নরসিংদীতে দস্যুরাণী ফুলন দেবীরূপী হোসনে আরার তান্ডবলীলা

নরসিংদীতে দস্যুরাণী ফুলন দেবীরূপী হোসনে আরার তান্ডবলীলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : নরসিংদীর শিবপুরের আজকিতলা গ্রামে এক দস্যু ফুলন দেবীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ফুলন দেবী যে রকম সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে আলোচিত আলোড়িত ঠিক তেমনি হোসনে আরা সমগ্র শিবপুর এলাকায় আলোচিত আলোড়িত।

তার সন্ত্রাসী ও অসামাজিক কার্যকলাপে সমগ্র এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। থানা পুলিশের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা, ইয়াবার ব্যবসা, গাঁজা ফেন্সিডিলের ব্যবসাসহ প্রকাশ্যে যুব সমাজের চরিত্র হনন করছে এই মহিলা।

www.linkhaat.com

বিগত ০৮/০২/২১ইং তারিখে এলাকা পরিদর্শনকালে এলাকার বিভিন্ন স্তরের মানুষ তার অত্যাচারের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে মানব-বন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

যাতে তার নানা অপকর্মের বিষয়াদি তুলে ধরাসহ অচিরেই এসব বন্ধের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনে প্রশাসনের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী নরসিংদী পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষন করছেন।

তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো লিখিতভাবে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। যার অনুলিপি জেলা পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ইউপি পরিষদ, জয়নগর ও শিবপুর পাঠানো হয়।

এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিবেদককে জানানো হয় যে, জেলা প্রশাসক অফিস স্মারকলিপি গ্রহন করলেও অজানা কারণে শিবপুর থানা পুলিশ সেই স্মারকলিপির কপি গ্রহন করেনি। কথিত আছে, হোসনে আরার কাছ থেকে থানা পুলিশের কিছু অসাধু দারোগা নিয়মিত মাসোহারা পান বলেই তাদের এই নীরবতা।

হোসনে আরার দৌর্দন্ডপ্রতাপে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না কেউই। কেননা এই প্রতাপশালী মহিলা ঘোষনা দিয়ে যে কাউকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করে। এমনকি তার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ও ডাকাতদল দিয়েও নানাজনের বাড়িতে ডাকাতি করিয়ে তাদের প্রতি প্রতিশোধ নেয়।

প্রতিবেদক জানতে পারেন সম্প্রতি আজকিতলা মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক মাওলানা নূর হোসাইন মাদ্রাসার ক্লাস সমাপ্ত করে বাজারের মধ্য দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে উক্ত হোসনে আরা ও তার পুত্র মাদক বিক্রেতা সবুজ মিয়া তাদের সন্ত্রাসী দল নিয়ে মাওলানার পথ রোধ করে। গালিগালাজসহ মারধরের এক পর্যায়ে হোসনে আরা তার পা থেকে জুতা খুলে নূর হোসাইনকে একাধিক বার আঘাত করে ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।

এ সমস্ত কথা বলতে গিয়ে মাওলানা নূর হোসাইন লজ্জায়, ঘৃণায় ও অপমানে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠেন। সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মাওলানার অপরাধ, তিনি মাদক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

এলাকাবাসী জানান, তার জন্যে আয়োজিত মানব বন্ধনে উপস্থিত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো: আব্দুল হাই গাজী, একেএম খোরশিদ আলম, মো: শাহজাহান, মো: ফায়েজ উদ্দিন, খ ম মোবারক, আ: বাতেন, রায়হান মিয়া, মাওলানা নূর হোসাইন, মো: শাহিন আলী, মো: জালাল মিয়া, নূরে আলম খন্দকার, জাহিদ হাছান, সেলিনা বেগম, মো: রাকিব, মো: সজিব, বিল্লাল হোসেন, আ: মালেক, মো: আমজাদ, মো: মজিবর, আবুল হোসেন, মো: হুমায়ুন কবির প্রমুখ।


ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মাওলানার পক্ষে মাদ্রাসা সুপার, মাদ্রাসা কমিটির সাবেক ও বর্তমান সভাপতি, এলাকার সাবেক মেম্বার, ইটালি প্রবাসী যুবক, অধ্যাপক, সরকারি চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ীসহ আরো অনেকে তার বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানান এবং তরুণ যুবকদের ভবিষ্য রক্ষার্থে এহেন অপকর্ম রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।

তারা আরো বলেন, হোসনে আরাকে এখনই থামানো না গেলে সে নরসিংদী ছাড়িয়ে আরেক ওয়েষ্ট ইন হোটেলের পাপিয়ার মতো ঢাকা, এমনকি সমগ্র বাংলাদেশকেও গ্রাস করতে পারে। এলাকার সুধীমহলের বিশ্বাস খুব শিঘ্রিই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কার্য সম্পন্ন হবে এবং এলাকাবাসীকে এই নব্য ফুলন দেবীর হাত থেকে রক্ষা করবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997