বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এ আর খান। তিনি শুরুতেই ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রয়াত সকল সদস্যর বিদেহী আত্মার প্রতি মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার নিজ এলাকা নান্দাইলের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও সাম্প্রতিক রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন চমক নিউজ এর হ্নদয়ে বাংলাদেশ বিভাগে। সে আলাপচারিতার চৌম্বক অংশ পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।
চমক নিউজ : আপনার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগ। অসংখ্য লীগের মাঝে এ সংগঠনটি ব্যতিক্রমধর্মী। এর কারণ কী ? আর এর গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিলো ?
এ আর খান : পর্যটন শিল্প হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা পর্যটন শিল্প নিয়ে পড়াশোনা করি। মূলত বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করতে এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে মুক্ত রাখতে আমরা যারা আওয়ামী পরিবারের সাথে জড়িত ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করি তারা মিলে এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা করি। আমরা একটা নির্দিষ্ট গন্ডিকে কাজ করার জন্য বেছে নিয়েছি। আমি মনে করি, যার যে বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আছে তার সেই বিষয় নিয়েই কাজ করা উচিত।
চমক নিউজ : বিদেশিরা আমাদের দেশের কোন জিনিসটাতে বেশি আকৃষ্ট হন বলে আপনি মনে করেন ?
এ আর খান : আমি যে বিষয়টা লক্ষ্য করেছি তা হলো বিদেশিরা বাংলাদেশের মানুষের অতিথিপরায়ণতা ও আন্তরিকতায় প্রচন্ডরকমভাবে মুগ্ধ হন। আমরা যদি এই গুণটাকে বেশি পরিমাণে কাজে লাগাতে পারি তাহলে আমাদের পক্ষেও সম্ভব হবে পর্যটন শিল্পকে অনেক উঁচু অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। কারণ পৃথিবীতে অনেক দেশ আছে যারা কেবল পর্যটন শিল্পের মাধ্যমেই অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।
চমক নিউজ : ২০১৬ সাল ছিলো বাংলাদেশ পর্যটন বর্ষ। এ আয়োজন কতোটুকু সফল হয়েছিলো ?
এ আর খান : এ আয়োজন থেকে আমরা তেমন কিছু অর্জন করতে পারিনি। এর কারণ হলো অজ্ঞতা। সত্যি কথা বলতে যে লোকটাকে যে দায়িত্বটা দেওয়ার প্রয়োজন ছিলো তাকে তা দেওয়া হয়নি বলেই এমনটা ঘটেছে। তবে আশা করি আগামিতে এ ধরনের আয়োজন করা হলে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকদের মাধ্যমে সমস্ত কিছু করে ভুল শোধরানোর চেষ্টা করা হবে।
চমক নিউজ : সাধারনত কারা আমাদের দেশে পর্যটক হতে পারে বলে আপনি মনে করেন ?
এ আর খান : শুধু যে ইউরোপ আমেরিকার দেশ থেকেই আমাদের দেশে পর্যটক আসবেন তা নয়। আমি মনে করি আমাদের যে এক কোটি বাঙালি প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছেন তারা বছরে দেশে আসলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বেড়াতে যাবেন। এবং বিদেশিদের কাছে সেই গল্প গর্বের সাথে তুরে ধরবেন। আর এতে করেই আমাদের দেশের পর্যটন শিল্পকে আরো বিকশিত করা যাবে।
চমক নিউজ :বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প বিকাশের পেছনে কার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলে আপনি মনে করেন ?
এ আর খান : অবশ্যই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪ সালে তিনিই প্রথম বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন গড়ে তোলেন। তিনি যেমন করে বিষয়টা অনুধাবন করতে পেরেছিলেন ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ যদি ব্যাপারটা বুঝতে পারে তাহলে অচিরেই বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ একটি পর্যটন শিল্পের দেশ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে পারবে।
চমক নিউজ : আপনার এলাকা নান্দাইলের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আপনার ব্যক্তি অভিমত কী ?
এ আর খান : নান্দাইলের জনপ্রতিনিধি হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের অনেকেরই শিক্ষার মান পূর্নাঙ্গ নয়। যার ফলে দেশের মানুষকে সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারছেন না। তারা সচিবালয়ে কোনো কাজের জন্য গেলে সেখানে কাজ বের করার জন্যও যথাযথ ভূমিকা পালনে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলাফলে এলাকার সাধারণ মানুষ নানাভাবে বঞ্চিত হন। আর এরই ফলশ্রুতিতে প্রতিনিয়ত পিছিয়ে পড়ছে আমাদের নান্দাইলের মানুষ।
চমক নিউজ : যদি নান্দাইলের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনাকে মনোনীত করা হয় তাহলে আপনি এলাকার উন্নয়নে কী করবেন ?
এ আর খান : আমি মনে করি নান্দাইলকে একটা চমৎকার পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আর তাই প্রথম কাজ হিসেবে আমি আমার এলাকার সমস্ত হাওড় ও নান্দাইলের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাঁচটি নদীকে আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলবো। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাবো, রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কাজ করবো, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি করবো এবং প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহিতার ব্যবস্থা চালু করবো। যাতে করে প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যেতে পারেন।
চমক নিউজ : আপনার এলাকায় আপনার জনপ্রিয়তা কেমন ? আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এলাকার জনগণের চিন্তা ভাবনা কী ?
এ আর খান : এলাকার জনগণ পরিবর্তন চায়। সৎ ও শিক্ষিত লোকের সন্মান করতে জানে নান্দাইলবাসী। অতীতেও বহু গুনী ও কৃতি সন্তান নান্দাইল থেকে উঠে এসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় নান্দাইলের মানুষকে সেবা করার জন্য আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদি জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী আমার আস্থা রাখেন তবে আমি নান্দাইলকে একটি রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে তার ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবো।
পরিশেষে নান্দাইলবাসীর গর্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ আওয়ামী পর্যটন লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. এ আর খান দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন