তুরাগ থানার হরিরামপুর এলাকায় লোমহর্ষক ভূমি জালিয়াতির তথ্য ফাঁস

রাজধানীর তুরাগ থানার হরিরামপুর এলাকায় লোমহর্ষক ভূমি জালিয়াতির তথ্য ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর তুরাগ থানার হরিরামপুরে লোমহর্ষক ভূমি জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। মরহুম বাহাদুর খানের অলিওয়ারিশ হাজী মোঃ সোলায়মান খান, হাজী মোঃ মনির খান, মিসেস ফেরদৌসী বেগম, বিথী খানম, মাইনুল ইসলাম, মিসেস আয়েশা আক্তার, ইশরাত জেরিন অন্ত, রাফাত খান রাফী, মিসেস হাজেরা বেগম, মিসেস সাহেরা বেগম, মিসেস ফাহমিদা বেগম ও মিসেস তাসলিমা খানম উল্লেখিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক। সিএস, এসএ খতিয়ানে এদের পূর্ব পুরুষ হাজী বাহাদুর খানের নাম শুদ্ধরুপে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

পরবর্তীতে নানা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আরএস খতিয়ানে মোজাফফর হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মুল্লুক চাঁন, মোঃ আব্দুল গফুর, আব্দুল করিম, মনির উদ্দিন, আকবর আলী মীর, মোহাম্মদ সুরজজামান, আলী বক্স, মোঃ আবু তাহের, ফরাতুন্নেসা, ইউনুস আলী সরকার, মতিলাল বিবি এই ১৩ জনের নামে ভূমি জালিয়াতরা জাল কাগজপত্র সৃষ্টি করে।

www.linkhaat.com

দেওয়ানি মোকদ্দমা করে খতিয়ান সংশোধনের মাধ্যমে মুল মালিকদের নামে নাম জারি করানোর জন্য হাজী মোঃ বাহাদুর খান জীবিত থাকা অবস্থায় তার পুত্র হাজী মোঃ সোলায়মান খান ও জনৈক এ্যাডভোকেট আনোয়ারকে লিখিতভাবে দায়িত্ব প্রদান করেন।

কিন্তু হাজী মোঃ বাহাদুর খান এ্যাডভোকেট আনোয়ারের তঞ্চকতা ও অসহযোগিতার কারনে এ কাজটি যথাসময়ে করতে পারেননি। গত এক যুগ যাবৎ এ্যাডভোকেট আনোয়ার পাওয়ার অব এ্যাটর্নীর কাগজ নিয়ে এই পরিবারের সাথে রহস্যজনকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখেন।

এদিকে প্রকৃত জমির মালিক হাজী মোঃ বাহাদুর খান পৃথিবী থেকে কয়েক বছর আগে গত হয়ে গেছেন। বর্তমানে হাজী মোঃ বাহাদুর খানের অলিওয়ারিশগণ তাদের সম্পতি ফিরে পাওয়া ও দখলিস্বত্বের দাবী জানিয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদে এক আবেদন পেশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান জাল জালিয়াতির মাধ্যমে এ সম্পত্তি হাত বদল হয়েছে। কিছু সম্পত্তিতে দখলবাজীর অসৎ উদ্দেশ্যে কতিপয় ভূমি দস্যু বাংলাদেশের স্থপতি মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে। ভূমির প্রকৃত মালিকগণ এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় ভূমিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এই জমির তফসিল ঢাকা জেলার সাবেক কেরানীগঞ্জ অতঃপর তেজগাঁও থানা, উত্তরা পশ্চিম থানা ও তুরাগ থানাধীন কামারপাড়া মৌজার ৪৩ নং খতিয়ানের ১০ নং তৌজিভূক্ত দাগ সমুহের মধ্যে উক্ত সম্পত্তির অবস্থান। যার দাগ নম্বর ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭ সহ আরো কয়েকটি দাগ। সম্পত্তির পরিমান ২০ একর ৯০ শতাংশ। এ সম্পত্তির চৌহদ্দী উত্তরে ১০ নং সেক্টর, দক্ষিণে ১০ নং সেক্টর, পূর্বে বেরীবাঁধ ও পশ্চিমে কামারপাড়া পুরাতন বাজার।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ এর অনুসন্ধানে ও সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে উক্ত সম্পত্তিতে প্রকৃত মালিকের অনুমতি ছাড়াই একাধিক মসজিদ তৈরী করে ভূমি দস্যূরা আশেপাশে দোকানপাট নির্মাণ করেছে। এমনকি কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়সহ একাধিক বিদ্যালয় উক্ত সম্পত্তিতে গড়ে উঠেছে।

কোন কোন ভূমি দস্যু হাজী মোঃ বাহাদুর খান এর উক্ত সম্পত্তির দাতাও সেজেছেন, মতোয়ালি হয়েছেন অথচ মুল মালিক ও তাদের অলিওয়ারিশগণকে লোক চক্ষুর আড়ালে রেখেছেন। এলাকাবাসী জানান সুষ্ঠু তদন্ত, মাঠ জরিপ ও সঠিক মাপজোক হলে থলের বিড়াল, জালিয়াত, ভূমি দস্যু ও দূর্দর্ষ প্রতারকদের আসল চেহারা বেড়িয়ে আসবে।

স/ম

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997