চেয়ারম্যানের ভয়ে মামলা করতে না পারার সংবাদ সম্মেলন

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ালতলা গ্রামের ২ সন্তানের জননীকে হত্যা করে বিষপানে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে নেয়ার ও চেয়ারম্যানের প্রভাবে ভাংগা থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে গত ৭ অক্টোবর সোমবার সকাল ১০টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে ভুক্তভোীর পরিবার।
সম্মেলনে সাংবাদিকদের অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেন অভিযোগের বাদী নাসিমা মীর । অভিযোগে প্রকাশ, আমার ৩ ছেলে মেয়ে। এর মধ্যে মেঝো মেয়ে নাম মোসামৎ অন্তরা বেগম। ৭ বছর আগে ওর বিয়ে দিয়েছি ফরিদপুর জেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ালতলা গ্রামের আমাদের বাড়ির কয়েকটা বাড়ির পড়ে। ওর স্বামীর নাম নাজমুল তালুকদার, পিতা- হাসান তালুকদার। আমার মেয়ের সংসারে ২ সন্তান। ওরা নাবালক। বেশ কয়েকবছর ধরেই মেয়ের জামাই এবং বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের সাথে বনিবনা হচ্ছিলো না। মাঝে মাঝেই ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকতো।এমন কি জামাই মেয়ের দেবর ননদ শাশুরী সবাই মিলে ওকে মারধর করতো।আমাদের বাড়িতে আসতে দিতো না। এ বিষয়ে নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশরাফ মীর শালিস করে দিয়েছে। জামাই চেয়ারম্যানকে কয়েকবারই কথা দিয়েছে মেয়েকে আর মারধর করবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে তেমন ঝোড়াজুড়ি করিনাই কারন মেয়ের সংসারে ছোট ২ সন্তান রয়েছে যদি এ বিষয়ে আমরা কোন পদক্ষেপ নিতে যাই ফলে সংসারটা ভেঙ্গে যায় । তাই নিরবে সব সহ্য করতাম। জামাই মাঝে মাঝে ব্যবসা করার জন্য টাকা চাইতো আমরা দুবার তাকে টাকা দিয়েছি । জানতে পারলাম জামাই ব্যবসা করার জন্য টাকা নিয়ে বাজে সঙ্গীদের সাথে জুয়া খেলতো। পরিশেষে বায়না ধরলো বিদেশ যাবে। টাকা দিতে হবে।এ নিয়েই মেয়ের সাথে ঝগড়া শুরু হয় ছেলের ও তার পরিবারের। আমরাও বুঝতে পারলাম যে টাকা দিতে হবে কমবেশী। কিন্তু টাকা দিতে হলে তো সময় লাগবে জমি বিক্রি করবো তারপর টাকা দিতে পারবো।
গত মার্চ মাসের ১১ তারিখ শনিবার সকাল নয়টায় আমরা মোবাইলে খবর পাই যে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। বর্তমানে লাশ আছে ফরিদপুর লাশকাটা ঘড়ে। আমরা এ খবর পেয়ে পরিবারের সবাই হতভম্ব হয়ে পড়ি। ছুটে আমি লাশকাটা ঘড়ে। সেখানে একজন পুলিশ লাশ পাহাড়া দিচ্ছে। জামাইয়ের পরিবারের কেউ নেই । লাশের কাছে থাকা পুলিশই জানালো লাশটি তারা থানা থেকে এখানে এনেছে।
এমন পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে মেনে নিবো মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। যদি তাই করে থাকে তকে আমার মেয়ের লাশতো আমরা তার শশুর বাড়ি থেকেই দেখতে পাবো। এভাবে গোপনে এখানে আনবে কেনো। আর এখানে জামাই ও তার পরিবারের কেউ নেই কেনো।
আমরা মেয়ের দাফন করে গ্রামের মুরুব্বীদের সাথে পরামর্শ করে ভাংগা থানায় যাই একটি হত্যা মামলার অভিযোগ নিয়ে সেখানে আমাদের অভিযোগটি আমলে না নিয়ে নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম তারেকের সাথে পরামর্ম করতে বললো। আমরা নুরুল্লগঞ্জ চেয়ারম্যান কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যানকে বললাম থানায় অভিযোগ নেওয়ার বিষয়ে। তিনি জানালেন, মামলা মোকাদ্দমা করে কি লাভ হভে যে যাওয়ার সে তো আর ফিরে আসবে না। এর চেয়ে শালিসী করে বিষটি মিটিয়ে দেই। আমাদের আর বুঝতে বাকি রইলো না যে চেয়ারম্যান একটি পক্ষ নিয়েছে। এটা নিরপেক্ষ কথা নয়। অনেক চেষ্টা করেছি মেয়ের বিষয়ে মামলা করতে কিন্তু কেউ সহযোগীতা করলো না। সবাই হত্যাকারীর পক্ষেই কথা বলে। আমরা নিজেরা আদালতে গিয়ে কিছু করবো সে বিষয়ে চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম তারেক ও তার লোকজন ভয়ভীতি দেখায়। কিন্তু এতদিন হয়ে গেলো কোন কুলকিনারা না পেয়ে আপনাদের দারস্থ হয়েছি। আমি বিশ্বাস করি আপনাদের শক্ত কলমীই পারে এই নির্মম হত্যার বিচারের কাঠগোড়ায় দাড় করাতে হত্যাকারীদের। আমি দাবী করি আমার মেয়েটাকে যৌতুকের জন্য ১।মোঃ নাজমুল তালুকদার, পিতা- হাসান তালুকদার,২। নাসিমা বেগম,স্বামী হাসান তালুকদার, ৩।রিনা বেগম, স্বামী-খালেক শিকদার , ৪। সেলিমা বেগম, স্বামী জাফর তালুকদার সর্ব সাং কুড়ালতলা ,৫।আবেদআলী খুনকার, পিতা রজব আলী খুনকার , সাং ফুকুরহাটি সকলে মিলে হত্যা করে বিষপানে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে। সঠিক তদন্ত করলে সত্যতা বেড়িয়ে আসবে।
নাসিমা মীর ও তার পরিবার সাংবাদিকদের আরো জানান , আমরা এই বিষয়ে যেনো বাড়াবাড়ি না করি কোর্টে কোন মামলা না করি তাহলে ফল ভালো হবেনা বলে হুমকী দিচ্ছে হত্যাকারীরা এবং নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম তারেক ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। একদিতে সন্তান হারা বেদনা নিয়ে ন্যায় বিচার না পেয়ে আমরা কষ্টে আছি অন্য দিকে সন্ত্রাসীদের হমকীতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
জানা যায়, হত্যার ঘটনা নিয়ে ব্লাষ্ট সংগঠন সার্বিক আইনী সহযোগীতা করছে ।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন