সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বীরেন্দ্র নগর সীমান্তের রন্দুছড়া এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথর পাচাঁর করার সময় চুনাপাথর বুঝাই ১২টি স্টিলবড়ি ইঞ্জিনের নৌকা আটকের ৪দিন পর কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই আজ ০৬.০৮.১৭ইং রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ছেড়ে দিয়েছে বিজিবি। এঘটনার পর বিকাল ৪টায় পাচাঁরকৃত চোরাই নৌকার চুনাপাথরের ভাগভাটোয়ারা নিয়ে চোরাচালানী ও বিজিবি সোর্সদের মধ্যে সংঘর্ষ ও দোকানপাট ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী জানায়,সরকারের লক্ষলক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে গত ০২.০৮.১৭ইং বুধবার সকাল সাড়ে ৫টায় বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় অবস্থিত ১১৯৪এর ৩এস পিলার সংলগ্ন রন্দুছড়া এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে চুনাপাথর পাচাঁর করে রন্দুছড়া পাহাড়ী নদীতে ১৫টি স্টিলবড়ি ইঞ্জিনের নৌকায় চুনাপাথর বুঝাই করছিল উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাকাটা গ্রামের চোরাচালানী আলকাছ মিয়া,মইন্দাআতা গ্রামের আলাল মিয়া,কাসেম মিয়া,জঙ্গলবাড়ি গ্রামের হাসিম মিয়া,তার ছেলে শহিদ মিয়াসহ তাদের সহযোগী আরো ২০-৩০জন। এই খবর পেয়ে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১৫টি নৌকা আটক করে উৎকোচের বিনিময়ে ৩টি নৌকা ঘটনাস্থলেই ছেড়ে দেয়। আর বাকি ১২টি নৌকা বিকাল ৪টায় বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন রংগাছড়া নদীতে নিয়ে আটক রাখে। আটককৃত নৌকার মধ্যে ৫টি নৌকায় প্রায় ৫০টন চোরাই চুনাপাথর বোঝাই করা ছিল এবং ৭টি নৌকা ছিল খালি। এঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে ৫০টন চুনাপাথরের মধ্যে ২০টন চুনাপাথর জব্দ দেখিয়ে বাকি ৩০টন চুনাপাথর পাচাঁরকৃত চোরাচালানীদের কাছেই বিক্রি করে দেন কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার বারেক। এরপর আটককৃত নৌকাগুলো ছাড়িয়ে নেওয়াসহ মামলা না হওয়ার জন্য সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি কমান্ডার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয় চোরাচালানীদের দৌড় ঝাপ। এবং চোরাচালানী কাসেম মিয়া,আলকাছ মিয়া,শহিদ মিয়া,আলাল মিয়া ও সফর আলীর কাছে থেকে ২০হাজার করে মোট ১লক্ষ টাকা উৎকোচ নেওয়া হয় বীরেন্দ্র নগর কোম্পানী কমান্ডার বারেককে আটককৃত নৌকাগুলো ছেড়ে দেওয়াসহ মামলা না হওয়ার জন্য। অবশেষে আজ ০৬.০৮.১৭ইং বরিবার বিকালে চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার আইনগত ব্যবস্থা না নিয়েই ১২টি নৌকা ছেড়ে দেওয়া হয়। এঘটনার ঘন্টাখানেক পর বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের লাইনম্যান/সোর্স জামাল মিয়ার জঙ্গলবাড়িতে অবস্থিত দোকানঘরের ভিতরে চোরাচালানীদের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এব্যাপারে সোর্স জামাল মিয়া বলেন,হাসিম মিয়া,সালাম মিয়া,রমজান মিয়া ও তাদের লোকজনের চুনাপাথর চোরাচালানের কথা ফাঁস করে দেওয়ায় তারা আমার দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে মালামাল ও নগদ টাকা-পয়সা লুটপাট করেছে। অপরদিকে ঐ ক্যাম্পের আরেক সোর্স ছাবেদ আলী বলেন,পাচাঁরকৃত চুনাপাথরের নৌকার হিসাব ও ভাগভাটোয়ারা নিয়ে হাতাহাতি ও ধরাধরি হয়েছে।
এব্যাপারে জানতে বীরেন্দ্র নগর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার বারেক এর সরকারী মোবাইল নাম্বারে বারবার কল করার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক নাসির উদ্দিন বলেন,এলাকার লোকজনের অনুরোধ ও নৌকাগুলোর মালিক গরীব মানুষ ও আমাদের সোর্সদের তাই নৌকাগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চোরাচালানীদের হাতে নাতে পাওয়ার পরও মামলা না দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি নিরব ভূমিকা পালন করেন। চোরাচালানীদের প্রতি বিজিবির আন্তরিক সহযোগীতা ও সহানুবুতিতে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্ঠি করেছে।

স/এষ্

print

Facebook Comments

এই নিউজ পোর্টালের কোনো লেখা কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি

আরও পড়ুন