বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই।  ইন্নালিল্লাহি….রাজিউন।

মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানী গুলশান আজাদ মসজিদে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক সম্রাট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক সম্রাট। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রাজ্জাক।

সম্রাট বলেন, এখন দোয়া ছাড়া আমাদের করার কিছু নেই। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন। এখন দোয়াই হচ্ছে আমাদের একমাত্র কামনা .

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের পরিচালক ডা. সাগুফা আনোয়ার  এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১২মিনিটে নায়ক রাজ রাজ্জাক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নায়ক রাজ জনাব আব্দুর রাজ্জাক কে ২১শে আগষ্ট ২০১৭ তারিখ সন্ধ্যা ৫টা ২০ মিনিটে ইউনাইটেড হসপিটালের ইমার্জেন্সী বিভাগে পরিবারের সহায়তায় নিয়ে আসা হয়। এই সময় তার নাড়ী (পালস্) ও রক্তচাপ (ব্লাড প্রেশার) পাওয়া যাচ্ছিল না। এটিকে একটি কার্ডিয়াক  ইমার্জেন্সী বিবেচনা করে সাথে সাথেই কোড ব্লু ঘোষণা করা হয়। তদনুযায়ী কার্ডিয়ো পালমোনারী রিসাসিটেশন দিয়ে ওনার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করা ও জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য ৪৫-৫০ মিনিট চেষ্টা করা হয়।  

এই প্রচেষ্টা চলাকালে ইউনাইটেড হসপিটালের চীফ কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ মোমেনুজ্জামান ইমার্জেন্সী বিভাগেই ওনার পাশে ছিলেন। কিন্তু সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

ষাটের দশকের মাঝের দিকে চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত।

তার পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক। ডাক নাম রাজু, রাজ্জাক, রাজা। তিনি ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি কলকাতার টালিগঞ্জের নাগতলায় জম্ম গ্রহন করেন। তার পিতার নাম আকবর হোসেন এবং মাতার নাম নিসারুন নেস। রাজ্জাকের তিন ভাই তিন বোন তাদের মধ্যে তিনি ছোট।

তিনি সর্বপ্রথম কলকাতার শিলালিপি নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসাকে (লক্ষ্মী) বিয়ে করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম ঢাকায় আগমন করেন তিন পুত্র (বাপ্পারাজ, বাপ্পি, সম্রাট) দুই কন্যা (শম্পা, ময়না) এবং স্ত্রী খায়রুন নেসাকে নিয়ে কলমাপুর বসতি স্থাপন করেন।

রাজ্জাক নায়ক হিসাবে প্রথম বেহুলা ছবিতে অভিনয় করেন। তার সর্বপ্রথম প্রযোজিত ছবি আকাঙাক্ষা এবং পরিচালক হিসাবে প্রথম ছবি অনন্ত প্রেম, এই পর্যন্ত তার অভিনিত মোট ছবির সংখ্যা প্রায় ৫০০। রাজ্জাকের সেরা প্রাপ্তি ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হওয়া। তার খ্যাতি নায়ক রাজ রাজ্জাক।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক 

কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে রাজ্জাকের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তার মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ’

শেখ হাসিনা নায়করাজের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার  শোক 

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

সোমবার সন্ধ্যায় চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খ্যাতিমান এই অভিনেতার মৃত্যুতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও শোক প্রকাশ করেছেন। রাজ্জাকের পরিবারের প্রতি তিনিও সমবেদনা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির  শোক 

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।  

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান আজ এক শোক বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শক প্রিয়তা অর্জনে নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, বাঙালি সংস্কৃতি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মরণ করবে।  
রাষ্ট্রপতি রাজ্জাকের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। 

নায়করাজ দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। এর আগে বেশ কয়েক দফা তিনি চিকিৎসা নিয়েছিলেন ইউনাইটেড হাসপাতালে। সম্প্রতি আবার শরীর খারাপ হলে তার পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। অবশেষে আজ সোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তানসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে এই অভিনেতার মৃত্যু সংবাদ শুনে তাকে শেষবারের মতো দেখতে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন