মুন্সীগঞ্জ শহরজুড়ে অতিমাত্রার কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলে বাজার সয়লাব

মুন্সীগঞ্জ শহরজুড়ে অতিমাত্রার কেমিক্যাল মিশ্রিত ফলে বাজার সয়লাব

এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচরি এলাকার ফলপট্রি এখানে অন্তত ২০/২৫ জন ব্যবসায়ী মৌসুমী ফলের ব্যবসা করছেন। দেশী বিদেশী সব ধরনের ফল এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। রং চকচকা ফল দেখলে মনে হয় যেন কিছুক্ষন আগে গাছ থেকে নামানো হয়েছে।

ক্রেতারাও তা কিনে খাচ্ছে। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, ফলের নামে আমরা এসব কী খাচ্ছি? কতটা নিরাপদ এসব মৌসুমি ফল? গত কয়েক বছর মৌসুমি ফলের উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত ব্যাপকভাবে বিষের ব্যবহার করা হয়েছে। রাসায়নিক বিষ মেশানো ফল খেয়ে মানুষ নানা রকম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খাদ্যের মতো এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বা কতটা তৎপর?

www.linkhaat.com

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের ফলপট্রি, কাচারি এবং সুপার মার্কেটসহ শহরের ব্যবস্ততম রাস্তায় বিভিন্ন ফলের পসরা সাঁজিয়ে বসে আছেন ফল বিক্রেতারা। দোকানগুলোতে কলা, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস, আপেল, আঙুর, মাল্টা, ড্রাগন, ইন্ডিয়ান আর মিশরের মাল্টা, অট্রলিয়ান আঙ্গুর, জাপানী ফল কাকা,নাশপাতিসহ দেশি-বিদেশি অনেক রকমের ফল। ফলগুলোতে কোন ধরনের মাছি কিংবা মধু পোকা বসছে না।

৫/৬ দিন একই ফল সাজিয়ে রেখে বিক্রি করছেন। কখনও কখনও ফল পঁচে যায় তবুও নষ্ট হয়না ফলের রং। বেশীর ভাগ দোকানে পাওয়া যায়নি পঁচা ফল। অন্য বছরগুলোতে প্রশাসন যেভাবে ফলের বাজারগুলোতে অভিযান চালাত, এ বছর কোনো অভিযান হয়েছে কি না? ‘ফলে ফরমালিন, কার্বাইড, স্প্রে—সবই ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমন প্রশ্নের জবাবে ফল ক্রেতারা জানান, রাজধানী ঢাকার শ্যামবাজার এবং বাদামতলীর পাইকারী ফলের আড়ৎ থেকে তারা ফল কিনে এনে মুন্সীগঞ্জে বিক্রি করেন। আড়তগুলোতে ফলে গোপনে ব্যবহার করা হয় কেমিক্যাল। এ বছর তো কোনো অভিযান দেখি না, তো এগুলো ধরবে কিভাবে?’।

অনুসন্ধানকালে ফল ব্যবসায়ী মনিরুল, করিম,আলামিন, মুরাদরা জানান,‘ফল সংরক্ষণের জন্য কেমিক্যাল ব্যবহার করা না হলে কিভাবে দিনের পর দিন ভালো থাকবে। শুকনা বা পচা ফল কেউ কিনতে চাইবে নাকি? কোনো ফলে দোকানে মাছি ঘুরতে দেখেন? মাছি নেই তো জানবেন ফলে কেমিক্যাল আছে!’ দ্বিতীয় প্রশ্ন কলা বিক্রেতা আজিজের কাছে, যেসব কলা বিক্রি হচ্ছে তা কি গাছে পাকা? আজিজ জবাব দিলেন, ‘গাছে পাকা কলা দূর থেকে ঘ্রাণ পাওয়া যায়। শহরে গাছে পাকা কলা নেই। এগুলো কার্বাইড দিয়ে পাকানো, যারা খায় তারাও জানে।’

ফল ক্রেতা আমিনুল পাটোয়ারি বলেন, প্রায় প্রতিটি ফলেই কমবেশি কেমিক্যাল কিংবা ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ফরমালিনের ব্যবহার কিছুটা কমেছে। কাঁদি কাটা থেকে বাজারে আনা পর্যন্ত কলাতে দেওয়া হয় বিষ। দেশী ফলের পাশাপাশি অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, নেপাল, মিশরসহ অন্যান্য দেশের ফলগুলোও রং চকচকে। কোন ফলেই মাছি কিংবা মধু পোঁকা বসছে না ।

শুধুমাত্র অষ্টলিয়ান আঙ্গুর ছাড়া কোন ফলেই মাছি বসছে না। বাজারের সমস্ত ফলগুলোর নমুনা পরিক্ষা করা দরকার। ফলের দোকানে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার পাশাপাশি ভ্রাম্যমান আদালতও পরিচালনা করা খুব জরুরি। ফলে কেমিক্যালের উপস্থিতি ধরা পড়ে তাহলে সাধারন মানুষ টাকা দিয়ে ফলের নামে বিষ কিনে খাবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন ,মানব শরীরে যে মিনারেল ও ভিটামিনের ঘাটতি পড়ে তা ফলমূল খেলে পূরণ হয়। আর এটা পূরণ করতে মানুষ বিদেশী ফল আপেল আঙ্গুর কমলাসহ অন্যান্য ফলে কিনে খাচ্ছে।সরকারের কঠোর নজরদারির কারণে এখন বাজারে ফরমালিন ব্যবহারের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। কেমিক্যাল মিশানো ফল পানিতে ১০/১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ভালো করে পরিস্কার করতে হয়।

কিন্তু আজকাল অধিকাংশ মানুষই অসচেতন। বিশেষ করে গ্রামের মানুষ। সময় ব্যয় আর অলসতার কারনে বাজার থেকে কেনা ফল কোন রকম পরিস্কার করেই খেয়ে ফেলে । ফলে তারা মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। ফল কেনার ব্যাপারেও ক্রেতাদেরকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ, মুন্সীগঞ্জ জেলায় এসব ফলের কোন আড়ৎ নেই। মুন্সীগঞ্জের ফল ব্যবসায়ীরা রাজধানী ঢাকার শ্যামবাজার এবং বাদামতলী থেকে ফল কিনে এনে বিক্রি করে।

আমরা বাজারের বিভিন্ন ফলের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠাবো। ল্যাব টেষ্টে অতিমাত্রায় ফলে রাসায়নিক বা বিষাক্ত কেমিক্যালের উপস্থিতি পাওয়া গেলে ফল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997