মানুষের অন্যতম চাওয়া দেশের সেবা করা। আর এই সেবা বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে করে থাকেন। তবে রাজনীতিবিদদের ধারনা রাজনীতির মাধ্যমে সেই সেবামূলক কাজটাতে অংশগ্রহন করা যায় সবচেয়ে বেশি । আর তাই কেউ কেউ রাজনীতির সাথে জড়িয়ে যান ওতোপ্রতোভাবে। চেষ্টা করে যান দেশের, মাটির ও মানুষের কল্যাণ করতে। আর দিনে দিনে এভাবে কাজ করে যাওয়ার মাধ্যমে কেউ কেউ হয়ে উঠেন তার সমাজের একজন শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার মানুষ- সবার আপনজন। আজ তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব হলেন দক্ষিণখান থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আনিসুর রহমান নাঈম। তাঁর সাথে চমক  নিউজ এর ও আমার দেশের মাটি বিভাগে নানান বিষয় নিয়ে আলাপ হয়। নিজস্ব প্রতিবেদক নূর ইসলাম খান মামুনের সাথে উক্ত আলাপচারিতার চৌম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
চমক নিউজ : বলা হয়ে থাকে রাজনীতি বলতে বোঝায় রাজার নীতি। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী ?
আনিসুর রহমান নাঈম : রাজনীতি এখন আর রাজার নীতি নেই। সর্বসাধারণের কল্যানে যে কর্ম করা হয় সেটাই রাজনৈতি। অনেকে যা বলে আমরা তা বলি না। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা যদি সবার মতো কথা বলি তাহলে তো আর রাজনীতি করতে পারবো না। আমি মনে করি উন্নত চরিত্রের অধিকারী, উন্নত নীতির অধিকারী যা সেটাই রাজনীতি।
চমক নিউজ : শুধু রাজনীতিকে অবলম্বন করে কি একজন মানুষের বেঁচে থাকা সম্ভব নাকি তাঁকে অন্য পেশার পাশাপাশি রাজনীতি করা উচিত হবে ?
আনিসুর রহমান নাঈম : রাজনীতি হলো একটি সামাজিক কর্মকান্ড। একটি দায়িত্ববোধ। যিনি রাজনীতি করবেন তারও উচিত অন্য কোনো একটা অবলম্বনের পাশাপাশি রাজনীতি করা। কারণ আমাদের প্রত্যেকেরই দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা আছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমি রাজনীতি করি।
চমক নিউজ : অনেকে পেশা হিসেবে রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার মত কী ?
আনিসুর রহমান নাঈম : এটা ঠিক না। রাজনীতি কখনো একজন মানুষের পেশা হতে পারে না। রাজনীতি হলো সমাজ বা দেশের জন্য অক্সিজেন স্বরূপ। যার সঠিক ব্যবহারেই টিকে থাকে একটি দেশ। অনেক দুষ্টু লোক নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য রাজনীতিকে ব্যবহার করে থাকে। বাতাসে যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড তেমনি রাজনীতির কার্বন ডাই অক্সাইড হলো দুষ্টু লোকেরা। এদের কারণেই রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেক প্রতিভাবান তরুণ। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এইসব আগাছা ও পরগাছা নিধনে কাজ করে যাচ্ছি।
চমক নিউজ : আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে যদি কিছু বলেন। আগামিতে এই সংগঠনটি আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহন করতে যাচ্ছে ?
আনিসুর রহমান নাঈম : প্রয়াত রাস্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের হাত ধরে এ সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একটি সহযোগী সংগঠন। আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সুশৃঙ্খল সংগঠন। শুধু আগষ্ট মাসে নয়। সারা বছর জুড়েই আমাদের সংগঠনের নানান কার্যক্রম থাকে। আমাদের সংগঠনের মূলনীতি হচ্ছে- সেবা, শান্তি ও প্রগতি। আমরা মূল দলের বিভিন্ন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকি। আমরা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেচ্ছাসেবক ইউনিট হিসেবে কাজ করি।
চমক নিউজ : তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় আপনার বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। এ নিয়ে আপনার অভিমত কী ?
আনিসুর রহমান নাঈম : আমি খ্যাতির জন্য কাজ করি না। জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে যদি আমার কোনো খ্যাতি অর্জিত হয় তার জন্য আমি জনগণের নিকট কৃতজ্ঞ। রাজনীতি মানেই হলো সুশৃঙ্খলা। আমি চাই যারা রাজনীতি করবে তারা সুশৃঙ্খলার সাথে তা করে যাবেন।
চমক নিউজ : কাওলার, আশকোনা ও গাওয়াইর মিলে ৪৯ নং ওয়ার্ড হয়েছে। এ নিয়ে আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি ?
আনিসুর রহমান নাঈম : আমার আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করতে চাই। এর বাইরে যদি বাড়তি কোনো দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয় সেটাকে আমি আমার সৌভাগ্য বলে মনে করবো। তবে আমি নিজে যেহেতু ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা তাই আমার ব্যক্তিগত কিছু দায়িত্ব থেকেই যায়। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে মশানিধন, এলাকা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, ইভটিজিং প্রতিরোধ করা, মাদকমুক্ত রাখা, যে কারো বিপদে এগিয়ে যাওয়া ইত্যাদি করে থাকি। উল্লেখ করার বিষয় হলো যে আমার এলাকা সম্পূর্নভাবে চাঁদাবাজমুক্ত। বাড়িঘর বা বিল্ডিং করেছেন এমন কেউ বলতে পারবেন না দশ টাকাও চাঁদা দিয়েছেন।
চমক নিউজ : মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আপনার প্রত্যাশা কী ?
আনিসুর রহমান নাঈম : সদ্য ঘোষিত আমার এই ওয়ার্ডে প্রতিটি তরুণ ও যুবকের কাছে আমার চাওয়া সুস্থ ধারার জীবন যাপনের জন্য এখনি মাদককে না করুন। আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেককে মাদকের কুফল সম্পর্কে বোঝাই। এমনকি আমার অফিসে নোটিশ আকারে টানানো আছে যে, কোনো মাদকাসক্ত প্রবেশ করতে পারবে না। এতেও যদি কিছু সচেতনতার সৃষ্টি হয়।
চমক নিউজ : রাজনীতি করার ফলে কী তরুণ সমাজের নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে ?
আনিসুর রহমান নাঈম : একদম না। বরং রাজনীতি থেকে সরে থাকলেই তরুণ যুবকদের নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা একজনের ভেতর সহজেই দেশপ্রেম, মানবতাবোধ, সচেতনতা ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

সবশেষে এই তরুণ তুর্কী উদীয়মান রাজনীতিবিদ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সকল সদস্যর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে তিনি বলেন বাংলাদেশে যেন আর কখনো স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আর মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সে জন্যে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করারও আহ্বান জানান।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন

Power by

Download Free AZ | Free Wordpress Themes