ছাত্র গেলেই ভর্তি নিতো মাদ্রাসাটি

ছাত্র গেলেই ভর্তি নিতো মাদ্রাসাটি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহর থেকে মাদ্রাসাটির দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার।শহরতলীর জুগিয়া মাদার শাহ পশ্চিম পাড়া নির্জন ও দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা সবাই চরমোনাই পীরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরে যাদের নাম এসেছে তারা এই ইবনি মাসউদ (রা..) মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। ভাস্কর্য ভাঙার ফুটেজ দেখে পুলিশ খোঁজ খবর করে জানতে পারে,এই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বক্কর ও মো.নাহিদুল ইসলাম এই কাজটি করেছেন।

www.linkhaat.com

তারা শুক্রবার রাতে মাদ্রাসা থেকে হেঁটে বের হয়ে এই কাজ করেছেন। আর হেঁটেই মাদ্রাসায় ফিরেছেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে দুই শিক্ষককে ঘটনা জানান। আর তারা দুই ছাত্রকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এঘটনায় এই দুই শিক্ষককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন আল-আমিন ও ইউসুফ আলী।

পুলিশ বলছে,ইউটিউবে হেফাজত নেতা মামুনুল হক ও চরমোনাইয়ের পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করীমের বক্তব্য শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে এই কাজটি করেছেন তারা। কেনো না বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে সিনিয়র নায়েবে আমির ফয়জুল করীম প্রথমে বিক্ষোভ করেছিল।

কওমি এই মাদ্রাসাটি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠা হয়। শহর থেকে পশ্চিমে প্রধান সড়ক ধরে তিন কিলোমিটার যাওয়ার পর ত্রিমোহনীতে যাওয়ার আগে বাম দিকে রয়েছে মাদ্রাসাটির সাইনবোর্ড। এখান থেকে কাঁচা রাস্তায় আরও আধা কিলোমিটার এগিয়ে গিয়ে মাঠের মধ্যে নির্জন ও দুর্গম এলাকায় মাদ্রাসাটি দেখা যায়।

তবে মাদ্রাসায় গিয়ে মাদ্রাসাটির পরিচালক মাওলানা আফজাল হোসেন কাশেমীকে দেখা যায়নি।

সিনিয়র শিক্ষকরা জানান,অন্যন্য কওমি মাদ্রাসার মতোই এই মাদ্রাসাটির শিক্ষাক্রম। মক্তব, হেফজ, জামাত ও মাওলানা বিভাগ আছে এখানে। শিক্ষার্থীদের বেতন ও মানুষের সাহায্য থেকে আসা অর্থ দিয়েই চলে এটি।

ছয় বছরে মাদ্রাসায় বর্তমানে ৬১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে এখানে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরা পড়েন না এই মাদ্রাসায়। দূর দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরাই পড়েন এখানে।

ইবনি মাসউদ মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মো. মুসা বলেন,মাদ্রাসায় পড়াশুনা করবে এমন ছাত্র আসলে ভর্তি করা হয়। কোনোভাবে আগে যদি জানতাম তাদের এ কাজ করতে দিতাম না। তারা এ কাজটি করে চরম অন্যায় করেছে।

গ্রেফতার আবু বক্কর ও নাহিদের সহপাঠী জানান,তাদের কোন খারাপ ব্যবহার দেখিনি। কি থেকে যে কি হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না। তারা ইউটিউবে ওয়াজ শুনতেন। সেখান থেকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বলে ধারণা তাদের।

স্থানীয় কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, এই মাদ্রাসাটির ছাত্রদের পার্শ্ববর্তী বাজার গুলোতে আড্ডা দিতে দেখা যায়। সেখানে তারা ইউটিউবে বিভিন্ন হুজুরের ওয়াজ শোনেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে মাওলানা মামুনুল হকের ভাস্কর্যবিরোধী ওয়াজও শুনতো।

এক সহপাঠী বলেন,আমরা একসঙ্গে থাকি,নানা বিষয়ে কথাও বলা হয়। কিন্তু এটা ভাঙতে হবে, এমন কোনো আলোচনা কখনও হয়নি। ওয়াজ শুনতে খুবই পছন্দ করত। ভেতরে মোবাইল রাখার নিয়ম নেই। তাই তারা বাইরে চলে যেত ওয়াজ শুনতে।

গ্রেফতার আবু বক্করের বড়ভাই আমাননুল্লাহ বলেন,ভাই যে এমন কাজ করতে পারে এটা বিশ্বাস করতে পারছি না। মানুষের বাড়িতে জনখেটে দুইভাইকে খুব কষ্ট করে মানুষ করছেন আমার বাবা। মাদ্রাসায় ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষা দেওয়ার জন্যই ভর্তি করা হয়েছিল তাকে। বক্করকে এমনভাবে জানে না আমার পরিবারের কেউই। এই ঘটনায় বিস্মিত বলে জানিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত দুই ছাত্র আবু বক্করের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সিংপুর গ্রামে ও নাহিদুল ইসলামের বাড়ি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997