কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের হরিয়ানার সিরসায় অবস্থিত ডেরা সাচ্চা সৌদার ডেরায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল আধাসামরিক বাহিনীর শত শত সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও ভিডিওচিত্র সাংবাদিকের বিশাল একটি দল ওই অভিযানে ছিল।

মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সম্পদ খোঁজার জন্য সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল খননযন্ত্র। এদিকে আরও বড় কেলেঙ্কারির আভাস মিলবে ডেরার ভিতর থেকে তা আঁচ করা যাচ্ছিল কদিন ধরেই। সুবিশাল ক্যাম্পাসের ভিতরে বহু দেহাবশেষ পুঁতে রাখা হয়েছে, এমন জল্পনা আছে। এবার ডেরার মুখপত্র ‘সচ কহুঁ’-তেও স্বীকার করা হলো সে কথা। পত্রিকাটির দাবি, মৃত্যুর পর দেহাবশেষ নদীতে ভাসালে পরিবেশ দূষণ হয়। তাই দেহাবশেষ ডেরাকে দান করে দেওয়ার জন্য ভক্তদের উৎসাহিত করতেন বাবা রাম রহিম। ভক্তদের দেহাবশেষ ডেরা চত্বরে সমাহিত করে তার ওপরে গাছ পুঁতে দেওয়া হতো বলেও সংগঠনটির কাগজে লেখা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ আছে, ডেরাপ্রধান রাম রহিম অনেককে খুন করিয়েছিলেন এবং তাদের দেহই ডেরা চত্বরে পুঁতে রাখা হয়েছিল। একসময় ডেরা সাচ্চা সৌদার অনুগামী ছিলেন, কিন্তু পরে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন, এমন বেশ কয়েকজন সম্প্রতি এই অভিযোগ তুলেছেন। তার পরই নতুন কেলেঙ্কারির আভাস মিলতে শুরু করেছে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, অভিযানের প্রথম ২ ঘণ্টার মধ্যে ডেরা থেকে বিলাসবহুল গাড়ি, অর্থ, নিষিদ্ধ মুদ্রা, নিথ, হার্ড ডিস্ক, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়। প্রায় ৮০০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ‘ডেরা সাচ্চা সৌদা’র দুটি কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সাবেক বিচারপতি এ কে এস পাওয়ারের নেতৃত্বে ডেরার বাইরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, কমান্ডো, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়। ডেরার ভিতর দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে গত সপ্তাহে ‘রকস্টার গুরু’ রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। বর্তমানে তিনি কারাবাস করছেন।

রাম রহিমের ওই ডেরায় আইফেল টাওয়ার, তাজমহল, ক্রেমলিন ও ডিজনি ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। এ ছাড়া সাত তারকা মানের ‘এমএসজি রিসোর্ট’ এবং সব জায়গায় ডেরাপ্রধানের পোস্টার লাগানো আছে। ডেরার ভিতরে রয়েছে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্কুল’, দোকান, একটি হাসপাতাল, একটি স্টেডিয়াম, ঘরবাড়ি ও একটি সিনেমা থিয়েটার, যেখানে রাম রহিমের ‘এমএসজি’ চলচ্চিত্রগুলো দেখানো হয়। ডেরার ভিতরে একটি গোলাপি ভবন রয়েছে, যা রাম রহিমের কুখ্যাত ‘গুফা’ (গুহা) নামে পরিচিত। ওই বাড়িতেই তার নারী অনুসারীদের ধর্ষণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কিছুই অনুসন্ধান করা হবে। হরিয়ানার পুলিশপ্রধান বি এস সন্ধু বলেন, ‘ডেরাপ্রাঙ্গণ একটি বিশাল এলাকা। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। ’

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন