চমক নিউজ টিম : ভারতের পশ্চিম বঙ্গের হাবড়ার অশোকনগরে সংহতি পার্কে চলে অশ্লীল কর্মকান্ড। সরেজমিন অনুসন্ধানে পার্ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের ছেলে মেয়েরা প্রকাশে অশ্লিল কার্মকান্ড চালছে। পার্কে সৌন্দর্যের জন্য তৈরি বিভিন্ন গাছ বা ঝোপের আড়ালকে তারা বেছে নিয়েছে নিজেদের অভিলাষ পূরণের জন্য। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা প্রকাশ্যে যে অসামাজিক কর্মকান্ড করছে তাতে পার্কে প্রবেশে সাধারন মানুষ লজ্জাকর পরিস্থিতির সম্মুক্ষিণ হচ্ছে। সংহতি পার্কে দিন দুপুরে চলে প্রকাশ্য অশ্লিল কর্মকান্ড এমন একাধিক অভিযোগে চমক নিউজের অনুসন্ধানী টিম একটি বিশেষ অভিযান চালায়। সেই অভিযানে উঠে আসে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা। অঞ্জন কান্তি দাসের অনুসন্ধানে সাথে ছিলেন, প্রভাকর মোদক । ছবি তুলেছেন রাজু ঘোষ।  
কোন মেয়েকে দেখা যায় প্রায় বিবস্ত্র হয়ে গাছের পেছনে অপ্রীতিকর অবস্থায় অসামাজিক কর্মকান্ড চালাছে, কেউ বা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে প্রকাশ্যে ব্যস্ত ঠোঁটের স্বাদ নিতে। কারো আবার চক্ষু লজ্জা থাকায় বাড়ি থেকে নিয়ে এসেছে ছাতা। সেই ছাতার আড়ালে চলছে একান্ত কর্ম। যান্ত্রিক জীবনে একটু প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে আশোকনগরে গড়ে তুলা হয়েছে সংহতি পার্কটি। প্রবেশ মূল্য ১০/১৫ টাকা। অবাদে এই পার্কে অসামাজিক কর্মকান্ড করা সুযোগ থাকায় এইখানে মূলত আসে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েরা।
অনুসন্ধানে পার্কে কোন নিরাপত্তা রক্ষী বা প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়েনি। পার্কে প্রবেশের মুখে নাম মাত্র দুজন লোককে পাওয়া যায়। যারা পার্কে ঢোকার টিকিট ছেঁড়া পর্যন্তই নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন।

পার্কের দায়িত্বে থাকা মনোজ বাবু জানান, ‘পার্কের ভিতরের পরিবেশ সত্যিই স্বাভাবিক নয়। এখানে ছেলে মেয়েরা যেটা করছে সেটা সামাজিক বলা যাবে না। তবে এসব কর্মকান্ড বন্ধ করলে পার্কে তালা ঝুলিয়ে দিতে হবে।’ পার্কের ভিতরের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আরো জানান, ‘যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমরা আছি। পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে আমরা থানায় খবর দেব।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দর্শক চমক নিউজকে জানান, এই পার্কের দায়িত্বরত ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় এখানে প্রকাশে যৌনকর্ম ও মাদক ব্যবসা চলে। দিনের থেকে সূর্য ডোবার পরের এখানে নিয়ম বলে আর কিছুই থাকে না। পার্ক সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকার নিয়ম থাকলেও অনেক রাত পর্যন্ত এখানে টাকার বিনিময়ে চলে যৌনকর্মকান্ড। পতিতাদের সাথে চলে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের আদিম কর্মকান্ড।
পার্ক ঘুরে দেখা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই পার্কের অধিকাংশ বিনোদন থিমই অযত্নে নষ্ট হয়ে গেছে। পার্কের পরিবেশের কোন পরিচ্ছন্নতা নেই। পার্কটি এখন আর সাধারণ দর্শনার্থিদের জন্য নেই। প্রকাশ্যে অশ্লিলতা চলার কারণে সাধারণ দর্শনার্থিরা এই পার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কল্যানগড় পৌরসভার দায়িত্বে থাকা এই পার্কের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় কাউন্সিলার ঝঙ্কু সরকার এর সাথে। তিনি জানান, পশ্চিম বঙ্গের প্রায় পার্কের বর্তমানে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এসব পরিস্থিতিকে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই নিতে বলেছেন। তারপরেও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এ-ব্যাপারে তিনি পৌরপিতার মত-মত জানান পরামর্শ দেন। পার্কে প্রকাশ্যে অসামাজিক কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসা চলছে এমন অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
কল্যানগড় পৌরসভায় গড়ে ওঠা আধুনিক সংহতি পার্কের স্বাভাবিক পরিবেশ এক্ষুনি ফিরিয়ে আনতে না পারলে বদনামের তলে অচিরেই হারিয়ে যাবে এই চিত্ত বিনোদন কেন্দ্রটি, এমনটাই মনে করেন অশোকনগরের অনেকে।

স/এষ্

print
Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন