রাজধানীর হরিরামপুরে ভূমি ডাকাতদের তান্ডব

রাজধানীর হরিরামপুরে ভূমি ডাকাতদের তান্ডব
কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক
রূপবান-আশাতন এখন মৃত্যুর পথযাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার হরিরামপুর এলাকায় এখন ভূমি ডাকাতদের তান্ডবলীলা চলছে। গত কয়েক বছরে উত্তরা, তুরাগ থানার সর্বত্র হঠাৎ জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় ভূমি ডাকাতরা ভয়াবহ তৎপর। এলাকাটি উত্তরা আবাসিক এলাকার পশ্চিমাংশ ঘেঁষে রয়েছে।

সম্প্রতি উত্তরার পশ্চিমাংশ পরিদর্শনকালে ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে বহু লোক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এদের মধ্যে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা রূপবান বিবি ও তার বোন বৃদ্ধা আশাতন (আয়তন) উল্লেখযোগ্য।

www.linkhaat.com

নলভোগ মৌজার জেএল নং-২০৮, সিএস খতিয়ান-১২৩, এসএ খতিয়ান-২৪৯ এবং এসএ দাগ ৪৪৭, ৪৫২, ৪৫৩, ৪৫৪, ৪৫৫, ৪৬১ এর মধ্যে অবস্থিত জমির পরিমান ৭৭.৬২ শতাংশ। এর মালিক রূপবান বিবি। তার স্বামীর নাম মৃত আব্দুর রহিম। রূপবান বিবি মাতৃসূত্রে উত্ত সম্পত্তির মালিক হন। একই সাথে তার একমাত্র বোন আশাতন নেছা (৭৪) উল্লেখিত তফসীলে ৭৭.৬২ শতাংশ এর মালিক।

আশাতন অভিযোগ করেন, তার ৭৭.৬২ শতাংশ এরকাতে ৪১.০০ শতাংশ জমি দেখাশোনা এবং সার্বিক তত্ত্বাবধান করতে বলে তার মামাত ভাই শফিকুল ইসলাম জালিয়াত করে পাওয়ার রেজিষ্ট্রি করে নেয়। আশাতন এর লোকবল না থাকায় এবং তিনি অসুস্থ্য থাকায় তার মামাত ভাই শফিকুল ইসলাম তাকে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে স্ম্পুুর্ণ পাওয়ার রেজিষ্ট্রি করে নেয়।

এর পরই শুরু হয় নির্মম খেলা। অসহায় আশাতনকে না জিজ্ঞাসা করে তার মামাত ভাই প্রতারক ও ভূমিদস্যু শফিকুল ইসলাম জমিগুলো অতি কৌশলে আতণ্টসাৎ করার উদ্দেশ্যে তার পরিবারের সদস্যদের নামে রেজিষ্ট্রি করে নেয়। এদিকে অসহায় আশাতন সম্পদ হারিয়ে শোকে দুঃখে অপমানে এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। ভূমি দস্যু প্রতারক শফিকুল ইসলাম সে সম্পত্তি অন্যায়ভাবে বিশ্বাস ভঙ্গ করে লুট করে নিয়েছে।

আশাতন সুষ্ঠু বিচার ও তার সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ-এ এক আবেদন পেশ করেন। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসন সহ সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।

আশাতন এর বড়বোন রূপবান জানান, তাকে অন্য একটি জমি দানপত্র করে দিবে বলে মিরপুর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়ে ভূমিদস্যু শফিকুল ইসলাম ও জজ মিয়ার পিতা ভূমি জালিয়াত সুরুজ মিয়া এবং ভূমিদস্যু সিকান্দার মিয়া ও হারেস মিয়ার পিতা ভূমি জালিয়াত কুদ্দুস মিয়া কুদু অতি কৌশলে রূপবানের উল্লেখিত দাগ সমূহের ৫২ শতাংশ জমি লিখে নেয়। এ জমিগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে দলিল করল সুরুজ মিয়া ও কুদ্দুস মিয়া তাদের সন্তান শফিকুল ইসলাম, জজ মিয়া, হারেস মিয়া ও সিকান্দার মিয়ার নামে।

এদিকে কুদ্দুস ও সুরুজ মিয়া মরে গিয়েও এ জালিয়াতির দায়-দায়িত্ব এড়াতে পারছেনা। রূপবানও তাদের ক্ষমা করছে না। তিনি এ বিচার স্থানীয় মাতাব্বর, মেম্বার/চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এর কাছে না পেয়ে অবশেষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর দারস্থ হয়েছেন।

এদিকে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে, ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা ডিভিশনের এডিসি মোঃ কামরুজ্জামান সরদার তদন্ত শুরু করেছেন। ডিসি পুলিশ অফিসের আসামিরা সবাই গেলেও ভূমিদস্যু শফিকুল ইসলাম পলাতক থাকে। আরো কয়েকটি সংস্থা এ জালিয়াত ও প্রতারণার বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

এলাকা পরিদর্শনকালে জানা যায়, একই এলাকার কামারপাড়া মৌজার জমিদার বাহাদুর খানের ২১ একর জায়গা দুধর্ষ ভূমি জালিয়াতরা দখল করে রেখেছে। সবচেয়ে বিষ্ময়কর যে, এ ২১ একরের বিশাল অংশ দখল করে মহান নেতার নামে একটি মেডিকেল কলেজ এর নিজস্ব সম্পত্তি বলে সাইন বোর্ড ঝুলিয়েও দুর্বৃত্তরা সেখানে রিক্সার গ্যারেজ এর জন্য ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে।

উক্ত দুষ্টু লোকেরা কোন দিন স্বপ্নেও ভাবেনি যে, কোন একদিন জালিয়াতির এ লোমহর্ষক ঘটনা ফাস হয়ে যাবে। দুনিয়াতেই তাদের বিচার হবে। পরকালে তো রয়েছেই।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997