ। দিন দিন মাদকাসক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মাদকা ব্যবহার অতি দ্রুত নিয়ন্ত্রন করা না গেলে সামাজিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও বৃদ্ধি পাবে অপরাধমূলক কর্মকান্ড এমনটাই মনে করেন স্থানীয় সুশীল সমাজ। সদর দক্ষিণ উপজেলাটি ভারতে সীমান্তবর্তী এলাকায় থাকায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে বিভিন্ন মাদক। এ উপজেলার পরিবারের ভরন পোষন বহনকারী ৭০% পুরুষ জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকে। এছাড়া অধিকাংশ পুরুষ কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকায়, উঠতি বয়সি সন্তানরা বাবার শাসন থেকে মুক্ত থাকে। আর এ তরুণরা তাদের সহজ সরল মা কিংবা অভিভাবকদের নানা অজুহাত দিয়ে টাকা নিয়ে নেশাগ্রস্থ্য বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠে। যেনে শুনেই নিজেকে মাদকের বিষাক্ত থাবায় সপে দেয়। উঠতি বয়সের কিশোর কিশোরীরা যাদের বয়স ১৬ থেকে ২০ তারাই মাদকের প্রতি বেশী আসক্ত হয়ে পড়ছে। আগের যুগে দেখা যেত মাদক সেবন উচ্চ বিত্তদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত। তখন দেখা যেত এলাকার জমিদার কিংবা সম্পদাশালীগন তাদের ভাব গাম্ভীর্য দেখানোর জন্য মাদক সেবন করত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে দেখা যায় মধ্যবিত্ত ও নি¤œ বিত্তের মধ্যেও এর বিস্তার লাভ করেছে। কিশোর, তরুন, যুবক থেকে বৃদ্ধ বয়সের নারী পুরুষের কেউ বাদ যাচ্ছেনা মাদকের এই ছোবল থেকে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় বিয়ার, ইয়াবা, গাজা, ফেনসিডিল, বাংলা মদ, যৌন উত্তেজক মাদক সহ আরও বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য। তবে ইদানিং ইয়াবার কদর বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলন্ত অবস্থায় গাড়ীতেও মাদকের বেচা কেনা হয়ে থাকে বলেও জানা যায়। সদর দক্ষিণ উপজেলাটি ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় মাদক পাচারে মাদক ব্যবসায়ীদের সুবিধা হয়ে থাকে। বিশেষ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা সুয়াগঞ্জ বাজার রাজেশপুর, লালবাগ, ফুলতলী, একবালীয়া, ধনপুর, কনেশতলা, বল্লভপুর এসব এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশ করে থাকে। অভিভাকদের সূত্রে জানা যায়, মাদকের ভয়াভয় আতংকে রয়েছেন তারা। স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়েদের মধ্যে এর প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই ছেলে মেয়েদের নিয়ে তারা চিন্তিত। স্থানীয়রা জানান, একদল মাদক ব্যবসায়ী তরুন ছেলেদের টার্গেট করে বিনা মূল্যে মাদক সেবন করায়। তরুণেরা এসব মাদক বিনা মূল্যে সেবক করার পর নিয়মিত মাদকের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যায়। আর ঐ মাদক ব্যবসায়ীরা তখন বিনা মূল্যে দেয়া বন্ধ করে দেয়। তাই কিশোররা মাদক সেবনের জন্য বাধ্য হয়ে মা- বাবার সাথে ঝগড়া ঝাটি করে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে নেয়। পরিবার যখন মাদক সেবনে টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করে তখন তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। সদর দক্ষিণ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আমরা যখনই যেখানে মাদকের অস্তিত্ব পাই সেখানে অভিযান পরিচালনা করি। বিভিন্ন সময়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলমান আছে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন