খাইরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঈদের দিন নতুন জামাকাপড় পরে আনন্দ-উৎসব নয়, চামড়া ক্রেতারা দিনটি পার করেন বস্তাা হাতে গ্রাম থেকে গ্রামে ছুটোছুটি করে। ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকার ক্রেতা-ফড়িয়ারা জানিয়েছেন তাদের ঈদের দিনের কর্মব্যস্ততার কথা।
সদর উপজেলার ছত্রকান্দা চামড়া ক্রেতা পরিমল দাশ বলেন, তার এলাকায় চামড়া ক্রেতার সংখ্যা প্রায় একশ। তারা ফড়িয়ার মাধ্যমে চামড়া সংগ্রহ করেন। শুধু ঈদকে ঘিড়ে প্রত্যেক ক্রেতা দুই থেকে তিনজন করে ফড়িয়া নিয়োগ করেছেন। ফড়িয়ারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে চামড়া কেনেন। বছরের এই দিনটিতে তাদের আয়রোজগার সবচেয়ে বেশি হয় বলে জানান তিনি।
“ঈদ একটি বড় উৎসব হলেও ব্যবসার কারণে দিনটি আমরা উপভোগ করতে পারি না। দিনটিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতে না পারায় অবশ্যই খারাপ লাগে। কিন্তু করার কিছু নেই। বাপ-দাদার ব্যবসা ধরে রাখতে কাজ করে যেতে হচ্ছে,” বললেন চামড়া ক্রেতা রাম চরন দাশ।
রাজাপুর উপজেলার বাগড়ি বাজারের ফড়িয়া স্বপন দাশ বলেন, দৌড়াদৌড়ি করেই তার ঈদ কাটে। “ব্যবসায়ীদের দেওয়া টাকা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করি। যত বেশি দৌড়াব তত বেশি চামড়া পাব। ঈদের কোনো আনন্দ নেই আমাদের। কোরবানির চামড়া সংগ্রহ করেই ঈদ পার হয় আমাদের।”
রাজাপুরের চামড়া ক্রেতা শাহজালাল এবার চামড়া কেনার জন্য পাঁচ ফড়িয়াকে টাকা দিয়েছেন। গত বছর কিনেছিলাম ১৫০০, এবার আমার লক্ষ্য ছিল ২০০০ চামড়ার। তাই নামাজের পরপরই নেমে পড়ি। আমি নিজে ফড়িয়ারা মিলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬০০ গরুর চামড়া ও ১৫০ ছাগলের চামড়া কিনেছি। পরে ফড়িয়াদের কাছ থেকে অরো ২৫০ পিচসহ মোট এবছর ১০০০ পিচ চামড়া সংগ্রহ করেছি।
চামড়ার দাম সম্পর্কে তিনি জানান, তারা সরকার নির্ধারিত দামের নিচে কেনে। “সরকারি দামে চামড়া কিনবেন ট্যানারি মালিকরা। আমরা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা ফুট আর সর্বনিম্ন ২০ টাকা করে গরুর চামড়া কিনেছি এ বছর।”
“ঈদের দিন সকাল থেকেই চামড়া কেনাবেচা শুরু হয় বলে জানান নলছিটির ক্রেতা কালাচান। দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, আমরা চামড়া কিনি ফুট হিসেবে। বিকাল নাগাদ তিনি ২০০ গরুর চামড়া আর ৬০ ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করেছেন”
“তবে ফড়িয়াদের লাভটা নগদ। যে যত বেশি চামড়া পাবে, ঈদে তার লাভ থাকবে তত বেশি। তাই ফড়িয়াদের কাছে ঈদ মুখ্য নয়, চামড়ার সংখ্যা বাড়ানোই মুখ্য।”

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন