চমক নিউজ এর একান্ত সাক্ষাৎকারে আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এ্যাডভোকেট নাসিম ওমর সাথী।
চমক নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক জাহিদ হাসানের সাথে শেয়ার করা অংশগুলো থেকে চৌম্বক অংশগুলো তুলে ধরা হলো পাঠকের জন্য।
চমক নিউজ : আইন পেশার সূচনা হয়েছিলো কীভাবে ?
নাসিম ওমর সাথী : সমাজ ব্যবস্থা শুরুর সাথে সাথেই আইন পেশার সূচনা হয়। আর আমাদের এই বাংলাদেশে আইনের সূচনা হয় বৃটিশদের মাধ্যমে। বৃটিশদের তৈরি করা অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে আমাদের আইনের প্রচলন। সেই সাথে ইসলামের আইন ও বিধি-বিধানকেও সংযুক্ত করে নেওয়া হয়।
চমক নিউজ : আমাদের দেশের আইন ব্যবস্থা নিয়ে কি আপনি সন্তÍষ্ট ?
নাসিম ওমর সাথী : হ্যাঁ, বাংলাদেশের আইন ব্যবস্থা নিয়ে আমি যথেষ্ট সন্তুষ্ট। আমাদের দেশের আইনের অবকাঠামো, আইন ব্যবস্থা খুব সুন্দর এবং প্রয়োগযোগ্য।
চমক নিউজ : সুষ্ঠু সমাজ গঠনে আইনের প্রয়োগ সম্পর্কে আপনার ধারনা কী ?
নাসিম ওমর সাথী : আইনের সঠিক ব্যবহার না হলে কখনে া একটা দেশ বা জাতি সমৃদ্ধ হতে পারে না। দেশকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করার জন্য আইনের প্রয়োগ আবশ্যক। সমাজে আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হলে সমাজ কাঠামো বা আইন ব্যবস্থা ভেঙে যাবে।
চমক নিউজ : আইন বিষয়ে সাধারন মানুষের কি সাধারণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন আছে ?
নাসিম ওমর সাথী : আমি মনে করি প্রতিটি নাগরিকের অবশ্যই উচিত তার দেশের আইন সম্পর্কে নুন্যতম একটা সুস্পষ্ট ধারনা থাকা। কারণ আইন জানা নাগরিক অধিকার। বিপরীতে আইন না জানা থাকলেই বরং একজন লোক বিভিন্ন বিপদের সম্মুখীন হতে পারে।
চমক নিউজ : বহুল আলোচিত ৫৭ ধারা নিয়ে যদি কিছু বলেন।
নাসিম ওমর সাথী : আপনি ঠিকই বলেছেন যে বর্তমানে বহুল আলোচিত একটি ধারা হলো ৫৭ ধারা। এ ধারাটি নিয়ে এখন মাননীয় আইন মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, জজসাহেবরা এবং আইনজীবিরা পর্যন্ত বিভিন্ন রকম আলোচনা করছেন। সত্যি কথা হলো, যে কোনো আইন প্রনয়ণ করার সময় এর ভালো দিকটাকেই সামনে রেখে তা প্রনয়ণ করা হয়। কিন্তু আমাদের মাঝেই কিছু মহল আছেন যারা আইনের অপব্যবহার করে থাকেন। এই অপব্যবহারের কারণেই ৫৭ ধারাটি আজকে আলোচিত সমালোচিত।
চমক নিউজ : এর মাধ্যমে সাংবাদিক হয়রানি অনেক বেড়ে গেছে। সে ব্যাপারে আপনি কী বলবেন ?
নাসিম ওমর সাথী : হ্যাঁ, আপনি ঠিকই বলেছেন। এখন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় এর অপব্যবহারই বেশি হচ্ছে। আপনি ফেসবুকের কোনো একটা সংবাদের কেবল লাইক দেওয়ার কারণেও এই মামলার আসামি হয়ে যেতে পারেন। এটা খুবই দু:খজনক।
চমক নিউজ : কোন কোন আইন সম্পর্কে মানুষের ধারনা থাকা উচিত ?
নাসিম ওমর সাথী : আইন একটি বিশাল জগৎ। একজন সাধারন মানুষের পক্ষে আইনের সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় জানা সম্ভব নয়। তবুও যদি একজন মানুষ ধর্ষন, নারী নির্যাতন, যৌতুক, শিশু নির্যাতন ইত্যাদি বিষয়ক আইনগুলো জানতো তাহলে সমাজ থেকে এসব অপরাধ অনেকাংশে কমে যাবে।
চমক নিউজ : নতুন যারা আইন পেশায় আসতে চাচ্ছে তাদের জন্য আপনার উপদেশ কী থাকবে ?
নাসিম ওমর সাথী : একজন আইনজীবি হিসেবে প্রথম কর্তব্য হবে তার কাছে আগত ব্যক্তিকে সহজভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা। একজন ব্যক্তি যখন আইনজীবির কাছে সুন্দর সহযোগিতা পান তবে তার আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বেড়ে যাবে।
চমক নিউজ : বর্তমান যে আইন ব্যবস্থা আছে তা কি মুসলিম আইনের সাথে সাংঘর্ষিক ?
নাসিম ওমর সাথী : না। আমি যতটুকু জানি তা হলো আমাদের দেশের আইনের শতকরা ৭০ থেকে ৮০ ভাগ আইন-ই হচ্ছে ইসলামিক আইন। ফলে এখানে সাংঘর্ষিক কিছুই থাকছে না। তাছাড়া আমি মনে করি বাংলাদেশের সংবিধান হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন। সুতরাং এখানে সংঘর্ষের কোনো জায়গা নেই।
চমক নিউজ : শোনা যায় ঢাকা কোর্টে প্রায় ২৮,০০০ আইনজীবি আইনপেশা চর্চা করেন বা অনুশীলন করেন? কথাটা সঠিক কিনা ?
নাসিম ওমর সাথী : আমার জানা মতে আমাদের বারের সনদধারী আইনজীবির সংখ্যা ২২,০০০। কোনো কোনো সিনিয়র আইনজীবির সাথে দুই তিনজন সহকারি নানাভাবে সাহায্য করার জন্যও থাকেন। কেননা প্রতিদিন আমাদের কোর্টে নানারকম মামলা আসে। সেই মামলাগুলোকে যদি আমরা যথাযথভাবে পরিচালনা করতে চাই তাহলে আমার মনে হয় ২২ বা ২৮ হাজার আইনজীবি কমই হয়ে যায়।
চমক নিউজ : এত আইনজীবি থাকার পরেও কিন্তু অপরাধের হার কমছে না। বরং অপরাধ দিনকে দিন বাড়ছে। এর কারণ কী ?
নাসিম ওমর সাথী : আসলে অপরাধ প্রবণতা, নৈতিক মূল্যবোধ এগুলোর জন্য ব্যক্তি, তার পরিবার এগুলোই দায়ি।
চমক নিউজ : আইন পেশায় যে কেউ আসলে কি উন্নত করতে পারবে ?
নাসিম ওমর সাথী : আমি মনে করি আইন পেশা একটি চমৎকার পেশা। এ পেশার মাধ্যমে সমাজকে, সমাজের মানুষকে তথা জাতিকে সেবা করা যায়। আর যে কেউ এ পেশায় এসে উন্নতি করতে চায় তাহলে তাকে অবশ্যই অধ্যবসায়ী হতে হবে। ভালো কাজের মাধ্যমে অন্যকে সেবা কররতে হবে। পরিশ্রমী হতে হবে। আর্থিক বিষয়টাকে দূরে রাখতে হবে। আর তাহলেই একজনের পক্ষে সম্ভব এ পেশায় সফল হওয়া।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন