রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আবাসিক হলে মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে শিবিরের ১২ নেতা-কর্মীকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রলীগ। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলো- শিবিরের রাবি শাখার সাহিত্য সম্পাদক নাবিউল ইসলাম (আরবি, মাস্টার্স), শিবিরের সাথী সাহারুল আলম হিমেল (পরিসংখ্যান, চতুর্থ বর্ষ), ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সভাপতি সাহেব রানা (আইসিই, তৃতীয় বর্ষ), জোহা হলের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন (ইসলামের ইতিহাস, তৃতীয় বর্ষ), শিবির কর্মী আশিকুল হাসান নাফিস (নৃবিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ), আরিফুল ইসলাম (ফার্সি, মাস্টার্স), রাকিব আহমেদ (আইন, দ্বিতীয় বর্ষ), মাহমুদুল হাসান (উদ্ভিদবিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ), শরীফুল ইসলাম  (পরিসংখ্যান, চতুর্থ বর্ষ), আব্দুর রাকিব (ইসলামিক স্টাডিজ, তৃতীয় বর্ষ), অলিউল (আরবি, মাস্টার্স) এবং গোলাম রাব্বানি (আরবি, দ্বিতীয়)।

হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল থেকে শিবিরের রাবি শাখার সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক নাবিউল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সভাপতি সাহেব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে হলের ১৫০, ১৫৫, ২৫৪, ২৭৬ ও ৩৫৮ নম্বর কক্ষ থেকে শিবির নেতা জাকির হোসেন, সাহারুল আলম, শিবির কর্মী আশিকুল হাসান, আরিফুল ইসলাম, রাকিব আহমেদ, মাহমুদুল হাসান, শরীফুল ইসলাম, আব্দুর রাকিব, অলিউল ও গোলাম রাব্বানিকে ধরে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে আসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় আটককৃত কক্ষ থেকে দুটি কম্পিউটার, শিবিরের রিপোর্ট ও জিহাদী বইসহ বিপুল পরিমান সাংগঠনিক কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। কম্পিউটারে শিবিরের গোপন পরিকল্পনার তথ্য আছে বলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। তবে ছাত্রলীগের এই অভিযান চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কোন সদস্য কিংবা হল প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাই উপস্থিত ছিলেন না। পরে শিবির নেতা-কর্মীদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এদিকে শিবির নেতাকর্মীদের পুলিশে দেয়ার পর রাত ৪টার দিকে হলে এবং ক্যাম্পাসে শিবিরবিরোধী মিছিল করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১২টার দিকে রাবি ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ১৪৮ নম্বর কক্ষ থেকে শিবির নেতা নাবিউল এবং ১৪৩ নম্বর কক্ষ থেকে সাহেব রানাকে আটক করি। পরে হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০ জনকে আটক করি। ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি এবং নশকতার উদ্দেশ্যে তারা হলে অবস্থান করছিল। তাদের সবাইকে পুলিশে সোপর্দ করেছি।

মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) মাহবুব আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কক্ষ থেকে কম্পিউটার, আটককৃতদের মুঠোফোন, রিপোর্ট বই এবং জিহাদী বইসহ সাংগঠনিক কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনকে থানায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/মা

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন