বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুই অর্থ বছরের হাট-বাজার ইজারালব্ধ নীট আয়ের টাকা বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যেমে উত্তোলন করে কোন কাজ না করেই আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ জেলা প্রশাসক বরাবরে ইউপির সদস্যগণ একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রেরণ করেন। । অভিযোগকারিরা হলেন কোলা ইউপির ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহীনুর ইসলাম স্বপন, ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, ৫ নং ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম, ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য হারুনুর রশিদ ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর আলম। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিস ও অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের হাট-বাজার ইজারালব্ধ আয়ের ১০% ১টি প্রকল্পে ১ লাখ ৬১ হাজার ৪শ’ টাকা, গত ১৬/১১/২০১৬ ইং তারিখে ০৮৩৬৬২১ নং চেকে প্রদান ও ১৫% অর্থের অনুকুলে ৬টি প্রকল্পে ৯ লাখ ২৮ হাজার ৯শ’ ৪৯ টাকা গত ১৬/১১/১৬ ইং তারিখে ০৮৩৬৩৭৪ নং চেকে প্রদান করা হয়। উল্লেখিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ভান্ডারপুর হাটের মাছ পট্টির পশ্চিমপার্শ্বে মাটি ভরাট ১লাখ ৬১হাজার ৪শ’ টাকা, ভান্ডারপুর হাটের কাঁচা বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে মাটি ভরাট প্রকল্প ১লাখ ৫০হাজার টাকা, ভান্ডাপুর হাটের পুজা মন্ডপের দক্ষিণ পার্শ্বে হাট সেড থেকে মাংসহাটী পর্যন্ত খোলা ড্রেন ও স্লাব এবং মাটি ভরাট প্রকল্পে ১লাখ ১৮হাজার ৬৬ টাকা, কোলা হাটের মাছ বাজারে খোলা ড্রেন পুনঃসংস্কার ২ লাখ টাকা, কোলা বাজারে প্রসাবখানা নিমার্ণে ২ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটিতে মাটি ভরাট ২ লাখ টাকা, কোলা হাটে ২টি নলকুপ স্থাপন ও মেঝে পাকাকরণ প্রকল্পে ৬০ হাজার ৮শ’ ৮৩ টাকা ।
অপরদিকে ১৪২৪ বঙ্গাব্দে ইজারালব্দ আয়ের ১০% অনুকুলে ২টি প্রকল্পে ২ লাখ ৩২ হাজার ৫শ’ টাকা গত ১৪/৬/২০১৭ ইং তারিখে ১৪৫৭৪৪২ নং চেকে প্রদান ও ১৫% অর্থের অনুকুলে ৬টি প্রকল্পে মোট ১৫ লাখ ৭০ হাজার ৮শ’ ৩০ টাকা গত ১৪/৬/১৭ ইং তারিখে ১৪৬৬৮৩৫ নং চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পগুলো হলো, কোলা হাটের ছাগল বাজারে মাটি ভরাট ২ লাখ, কোলা হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে নলকূপ স্থাপন ৩২ হাজার ৫শ’ টাকা, কোলা হাটে পশু জবাইখানা তৈরী বাবদ ৫ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটিতে গ্রীল নির্মাণ ১ লাখ টাকা, কোলা বাজারে সাব-মারসিবল মটর ও পানি সাপ্লাই প্রকল্পে ৪ লাখ টাকা, কোলা হাটের গো-হাটিতে মাটি ভরাট বাবদ ১লাখ ২৬হাজার ৮০৭ টাকা, ভান্ডারপুর হাটে নতুন সেড নির্মাণ বাবদ ৪ লাখ টাকা, ভান্ডারপুর হাটের দক্ষিণ পার্শ্বে নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে ৪৪ হাজার ২৩ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করা হলেও উক্ত দুই অর্থ বছরের প্রকল্পগুলোর কোন কাজ না করেই সমুদয় অর্থ উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চু।
সরেজমিনে ভান্ডারপুর ও কোলা হাটে প্রকল্পগুলো দেখতে গিয়ে দেখাযায়, ১৪২৩ বঙ্গাব্দের হাট-বাজার ইজারালব্ধের ১০% এর প্রকল্প ভান্ডারপুর হাটের মাছ পট্টির পশ্চিমপার্শ্বে মাটি ভরাট ও ১৫% এর ২নং প্রকল্প ভান্ডাপুর হাটের পুজা মন্ডপের দক্ষিণ পার্শ্বে হাট সেড থেকে মাংসহাটী পর্যন্ত খোলা ড্রেন ও স্লাব এবং মাটি ভরাট প্রকল্পের মধ্যে শুধু মাংস হাটীতে একটি ২৫ ফিট ড্রেন নির্মান করেছেন। এছাড়া আর কোন প্রকল্পের কাজই করা হয়নি। দুটি প্রকল্পের মাটি ভরাট স্থানটিও একই জায়গা উল্লেখ করা রয়েছে। অপরদিকে ১৪২৩ বঙ্গাব্দে হাট-বাজার ইজারালব্ধের ১৫% এর প্রকল্পে কোলা হাটে গো-হাটীতে মাটি ভরাট ও ১৪২৪ বঙ্গাব্দে ১০% এর প্রকল্পে কোলা হাটের ছাগল বাজারে মাটি ভরাট, কোলা হাটের গো-হাটীতে মাটি ভরাট প্রকল্প। পরপর এই ৩টি প্রকল্প একই স্থানে হলেও সেখানে কোন মাটির কাজও করা হয়নি। অপর প্রকল্পগুলোরও একই অবস্থার প্রতিয়মান হয়।
এ বিষয়ে ভান্ডারপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মাসুদ সাগর ও সম্পাদক সাজাক হোসেন জানান, এখানে গত দুই অর্থ বছরে যতগুলো প্রকল্প আছে তার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার টাকা খরচ করে মাংস হাটি থেকে ২৫ ফিট একটি ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া আর কোন প্রকল্পের কাজ করা হয়নি। কোলা হাটের প্রকল্পগুলো দেখতে গেলে সেখানেও কোন কাজ দেখতে না পেয়ে কোলা বাজারের একাধীক দোকানদার, বণিক সমিতির সভাপতি ,,,,,কদ্দুস ও হাট ইজারাদারের সাথে কথা বললে তাঁরা বলেন, গত দুই বছরে এই হাটে কোন উন্নয়ন মূলক কাজ হয়নি। কোলা বিজলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, কোলা হাটের গো-হাটী ও ছাগল হাটী আমাদের স্কুল মাঠেই বসে। কিন্তু সেখানে গত দুই বছরের মধ্যে এই বর্ষা মৌসুমের আগে মাত্র ১০ ট্রাক মাটি দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বচ্চু । তাছাড়া আর কোন কাজই করা হয়নি।
কোলা ইউপি চেয়ারম্যান এসকেন্দার মির্জা বাচ্চুর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান বলেন, হাট-বজারের অর্থ প্রকৌশলীর প্রাক্কলন গ্রহন করে পিপিআর-২০০৮ এর বিধান অনুসরণর্পূবক ব্যয় করতে বলা হলেও চেয়াম্যানদেরকে অর্থ ছাড় কবে করেছে সেটিও আমি জানিনা এবং আমাকে কেও কিছু জানায়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম আলী বেগ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগ বিষয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি বলেন, অভিযোগটি আমি এখনো দেখিনি আগামীকাল অফিসে গিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে অভিযোগে আরোও জানাযায়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দে হাট-বাজার ইজারালব্ধের ৫%, ৪৬% ও সব-রেজিষ্টার অফিসের ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের ১% বরাদ্ধ সহ মোট ২২ লাখ ৩৭ হাজার ২৭২ টাকারও কোন কাজ না করার ও অভিযোগ উঠেছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes