সান্তাহারে ধানের গুঁড়া ভাঙ্গানো মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দুষণের অভিযোগ!

সান্তাহারে ধানের গুঁড়া ভাঙ্গানো মিলের বিরুদ্ধে পরিবেশ দুষণের অভিযোগ!

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের পথচারীদের বিভিন্ন ক্ষতিসহ পরিবেশ দুষণের অভিযোগ উঠেছে ধানের গুড়া ভাঙ্গানো একটি মিলের বিরুদ্ধে। সান্তাহার পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ডে নেসকো অফিস সংলগ্ন গুঁড়া ভাঙ্গানো মিলটি অবস্থিত।

ওই মিলের স্বত্বাধিকারীরা সাইফুল ইসলাম। তিনি একই এলাকার সেকেন্দার সরদারের ছেলে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে নুরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী গত পহেলা জুন ২০২০ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু ৭মাস পেরিয়ে গেলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নরুল ইসলাম।

www.linkhaat.com

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নুরুল ইসলামের বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে ২নং ওয়ার্ডে নেসকো অফিস সংলগ্ন সাইফুল ইসলাম একটি ধানের গুঁড়া ভাঙ্গানো মিল স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। ভাঙ্গানো গুঁড়া ঐ মিলের ভিতর থেকে বাহিরে এসে বাতাসের সাথে মিশে এলাকায় মারাত্মক ভাবে পথচারীদের বিভিন্ন ক্ষতিসহ পরিবেশ দুষণের কবলে ফেলেছে। এর ফলে এলাকার নারী পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধা সকল বয়সের মানুষের শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ অসুস্থ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া ইতিপূর্বে ঐ মিলের ভাঙ্গানো গুঁড়া পথচারীদের চোখে পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদমদীঘি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর নুরুল ইসলাম অভিযোগ করলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় গত ১৪ ফেব্ররুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে সান্তাহার পৌরসভার মেয়র বরাবর অভিযোগ করেছেন ওই ভুক্তভোগী।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌর মেয়র ওই মিল মালিককে নোটিশ প্রদান করেছেন। সরজমিনে জানা যায়, ধানের গুঁড়া ভাঙ্গানো মিলটি ছাতিয়ানগ্রাম- তিলোকপুরের রাস্তায় অবস্থিত। প্রতিনিয়ত ওই রাস্তা দিয়ে শত শত লোক যাতাযাত করে। মিলটি রাস্তার ধারে অবস্থিত হলেও মিলে নেই কোন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এতে দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে ওই মিলটির পাশ দিয়ে যাতায়াত করা পথচারীদের।

ফলে অসুস্থসহ চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে যে কোন পথচারীর। এমন দূর্ভোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য কোন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ করলেও হয়তো অভিযোগ পত্র খুলেও দেখেন না এমনটাই বলছেন সচেতন মহল। জনসাধারণের ভোগান্তিতে যেনো কারও মাথা ব্যথা নেই। প্রশাসন যেনো নিরব ভুমিকা পালন করছেন। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রশাসন সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই আশা করেন ভুক্তভোগীসহ সচেতন নাগরিক।

সেলিম রেজা নামের এক পথচারী বলেন, ওই রাস্তা দিয়ে গেলে হাঁচি ফেলতে ফেলতে জীবন বেরিয়ে যায়। খুব সমস্যায় পড়তে হয় সকলের সুবিধার্থে দ্রুত সম্ভব প্রশাসনের একটা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যাতে করে আর ভোগান্তি না পোহাতে হয়। মিলের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, আমার কাছে একটা লিখিত অভিযোগ দেন নুরুল ইসলাম। ওই মিল মালিককে নোটিশ করা হয়েছে ৭দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্মত করতে হবে। যদি না মানে জনস্বার্থে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997