খাবারের সন্ধানে দেশীয় প্রজাতির সাদা ‘বক’ এখন ময়লার ভাগাড়ে

খাবারের সন্ধানে দেশীয় প্রজাতির সাদা বক এখন ময়লার ভাগাড়ে

এম এম রহমান: বিলের কাঁদা পানিতে নেই মাছ, নদীতে দূষণ আর খাবার সংকট। খাবারে সন্ধ্যানে দেশী প্রজাতির বক, শালিক, মাছরাঙ্গা, চিল, পানিবকসহ ১০/১২ প্রজাতির দেশীয় পাখির খাবারের ভান্ডার এখন ময়লার ভাগাড়। প্রতিদিন ভোর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির পাখিরা ময়লা খাচ্ছে।

ময়লার ভাগাড়ের চারপাশে সাড়ি সাড়ি গাছপালা আর বাগান হয়েছে তাদের অভ্যয়ারন্য। কেউ ঢিল ছুড়লে বৃষ্টির মত ঝঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উড়ে গিয়ে অন্য প্রান্তে গিয়ে বসছে। খাবার খাচ্ছে, আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে, কখনও বা গাছের মক ডালে বসে আরাম করছে।

www.linkhaat.com

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার মুন্সীরহাট বাজারের পূর্বপাশে ময়লার বিশাল ডাম্পিং স্পট। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ীতে করে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বাসাবাড়ীর পঁচা খাবারসহ বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা এনে এখানে ফেলছে। সেখানে এই ময়লার মধ্যে খাবার খুঁজে খাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির হাজার হাজার পাখি। লম্বা আকৃতির সাদা বক নড়ক কারবে সকলের।

এক জায়গায় হাজারো বক বসে থাকলেও বুঝার উপায় নেই ওখানে কতটা বক আছে। ধবধবে সাদা বক আর ময়লার ভাগাড়ে থাকা সাদা কাগজ আর পলিথিন দুটোকেই এক করে দিয়েছে। খাসকান্দি আর রমজান বেগ যাওয়ার পথে শত শত মানুষ এ দৃশ্য দেখতে পায়। কাছে থেকে অনেকে এই দৃশ্য দেখতে ময়লার দূগন্ধকে উপেক্ষা করে পাখিদের অভয়ারন মেলার দৃশ্য উপভোগ ভূল করেন না।

পরিচ্ছন্নকর্মীরা জানান, ভোর সকালে এখানে সাদা বকসহ লাখ লাখ পাখির মিলন মেলা বসে। ঘুড়ে ঘুড়ে খাবার খাচ্ছে পাখিরা। আগে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের গাড়ী দেখলে পাখিরা ভয় পেতো। দীর্ঘদিন পাখিরাপ এখানে এস খাবার পাওয়ায় পাখিরাও এই জায়গাটাকে অভয়ারন্য করে নিছে। গাছে গাছে পাখিরা আশ্রয় নিচ্ছে।

তবে কিছু বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন অনেক সময় পাখিদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি করে। কারেন্টজাল, কূপ এবং নানা ধরনের ফাঁদ পেতে এই পাখিগুলোকে ধরার চেষ্টা করে। অনেক বেধে সম্প্রদায়ের পুরুষরাও বকসহ অন্যান্য পাখিদের মারার চেষ্টা করে।

স্থানীয় রফিক জানান, সাধারনত শীত আসলে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি এবং দেশীয় পাখি দেখা যায়। কিন্তু মুন্সীরহাটের এই ময়লার ভাগাটির কারনে সারাবছরই পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ে। ময়লার খাবার খেয়েই লাখ লাখ পাখি তাদের ক্ষুদা নিবারন করছে।

আগে বিলের পানিতে পোকা মাকর, বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, কাঁকড়াসহ অন্যান্য জীব প্রানী ছিলো। এখন তার আর নেই। বকসহ অন্যান্য পাখিরা খাবার না পেয়ে এই ময়লার ভাগাটিকে ভাদ্য ভান্ডার বানিয়েছে। দেশের সম্পদ এই পাখিগুলোকে রক্ষার জন্য সবাইকেই সচেতন হতে হবে। কোন মতে বণ্য পাখিগুলোকে ধবংস হতে দেয়া যাবেনা।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997