শত বছর ধরে খেয়া নৌকায় পার হচ্ছে হাজারো মানুষ

শত বছর ধরে খেয়া নৌকায় পার হচ্ছে হাজারো মানুষ

এম এম রহমান : মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের চরাঞ্চলের ইউনিয়ন চরকেওয়ার। ইউনিয়নটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের গ্রামগুলোতে উন্নয়ন হলেও পূর্ব ফুলতলায় লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। ফুলতলা উত্তর আর দক্ষিন কান্দিতে যাতায়াত কখনও ইটের ভাংগা রাস্তা আবার কখনও বেশ কয়েক কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক।

জরুরি প্রয়োজনে উত্তর আর দক্ষিন ফুলতলার হাজারো মানুষ পড়েন ভোগান্তিতে। তবে এই ভোগান্তিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়েছে তারা। কিন্তু ফুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রজতরেখী নদীতে আজও কোন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় মানুষের মাঝে না পাওয়ার ক্ষোভ বেড়ে গেছে।

www.linkhaat.com

রজতরেখা নদীর পূর্ব পাশে থাকা পূর্ব ফুলতলা, ফকিরকান্দি, উত্তরচরমশুরাসহ ৭/৮ টি গ্রামের ছাত্র/ছাত্রীরা খেয়া পার হয়েই এপারে আসেন। নদীর পূর্ব পাশে থাকা গ্রামগুলোর অভ্যন্তরীন কোন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। বর্ষার সময় নৌকা আর শুকনো মৌসুমে জমির আইল ধরে হাঁটতে হয় সকলের।

দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে এভাবেই নৌকা পাড়ি দিচ্ছে চরকেওয়ার ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পূর্বফুলতলাসহ বহু গ্রামের হাজারো মানুষ। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবত ব্রিজ নির্মাণের দাবি করলেও তাদের দাবি পূরন করেনি কেউ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলতলা স্কুলের পাশের গ্রামের মানুষ ভাংগা আর কাঁদামাটির সড়কে নিয়মিত শহরে যাতায়াত করছেণ। কিন্তু নদীর পূর্বপাশে থাকা অবহেলিত গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের জন্য নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

পায়ে হেঁটে নদীর তীরে এসে নৌকায় পাড়ি দিয়ে তাদেরকে ফুলতলা স্কুল ঘাটে আসছে। বর্ষার সময়ে পূর্বপাশের গ্রামের মানুষের নৌকা ছাড়া কোন গতি নেই। এলাকাটির দিকে তাকালে মনে হয় যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকার। ফলে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা, শিক্ষাসহ সব কিছুতেই পিছিয়ে পড়ছে এসব গ্রামের মানুষ।

ফুলতলা গ্রামের জহিরুল বলেন, আমরা জন্মের পর থেকেই পাঁয়ে হাটি আর নৌকা পাড়ি দিচ্ছি। পূর্ব ফুলতলাসহ ৭/৮ গ্রামের সাধারন মানুষ ১০০ বছর ধরে এভাবেই নৌকা পাড়ি দিয়ে ফুলতলা আসছে। নদীর পশ্চিমপাড়ে ফুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা আর নৌকা পাড়ি দেয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী আধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

খেয়া ঘাটের মাঝি আবুল দেওয়ান বলেন, আমি প্রতিদিন হাজারো মানুষ পার করি। পূর্ব ফুলতলায় যাতায়াতের কোন সড়ক নাই। বর্ষার সময়ে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। এই নদীতে একটা ব্রিজ জরুরি দরকার। ব্রিজ হলে তো আপনার আয়রোজির পথ বন্ধ হয়ে যাবে।

প্রতিবেদকের এই প্রশ্নের জবাবে মাঝি আবুল বলেন, আমি আমার পেটের চিন্তা করিনা। আল্লাহ নিশ্চিই একটা পথ করে দিবে। আমি সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি সরকার যেন দ্রুত সময়ে এই নদীর উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। তাহলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।

স্থানীয় যুবক মাসুদ আলম বলেন, এলাকার মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারন যোগাযোগ ব্যবস্থা। টরকি থেকে ১ কিলোমিটারের ইটের রাস্তা। এরপর থেকে প্রায় ৩ কিলো কাঁচা মাটির সড়ক। যেখানে ব্রিজ দরকার সেখানে ব্রিজ নির্মাণ হয়নি। ফুলতলা নমকান্দি এলাকায় খালি জায়গায় কোটি টাকার ব্রিজ তৈরী করে রেখেছে। সেই ব্রিজের আশে পাশে কোন খাল নেই। ব্রিজ পর্যন্ত গাড়ী যাতায়াতের মত নেই কোন সড়ক ব্যবস্থা।

অপ্রয়োজনীয় এই ব্রিজটি ওখানে নির্মান না করে এই ব্রিজটা নদীতে দিলে হাজারো মানুষ স্ব:স্থি ফিরে পেতো। দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন । নদীতে ব্রিজ নির্মাণ না করলে আরো পিছিয়ে পড়বে এই এলাকার মানুষ।

চরকেওয়ার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো: আক্তারুজ্জামান জীবন বলেন, পূর্ব ফুলতলা এলাকায় অভ্যন্তরিন যোগাযোগের জন্য রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হবে। নদীর এপার ওপারের দুই ফুলতলার সেতু বন্ধনের জন্য ব্রিজটা খুবই দরকার।

তিনি আরো বলেন, রাস্তা নির্মাণের পর পরই ব্রিজ নির্মাণের জন্য আবেদন করবো। এই ব্রিজটি নির্মাণ হলে এক গাড়ীতে বসেই পুরো ইউনিয়নে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997