মিরপুরে ওএমএসের চাল আত্মসাতের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি উধাও

কুষ্টিয়ার মিরপুরে ওএমএসের চাল আত্মসাতের ঘটনায় গঠিত
তদন্ত কমিটি উধাও

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বিজনগর ৬নং নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মীর জাকিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওএমএসের বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। চার বছর ধরে উঠে চাল,জানে না কার্ডধারী ব্যক্তি।

বিষয়টি জানতে পেরে বঞ্চিত জয়নাল আবেদীন প্রতিকারের আশায় জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক এঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেন মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

www.linkhaat.com

মিরপুর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার রকিবুল হাসানকে আহবায়ক করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র সরকার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দারকে সদস্য করা হয়। তদন্ত কমিটির ৬মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি তদন্ত। তদন্ত কমিটি এ যেন উধাও।

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদীন বলেন,আমার নামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ওএমএসের বরাদ্দকৃত চালের কার্ড আছে এটা আমার জানা ছিল না। উপকারভোগীদের কার্ড যাচাই-বাছাই করতে গেলে অনিয়মের বিষয়টি টের পায় আমি।

তারপর থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ডেকে পাঠালে একটি কার্ডে চেয়ারম্যান ও মেম্বর টিপসই দিতে বলে। আমি এসএসসি পাস। কেন টিপসই দিব? এমন বলতেই স্বাক্ষর দিতে বলেন তারা। স্বাক্ষর দিতেই দেখি কার্ডের সঙ্গে ছবি আমার। তখন স্বাক্ষর দিতে রাজি না হলে জোর করে টিপসই নেন তারা। পরে চেয়ারম্যানকে ৪বছর ধরে চাল তুলে নেওয়ার কথা জানালে আমার উপরই চড়াও হন তিনি।

এমন প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তির আশায় ওই সময় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেনের কাছে অভিযোগ করেছিলাম। জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এঘটনার তদন্ত শুরু হয়নি।

কবে শেষ হবে তদন্ত তাও অজানা। অনেকটাই নিষ্ক্রিয় এ কমিটি। মনে হচ্ছে চেয়ারম্যান ও মেম্বার তদন্ত কমিটিকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তদন্ত কমিটি এ যেন উধাও হয়ে গেছে। চেয়ারম্যান ও মেম্বারের সঙ্গে অফিসারের ভালো সম্পর্ক শুনেছি। তাই এটা হতেই পারে বলে ধারণা ভুক্তভোগীর। তা না হলে এত দিনে এঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতো এ কমিটি। তবে যেহুতু প্রতিবেদন জমা দেয়নি এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক এমনটাই মনে করেন তিনি।

এঘটনায় গঠিত হওয়া তদন্ত কমিটি সদস্য ও মিরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জুলফিকার হায়দার বলেন,এবিষয়ে আমার কাছে কোনো চিঠি আসেনি। তবে আমি শুনেছি তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে আমার নাম রয়েছে।

মিরপুর উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার ও এঘটনায় গঠিত হওয়া তদন্ত কমিটির আহবায়ক রকিবুল হাসানের সঙ্গে মুঠোই ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

এ ব্যাপারে তিন মাস আগের বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস বলেন,এঘটনায় উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনারকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে এ তদন্ত কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। অবশ্যই এঘটনায় তদন্ত হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়টির তদন্তের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে বর্তমানে মুঠোই ফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো.সাইদুল ইসলাম বলেন,বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে এমন ঘটনা ঘটলে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997