নাগেশ্বরীতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৮ গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষ

সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৮ গ্রামের ৩৫ হাজার মানুষের নাগেশ্বরীতে অচলাবস্থা ডুবুরির ব্রিজ

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অচলাবস্থা ভিতরবন্দ ইউনিয়নের কছিয়ার বিলের উপর নির্মিত ডুবুরির ব্রিজ। স্লাবের দুইদিকে এমনকী মাঝখানেও ভাঙ্গা। দেবে গেছে অনেকাংশ। দু’দিকে কাঠ ও বাঁশের চাটাই বিছানো।

সেগুলেও ভেঙ্গে গেছে। এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে এটি । এ যেনো এক আতঙ্কের নাম। ভয়ঙ্কর এই সেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ভিতরবন্দ ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নের, নন্দনপুর, বামানেরভিটা, কছিয়ারপাড়, গোরডারাপার, মন্নেয়ারপার, টারিয়াপাড়াসহ ৮ গ্রামের প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ। দ্রুত সংস্কার না করলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আসঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

www.linkhaat.com

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের নন্দনপুর এলাকার কছিয়ার বিলের উপর নির্মিত ডুবুরির ব্রিজটি একেবারেই নাজেহাল। এরপরও প্রতিদিন, শিশু, কিশোর শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষের যাতায়াত এই ব্রিজের উপর দিয়ে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজের তাগিদেই বাধ্য হয়ে এ পথে যাতয়াত করতে হয় তাদের।

রিকশা, ঠেলাগাড়ি, এমনকী মোটরবাইক ও বাই-সাইকেল যাতায়াতেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্কুল কলেজ এবং টিউশনে যেতেও পারে না শিক্ষার্থীরা। হাট-বাজারে কৃষিপন্য আনা নেয়াসহ সকল প্রকার কাজে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন স্থানীয় সমাজসেবক এবং অব. শিক্ষক গোলাপ উদ্দিন মিয়া। স্থানীয় চেয়ারম্যান, এমপি এমনকী অনেক দপ্তরে ঘুরেও ব্রিজটি সংস্কারের সমাধান করতে পারেননি বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, বিষয়টি উর্ধ্বেতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বহু লোকের কাছে দেন দরবার এমনকী সভা সেমিনার ও মানববন্ধনও করেছেন তিনি।

কিন্তু কেউ বিষয়টি আমলে নেননি। মানুষের কষ্ট লাঘবে অবিলম্বে এই ব্রিজ নির্মানের দাবি করেন তিনি। এ নিয়ে আক্ষেপও কম নয় স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ নির্বাচনের সময় এলে শুধু ভোট চাইতে আসেন বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীরা। দিয়ে যান ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু ভোট পেরুলেই আর কখনোই দেখা মেলে না তাদের।

সরেজমিনে থাকতেই ডাক্তারে কাছে যাচ্ছিলেন রাধা রানী নামের এক মহিলা। তিনি জানান জরুরি কোনো প্রয়োজন বা কেউ অসুস্থ হলে এ রাস্তা দিয়ে ওই রোগীকে নিয়ে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে যাওয়া যায় না। গুরুতর অবস্থায় রোগীকে নিয়ে যেতে যেতেই রোগীই মারা যায়।

এর আগে তার স্বামী এ পথে মোটরবাইক নিয়ে পারাপারের সময় চরম দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলেও জানান ওই মহিলা। পথচারী আইসক্রিম বিক্রেতা জহুরুল হক জানান, প্রতিনিয়ত এই পথে আইসক্রিমের বাক্স বাই-সাইকেলের পিছনে বেঁধে গ্রামে গ্রামে আইসক্রিম বিক্রি করতে বের হন তিনি।

কিন্তু রাতের অন্ধকারে বাড়ি ফেরা দায় হয়ে পরে তার। স্থানীয় কৃষক, সুবল চন্দ্র সরকার, রাধাপদ সরকার, শাহজাহান আলীসহ আরও অনেকে জানায় এই ব্রিজটি না থাকায় এ পথে কৃষিপন্য নিয়ে চরম বিপাকে পরেন তারা। সঠিক মূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায় ব্রিজের উপর দিয়ে চলাফেরা করতে ভয় হয় তাদের। তাই এই পথে আর স্কুল বা মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (অ.দা.) আসিফ ইকবাল রাজিব বলেন, আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়ে এখানে নতুন যোগদান করেছি। তাই আমি ওই ব্রিজ সম্পর্কে জানি না এবং ওই ব্রিজটি করার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না সে ব্যাপারেও আমার জানা নেই।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997