গৌরীপুরে মেয়র প্রার্থী ৭ ত্রি-মুখী লড়াইয়ের আভাস

গৌরীপুরে মেয়র প্রার্থী ৭ ত্রি-মুখী লড়াইয়ের আভাস

গৌরীপুর ময়মনসিংহ থেকে শেখ বিপ্লব : আগামী ৩০ জানুয়ারী ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে ভোটাররা। মেয়র পদে ৭ জন প্রার্থী থাকলেও বর্তমান মেয়র আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (নারিকেল গাছ) প্রতিক, আওয়ামীলীগ মনোনীত মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি (নৌকা) প্রতিক ও বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মোঃ আতাউর রহমান (ধানের শীষ) প্রতিকের মাঝে ত্রি-মুখী লড়াই হতে পারে বলে সাধারন ভোটাররা ধরনা করছে।

সেক্ষেত্রে জয়-পরাজয় স্বল্প ভোটের ব্যবধানে হতে পারে বলেও ধারনা করা হচ্ছে । গৌরীপুর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ হাজার ২শ ১২ জন ।

www.linkhaat.com

৭ জন প্রার্থীর মধ্যে নতুন মুখ ৫ জন। বর্তমান মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গত নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী হন। এ বছরও তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মাসদুর রহমান শুভ্র আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ২০২০ সালে শেষের দিকে শুভ্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বর্তমান মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম সেই হত্যা মামলায় আসামী হওয়ায় তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে (নারিকেল গাছ) প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রাপ্ত সাবেক মেয়র মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি তিনি নৌকা প্রতিক নিয়ে পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

বিএনপির একক প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন আতাউর রহমানর আতা। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত গৌরীপুর সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক সদস্য আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি গত নির্বাচনেও নৌকার মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। পরে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়ান। এবারও তিনি নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

আবারো মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি চামচ প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যার পর তার চাচা সাবেক ছাত্র নেতা সাদেকুর রহমান সেলিম নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে পড়লেও শুভ্র‘র স্ত্রী তাহরিমা আক্তার (চুমকি) (জগ) প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। অপরদিকে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল কাদির তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন কিন্তুু উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকাভূক্ত হয়নি।

তিনিও মোবইল ফোন প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। সাবেক পৌর কাউন্সিলর আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) মনোনীত কুড়ে ঘর প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্চ’ক ভোটাররা বলেন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করতো তাহলে এবারের নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত ছিল।

স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের (নারিকেল গাছ) প্রতিক একটি শক্তিশালী প্রার্থী তারপরও আবার নৌকার মনোনয়ন বঞ্চিত একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে পাশাপাশি গৌরীপুরের বিএনপি’র নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনে সক্রীয় ভূমিকা রাখায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটাররা আরো বলেন,আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিতরা যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করতো তাহলে দ্বি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা ছিল।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম (নারিকেল গাছ) প্রতিক অভিযোগ তুলে বলেন, নৌকার প্রার্থী সমর্থক-কর্মীরা প্রভাব খাটিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে। আমার নির্বাচনী পোস্টার ছেড়া ও প্রচার মাইক ভাংচুরসহ আমার কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা প্রায় প্রতিদিনেই ঘটছে।

এ ব্যাপারে আমি রিটানিং অফিসার ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ময়মনসিংহ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছি। তারপরও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশাবাদী। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নারিকেল গাছ প্রতিকের বিজয় হবে।

নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোঃ শফিকুল ইসলাম হবি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রীড়াঙ্গন,সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সকল স্তরের নেতা কর্মীরা মাঠে নেমেছে পাশাপাশি সাধারন ভোটারদের জোয়ার দেখে (নারিকেল গাছ) প্রতিক সৈয়দ রফিকুল ইসলাম আমার কর্মী ও সমর্থকদের উপর ডাহা মিথ্যা বলে বেড়াচ্ছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারী নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তিনি মিথ্যাচার করে ফিরছেন।

সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক ৯ টি কেন্দ্রে ৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষনিক থাকবেন। তাছাড়া এক জন জুটিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। র‌্যাবের টিম, বিজিবি, পুলিশের মোবাইল টিমসহ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997