মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে হিমেল এন্টার প্রাইজ নামের কোমল পানীয় পণ্যের ডিলার মুন্সীগঞ্জসহ ও এর আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন দোকানে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানীয় সেভেন আপ, পেপসি, মিরিন্ডা, মাউন্টেন ডিউ ইত্যাদি বোতলজাত পানীয় সর্বরাহ করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, মিরকাদিম পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী কমলাঘাট বন্দরে মেসার্স হিমেল এন্টার প্রাইজ ডিলারশীপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সকম বেভারেজ কোম্পানির বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয় পণ্য সর্বরাহের ব্যবসা চালাচ্ছেন। স্থাণীয়দের অভিযোগ হিমেল এন্টার প্রাইজ দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানি পণ্য সর্বরাহ করে আসছে। যেন দেখার কেউ নেই। কোম্পানির নিয়ম অনুয়ায়ী মেয়াদ উত্তীর্ণ মাল ফেরত দেওয়া বা নষ্ট করে ফেলার কথা থাকলেও তা করা হয়না সেখানে। মুনাফার লোভে ভাল পন্যের সঙ্গে মেয়াদ উত্তীর্ণ মালগুলো সারা শহরের দোকানগুলোতে সর্বরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে কমলাঘাটের হিমেল এন্টার প্রাইজে গিয়ে দেখা যায়, মেয়াদ উত্তীর্ণ কোমল পানির গাঁয়ে যেখানে মেয়াদ লিখা আছে সেটাকে ঘষে তুলে ফেলা হচ্ছে। আর তুলে ফেলা বোতলগুলো নতুন পণ্যের মোড়কে নতুন মালের সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে। কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, তারা তাদের পণ্য মুন্সীগঞ্জের প্রায় দেড় শতাধিক দোকানে সর্বরাহ করে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জ ও মিরকাদিম পৌরসভার এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ সেভেন আপ, মিরিন্ডা, ক্লেমন পাওয়া যায়। শহরের কালাম স্টোরের মালিক আবুল আবুল কালাম, শহরের হাটলক্ষীগঞ্জ এলাকার কামাল, মুন্সীগঞ্জ বাজারের আনোয়ারসহ একাধিক দোকানি জানান, নতুন মালের ভিতরে তারা মেয়াদ উত্তীর্ণ পন্য ঢুকিয়ে দেয়। এ নিয়ে ডিলারদের সঙ্গে একাধিকবার তর্ক বিতর্কও হয়েছিল। পড়ে তারা পাল্টিয়ে দিতে বাধ্য হয়। বেশীরভাগ খরিদদারগন সাধারনত মেয়াদ দেখেনা । হাতে নিয়েই এক চুমুকেই সাবার করে ফেলে। দু’একটা বোতল ধরা পড়ে সচেতন খরিদদারদের কারনে। মেয়াদ উত্তীর্ণ সেভেন আপ খেয়ে সাধারন মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে বাতিল পণ্য বিক্রি করে কোম্পানির ডিলাররা লাভবান হচ্ছে। এদিকে সুশীল সমাজ মনে করছেন এসব কোমল পানীয় পণ্যের প্রতি প্রশাসন সঠিকভাবে মনিটরিং না করে তাহলে এর প্রবনতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
অভিযোগের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে হিমেল এন্টার প্রাইজ এর মালিক হিমেল বলেন, আমরা কোন মেয়াদ উত্তীর্ণ মাল সর্বরাহ করিনা। এটা অনেক সময় দোকানদাগন করে থাকতে পারে।
স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মোল্লা জানান, কেউ মেয়াদ উত্তীর্ণ মাল বিক্রি বা সর্বরাহ করছে এমন কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট একেএম শওকত আলম মজুমদার বলেন, পণ্যের ভেজাল রোধে প্রশাসন জির‌্যু টলারেন্স আছে । অচিরেই এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

স/শা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন