আগুন থেকে সমাজকে সুরক্ষার জন্য যিনি ব্যতিক্রমধর্মী এক ব্যবসা বেছে নিয়েছেন তিনি হলেন ট্রাস্টেড কেয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিব হায়াত খান। তার সাথে সম্প্রতি তারই অফিসে চমক নিউজের শিল্প ও সম্ভাবনা বিভাগে কথা হয় অগ্নি নির্বাপন, আমাদের করণীয় এবং এ থেকে সুরক্ষা বিষয়ক নানা দিক নিয়ে। তার সাথে আলাপচারিতার চৌম্বক অংশ নিচে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
চমক নিউজ : অগ্নি ঝুঁকিতে বাংলাদেশ কোন অবস্থানে আছে বলে আপনি মনে করেন।
হাসিব হায়াত খান :বর্তমানে বাংলাদেশ যে রকম অগ্নি ঝুঁকিতে আছে সেরকম বিশ্বের আর কোনো দেশ আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। এর প্রমাণ স্বরূপ উল্লেখ করা যায় গত কয়েক বছরে আগুনে বাংলাদেশে যে পরিমাণ সম্পদ ও প্রাণ হানি হয়েছে তার দিকে দৃষ্টি দিলেই সেটা পরিস্কার হয়ে যাবে। কিন্তু এসব ক্ষয় ক্ষতি বা প্রাণনাশের ঘটনা একটু সচেতন হলেই রক্ষা করা যেত। কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিল্ডিং বা অবকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি সামান্য কিছু টাকা অগ্নি নির্বাপণ কাজে ব্যয় করলেই এ ঝুঁকিটা এড়ানো যেত।
চমক নিউজ : বাংলাদেশের বিল্ডিং তৈরি করার সময় ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ আইনটি যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। সঠিকভাবে প্রয়োগের জন্য করণীয় কী ?
হাসিব হায়াত খান : সরকার থেকে আরো একটু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। যদিও বর্তমান সরকার অগ্নি নির্বাপনের জন্য যথেষ্ট কাজ করে যাচ্ছেন। বিল্ডিং তৈরির অনুমতি প্রদান করার সময় কঠোরভাবে লক্ষ্য করতে হবে যে তাতে অগ্নি নিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে কিনা। অগ্নি ব্যবস্থা যথাযথ না করার জন্য সরকার বিভিন্ন স্থানে মোটা অংকের টাকা জরিমানা করছে। আমি মনে করি এই অভিযানটাকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
চমক নিউজ : আমাদের সমাজে অনেক ধরনের ব্যবসাই আছে। সেসব ব্যবসায়ে না গিয়ে অগ্নি নির্বাপনের এই ব্যবসার প্রতি আপনি আগ্রহী হলেন কেনো ?
হাসিব হায়াত খান : আমি এমন একটা ব্যবসায়ের কথা চিন্তা করেছিলাম যে ব্যবসায়ের মাধ্যমে আমি সমাজের মানুষের সেবা করতে পারবো। আর এ চিন্তা থেকেই আসলে অগ্নি নির্বাপনের এই ব্যবসাটাকে বেছে নিয়েছি।
চমক নিউজ : কত টাকার বিল্ডিং এ কত টাকার অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা করতে হয়। এর কোনো গাণিতিক হিসাব আছে কিনা।
হাসিব হায়াত খান : আসলে এ বিষয়টা নানা দিক বিবেচনা করে করতে হয় বলে ঠিক কত টাকার বিল্ডিং তৈরিতে কত টাকার অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা দরকার হবে তা বলা কঠিন। তবে গড়পড়তা হিসাবে বলা যায় প্রতি পাঁচশ স্কয়ার ফুট জায়গার জন্য একটা করে এস্টিংগুইশার এর প্রয়োজন পড়ে। তবে অনেক বেশি খরচ পড়ে না তা বলা যায়। অন্তত: একটা দুর্ঘটনায় যে পরিমাণ ক্ষয় ক্ষতি হয় তার তুলনায় তো নয়ই।
চমক নিউজ : অগ্নি নির্বাপনের কাজ করছে এমন আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে আপনার প্রতিষ্ঠানের ভিন্নতা বা শ্রেষ্ঠত্ব কী বলে আপনি মনে করেন ?
হাসিব হায়াত খান : আসলে ব্যবসায়ের এবং ব্যবসায়ীর বিভিন্ন রকম লক্ষ্য থাকে। কেউ কেবল মুনাফা অর্জনে মনোযোগী কেউবা সেবা করে করে তার বিনিময়ে যা ব্যবসা করা যাবে তাতেই সন্তষ্ট থাকেন। আমি মূলত আমার গ্রাহকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে তার কাছ থেকে বিনিময় গ্রহন করে থাকি। আর এ কারণে কারণে কাউকেই নি¤œমানের কোনো পণ্য দেই না। এ ব্যবসা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কোনো ধারনা নেই বলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করছে কিংবা গ্রাহককে ঠকাচ্ছে যা একেবারেই অনুচিত।
চমক নিউজ : পরিশেষে, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান ট্রাস্টেড কেয়ার এর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি ?
হাসিব হায়াত খান : আমি মনে করি নানাভাবে এ কাজটা করা যেতে পারে। যেমন লিফলেট বিতরন, অগ্নি নির্বাপণ মহড়া ইত্যাদি করে মানুষকে বিষয়টা সম্পর্কে সচেতন করা। সময় ও সুযোগ পেলে সামনেই আমি এ কাজটা করার ইচ্ছে আছে। সর্বশেষে এটাই বলবো আর যে কোনো অগ্নি দুর্ঘটনায় একটা প্রাণও না হারায় কিংবা কোনো রকম সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি না হয় তার জন্য প্রত্যেকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্মিতব্য বাড়ি যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা রেখে এবং ভালো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মাণ করি।
চমক নিউজ : আপনাকে ধন্যবাদ।
হাসিব হায়াত খান : চমক নিউজ পরিবারের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং দেশের সব মানুষকে আবারও বলবো যথাযথ অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতন হোন। ধন্যবাদ।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন