মুন্সীগঞ্জের হাট বাজারগুলো ভেজাল গুঁড়ে সয়লাব

মুন্সীগঞ্জের হাট বাজারগুলো ভেজাল গুঁড়ে সয়লাব

এম এম রহমান: শীত এখনও আসেনি, গাছিরা এখনও কাটতে শুরু করেনি খেজুর গাছ। তবুও বাজারে চলে এসেছে খেজুরের গুঁড়ের তৈরী মুছি মিঠাই। বিক্রেতারা বলছেন এসব গুঁড় গত বছরের। ক্রেতারা নতুন মনে করে পুরানো আর ভেজাল গুঁড় কিনে প্রতারিত হচ্ছে।

শীতে প্রকৃতির আশির্বাদ জিভে জল আনা সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খেজুরের গুড়। শীতের পিঠা, পায়েসসহ মিষ্টি যেকোনো খাবারের মজা আসল গুড়ে। কিন্তু ভেজালের ভিড়ে খাঁটি গুড় কিনতে গিয়ে অনেকেই ঠকছেন।

www.linkhaat.com

সুত্র জানায়, গ্রামের গাছিরা এখনও গাছ কাটেনি। বর্তমান বাজারে যেসব খেজুরের গুঁড় আছে সেগুলো ভেজাল। গুড়ের চেয়ে চিনির দাম কম বলে খেজুর গুড়ে চিনি মেশানো হয়। চাষিরা ভোরে গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে এসে কড়াইয়ে রস জাল করে লালচে বর্ণ ধারণ হলেই চিনি ঢেলে দিচ্ছেন। ফলে চিনিগুলো রসের সঙ্গে মিশে তৈরি হচ্ছে গুড়।

চিনি গলে গেলে হাইড্রোজ, ফিটকারি দেয়া হচ্ছে। এসব উপকরণে রস গাঢ় হয়ে গুড়ের রঙ উজ্জল বর্ণ ধারণ করে।

খেজুর রসে প্রস্তুতকারকরা সম পরিমান চিনি মিশ্রিত করছেন। কারণ বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৪ টাকা আর গুড় বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দরে। বাঙালির কাছে পিঠাপুলি তৈরির অন্যতম উপকরণ খজুর গুড়ে এখন মেশানো হচ্ছে নোংরা চিনি।

এসব চিনি মেশানো ভেজাল গুড় এখন মুন্সীগঞ্জ জেলাগুলোর সর্বত্র হাটবাজারে সয়লাব। মৌসুমের শুরতেই জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে উঠতে শুরু করেছে খেজুর গুড়। অবাধে তৈরি ভেজাল গুড় এক শ্রেণির অর্থলোভী চাষিরা খেজুর রসের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে গুড় তৈরি করে বাজারজাত করছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারের দোকাগুলোতে অন্যান্য মিঠাইয়ের সাথে খেজুর রসের গুঁড় সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। চিনি মিশ্রিত খেজুরের গুড় বিক্রি হচ্ছে ৯০- ১০০ টাকা কেজিতে। রাজশাহীর খেজুরের রসের তৈরী গুড় বলে বিক্রি হচ্ছে বাজারে।

ব্যবসায়ীরা পার্শবর্তী নারায়নগঞ্জের নিতাইগঞ্জ থেকে এসব গুঁড় আমদানি করেছে খুচরা বিক্রি করার জন্য। মুন্সীগঞ্জ শহরের বাজারে গৌরাঙ্গ, নুরুল হক, রবিন, মাহফুজসহ ৫/৬ জন দোকানি এসব গুঁড় বিক্রি করছেন। এছাড়াও জেলা সদরের সাপ্তাহিক হাটবাজারে এবং বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হচ্ছে খেজুর রসের গুঁড়।

অনুসন্ধানকালে দোকানিরা জানান, এগুলো গত বছরের গুঁড় । এগুলো পাইকাররা মজুদ করে রেখেছিলো এখন বাজারে ছেড়েছে। আবার কোন কোন দোকানি বলেছে , পুরাতন ভাংগা গুঁড়গুলো চুলায় জাল দিয়ে গলানো হয়। তারপর আবার নতুন করে গুঁড় তৈরী করা হয়। এখন বাজারে যে মুঠি গুঁড় আছে এটা আসল গুঁড় নয়।

আসল গুঁড় বাজারে আসবে পুরো শীতের সময়। এখন যা বিক্রি হচ্ছে সেগুলো গত বছরের পুরানো খেজুরের গুঁড়। বাজারে গুঁড় কিনতে আসা ক্রেতা মমিন আলী শেখ জানান, গুড়ের ধারটা দুই আঙুল দিয়ে চেপে দেখবেন। যদি নরম লাগে, বুঝবেন ভালোমানের আর ধার বেশি শক্ত হলে বুঝে নিবেন এটা ভেজাল। সাধারণত গুড়ের রং গাঢ় বাদামি হয়। আজকে বাজারে হলুদে রঙ্গের গুঁড় দেখলাম এগুলোতে অতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো। এসব গুঁড় স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ঝুঁকি।

বিক্রেতারা বলেছেন, বর্তমানে হাট-বাজার আমদানিকৃত খেজুর গুড়ের অধিকাংশই চিনি মিশ্রিত ভেজাল গুড়। তবে কেনার সময় চিনতে পারলেও কোনো কিছু করার থাকে না তাদের। চিনি মিশ্রিত ছাড়া স্বচ্ছ বা ভালো খেজুর রসের তৈরি গুড় পাওয়া যাবে না। তবে শীতের মৌসুমে ভালো গুঁড় বাজারে পাওয়া যাবে।

জেলা সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ বলেন, আখের গুড় আর চিনি মিশিয়ে ভোজাল খেজুরের গুঁড় তৈরী করে অনেকে। তবে এসব গুঁড়ে অতিমাত্রায় ক্যামিক্যাল ব্যবহার করে থাকলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি। এতে পেটের পীড়াজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের ওই ভেজাল গুড় দিয়ে কোনো খাদ্য তৈরি করে খাওয়ালে লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক জটিল রোগ হতে পারে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহাকারী পরিচালক আসিফ আল আজাদ বলেন, বাজারের গুঁড়ের নমুনা সংগ্রহ করে পরিক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে।

ল্যাবে পরিক্ষার করার পর যদি গুঁড়ের মধ্যে রাসায়নিক কোন উপাদান বা ভেজাল পাওয়া যায় তাহলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997