ফুলতলা-বাঘাইকান্দির সংযোগ সড়কে কবে চলবে গাড়ী ?

ফুলতলা-বাঘাইকান্দির সংযোগ সড়কে কবে চলবে গাড়ী ?

এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নয়নের ফুলতলা – বাঘাইকান্দি সংযোগ সড়কে কবে নাগাদ গাড়ী চলবে ? কাঁচামাটির সড়কে কবে নাগাদ ইটের সোলিং হবে? পাকা রাস্তা কবে দৃশ্যমান হবে। কবে নাগাদ এই রাস্তা দিয়ে গাড়ীতে চড়ে শহরে যাতায়াত করতে পারবে ।

এমন একাধিক প্রশ্ন আর একাধিক ক্ষোভের কথা বলেছেন শত বছর বয়সী ছামিরন বেগম। ইউনিয়নটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়ন হলেও ফুলতলা টু বাঘাইকান্দি সংযোগ সড়কে হয়নি কোন উন্নয়ন। অভ্যন্তরিক সড়কটি যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় পায়ে হেটেই রাস্তাটি পাড়ি দিচ্ছে ৪/৫ টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জনগোষ্টি।

www.linkhaat.com

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ফুলতলা স্কুলের সামনে থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটারের একটি কাঁচা মাটির সড়ক পার্শবর্তী বাঘাইকান্দি গ্রামের সাথে মিলিন হয়েছে। কাঁচা মাটির এই সড়কটি ফুলতলা, ফুলতলা দক্ষিনকান্দি, নমকান্দি, এবং ইসলামপুর অতিক্রম করে মিলিত হয়েছে বাঘাইকান্দি গ্রামের ব্রিজের সাথে।

দীর্ঘ এই কাঁচা মাটির সড়কটিতে চলে না কোন যানবাহন। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ হেটেই চলে নিয়মিত। মাঝে মধ্যে কাঁচা সড়কটিত অটো মিশুক চললেও সেটা অনেকা ঝুঁকিপূর্ন। বৃষ্টি আসলে সড়কটি মৃত্যু ফাঁদে পরিনত হয়। জমি থেকে ৪/৫ ফিট উপরে তৈরী মাটির রাস্তাগুলো দিনে দিনে জমির সাথে মিশে যাচ্ছে।

রাস্তাগুলো যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ। ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষিসহ নানা ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজারো জনগোষ্টি।

শত বছর বায়সী ছামিরন বেগম বলেন, এই গ্রামে বিয়ে হয়েছে ৬৫ বছর আগে। সেই ৬৫ বছর ধরেই তো হাটি। রাস্তা হওয়ার আগেই ভালো ছিলো ট্রলার দিয়ে মুন্সীগঞ্জ যাইতাম। রাস্তা হওয়ায় ট্রলারে যোগাযোগ বন্ধ। এখন আগের মতই হাটতে হয়। কবে নাগাদ রাস্তা পাকা আর গাড়ী চলবে এর কোন নিশ্চিয়তা নেই। নির্বাচনের আগে অনেকেই বলে ভোট দেন এই রাস্তা করে দিবো।

নির্বাচন শেষ হলেই চেয়ারম্যান মেম্বারদের আর কোন খবর রাখে না। সরকারী শুনছি গ্রামকে শহর বানইবো। দেখি সরকার আমাদের হাটার কষ্ট দূর করতে কি উদ্যোগ নেই। এই বলেই হাটি হাটি পা পা করে বৃদ্ধ নারী চলে গেলো। ছবি তুলতে চাইলে বলে বাবা আমার ছবি না রাস্তার ছবিটা তুলে নিয়ে দেশবাসীকে দেখাও।

স্থানীয়রা জানান,পূর্বে এসব গ্রামের মানুষ জরুরি প্রয়োজনে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে মুন্সীরহাট বাজারে আসতো। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফুলতলা টু বাঘাইকান্দি সড়কটি তৈরী করে। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কার এবং গাড়ী চলাচলের উপযোগী না করায় রাস্তাটি কোন কাজেই আসছেনা। ফলে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, শিক্ষাসহ নানান সুবিধা থেকে বঞ্চিত সব এসব গ্রামের মানুষ।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো: আক্তারুজ্জামান জীবন বলেন, ফুলতলার কাঁচামাটির সড়কগুলো দ্রুত সময়ে গাড়ী চলাচলের উপযোগী করা হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997