মেঘনায় বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে জাতীয় সম্পদ নিধন করছে জেলেরা

এম এম রহমান মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মেঘনার অসাধু জেলেরা দু”দিনের বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিনরাত নিধন করে যাচ্ছে জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ। প্রশাসন কোনভাবেই জেলেদের লাগাম টেনে ধরতে পারছেনা। নিরাপত্তার কথাভেবে সারারাতে মেঘনা নদীতে থাকেনা কোন চলমান অভিযান কার্যক্রম।

ফলে রাতের আঁধারে মেঘনার শত শত জেলে অবস্থান করে পদ্মা-মেঘনায়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া বইছে পদ্মা মেঘনায়। আবহাওয়া অফিস চলছে নিন্মচাপটি আরো ২ দিন থাকবে।

www.linkhaat.com

এই বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পদ্মা-মেঘনায় জেলেরা অবাধে নিধন করছে জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ। শুধু তাই নয় পদ্মা-মেঘনার তীরবর্তী গ্রামগুলোও অস্থায়ী হাটগুলোতেও বেড়ে গেছে ইলিশ ক্রেতাদের আনাগোনা। একদিকে জেলেরা মাছ আহরন করছে অন্যদিকে ইলিশ পাচারও বেড়ে গেছে। এমনটাই জানিয়েছে পদ্মা-মেঘনা তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্ধারা।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, বেশ কয়েকদিন ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান চলমান ছিলো। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, ঝড়ো বৃষ্টি হওয়ায় পদ্মা আর মেঘনা বেশ উত্তাল । সিবোট দিয়ে পদ্মা মেঘনায় অভিযান ঝুঁকিপূর্ন এবং অনিরাপদ হওয়ায় আগের মত নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি নদীতে নেই।

তাছাড়া জেলেদের দ্রতগামী মাছ ধরার ট্রলারগুলো উত্তাল পদ্মা এবং মেঘনায় পুরোটাই নিরাপদ। মেঘনা নদীর তীরে দিনে এবং রাতে শত শত জেলে নৌকার অবস্থান। মাছ ধরার দৃশ্য দেখলে মনে হচ্ছে উত্তাল সাগরে তারা মাছ শিকার করছে। পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও থেমে নেই ইলিশ পাচার।

দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারা এই বৈরী আবহাওয়াকে বেশ নিরাপদ মনে করছেন। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যেও ক্রেতারা ইলিশ কেনার জন্য ছুটে যাচ্ছে। স্থল পথে সিএনজি, অটোরিক্সা, মিশুক , প্রাইভেটকার আর মটর সাইকেলে করেই পাচার করছে ইলিশ।

মেঘনা পাড়ের জেলে বাবুল, জসিম, ইসমাইলরা জানান, বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসের কারনে নদীতে প্রশাসনের কোন নেই। রাতেও মেঘনায় সব সময়ের জন্য কোন প্রশাসনের যানবাহন টহলে আসে না।

গত- দু”দিন ধরে জেলেরা পুরোদমে নদীতে মাছ ধরছে। শুরু থেকে প্রশাসনের কঠোর অভিযানে ফলে জেলেরা আশানুরূপ ইলিশ ধরতে পারেনি। এখন মোটামুটি ভালো ইলিশ পাচ্ছে জেলেরা।

স্থানীয়রা জানায়, টানা বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে মেঘনার জেলেরা প্রচুর ইলিশ নিধন করছে। মাঝে মধ্যে নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি থাকলেও সেটা ইলিশ রক্ষার জন্য যথেষ্ট নয়।

শুরু থেকে উন্মুক্ত জেলে নৌকাগুলো নদীর তীরে এবং মাঝ নদীতে চষে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের উপস্থিতি দেখলে জেলে নৌকাগুলো জাজিরা খাল, চরমশুরা আলিরটেক খাল এবং মেঘনার শাখানদী চিতলিয়ার রজতরেখা খালে লুকিয়ে যায়।

প্রশাসনের উপস্থিতি না থাকলে জেলেরা আবারও মেঘনাবুকে ধাপিয়ে বেড়ায়। এখন বৈরী আবহাওয়ায় গত দু”দিন ধরে নদীতে প্রশাসনের উপস্থিতি কম। এতে করে জেলেরা বেপরোয়া হয়ে ঝুঁকি নিয়েই ইলিশ মাছ নিধন করছে। অভিযান সফল করতে দ্রতগামী ট্রলারগুলো আটকের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

পাশাপাশি নৌ পুলিশের বিরুদ্ধেও স্থানীয়দের নানান অভিযোগ। নৌ পুলিশ দিনের বেলা নামমাত্র নদীতে মহড়া দিতে দেখা গেলেও রাতে নদীতে থাকেনা তাদের অবস্থান। নৌ পুলিশ নদীতে তৎপর হলে ইলিশ নিধন কম হতো।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল জানান, বৈরী আবহাওয়া আর ঝড়ো বৃষ্টির কারনে নদী উত্তাল। ঝড়ো বৃষ্টির কারনে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ অন্যান্য আইনসৃংখলা বাহিনীর লোক নদীতে যেতে চাচ্ছেনা।

তবে পদ্মা-মেঘনার তীরগুলোতে দিনরাত মনিটরিং করা হচ্ছে। নদীতে এখণ ৪ নম্বর বিপদ সংকেত চলছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নদীতে ইলিশ রক্ষায় অভিযানের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ নিধন বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে।

স/ম

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997