জাজিরা টু সৈয়দপুর সংযোগ সড়কে খানাখন্দে জনভোগান্তি

জাজিরা টু সৈয়দপুর সংযোগ সড়কে খানাখন্দে জনভোগান্তি

এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের জাজিরা গ্রাম থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত রাস্তাটির বেহাল দশা। ইটের তৈরী রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারনে সড়কটির ৯০ শতাংশ স্থানে ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।

কোথাও কোথাও রাস্তার বিছানো ইট সরে গিয়ে কাঁচামাটির সড়কে পরিনত হয়েছে। এই রুটে ভাড়ী কোন যানবাহন চলতে পারেনা। স্থানীয়রা অটো কিংবা মিশুকে জাজিরা টু মিনাবাজার পর্যন্ত যাতায়াত করে ঝুঁকি নিয়ে। মিনাবাজার থেকে সৈয়দপুর দক্ষিকান্দি এবং জাজিরা সিকদারকান্দি যাওয়ার সড়টিতে হেঁটে চলা কষ্টসাধ্য।

www.linkhaat.com

জাজিরার এই সড়কটি ব্যবহার করে সৈয়দপুর, সিকদারকান্দি, বকচরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ জেলা সদরে যাতায়াতে এই সড়কটির উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন খানাখন্দে ভরপুর এই সড়কটিকে স্থানীয়রা মৃত্যু ফাঁদ বলেও আখ্যয়িত করেছে। চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত সড়কটিতে মেরামত করা জরুরি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাজিরা গ্রামের নিকটে বর্ষারচর বড় ব্রিজটি পার হলেই শুরু জাজিরা সৈয়দপুর সড়ক। সড়কটি অন্যান্ত সরু হওয়ায় দুটি রিক্সা ওভারটেকিং করতে পরেন বিপাকে। রাস্তাটিতে যেকোন পরিবহন উঠলে প্রতি সেকেন্ডে ঝাঁকুনি।

শরীরের আঘাত পাওয়ার চেয়ে গাড়ীসহ উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে যাত্রীদের মনে। জাজিরা কাচারিঘাট থেকে বেপারী বাড়ী পর্যন্ত কোথাও কোথাও ইটের চিহ্ন আছে। তবে সেখানেও খানাখন্দ। বেপারী বাড়ী পার হয়ে সৈয়দপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটির বাকী অংশে বহুখানাখন্দ। দুর দূরান্ত থেকে আসা লোকজন বাধ্য হয়ে অটো মিশুকে চলে। কিন্তু স্থানীয় বেশীরভাগ মানুষ এই সড়কে পাঁয়ে হেঁটেই চলে।

স্থানীয়রা বলছে এই রাস্তায় একবার যে চলাচল করবে দ্বিতীয়বার সে গাড়ীতে এই রাস্তায় চলাচল করবে না। একজন অসুস্থ রোগীকে এই পথ দিয়ে নেয়া ঝুঁকি। বাধ্য হয়ে নদী পথে রোগী নিয়ে তারা শহরে যান। আবার অনেকে রোগীকে কোলে কিংবা খাটে করে বর্ষারচর পর্যন্ত নিয়ে আসে। সেখান থেকে গাড়ী নিয়ে জেলা সদরে রওয়ানা করেন।

স্থানীয় বাসিন্ধা সুবেদ আলী বলেন, এই সড়কটি খুবই ঝুঁকিপূর্ন । রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝে মাঝে হালকা পাতলা সংস্কার হয়। রাস্তাটি ইটের তৈরী। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার কারনে দ্রুত রাস্তাটি যান চলাচলের অনুপুযুক্ত হয়ে পড়ছে। এই রাস্তাটি দ্রুত পিচ ডালাইয়ের সড়কে পরিনত করা খুব জরুরি।

গাড়ী চালক আলামিন জানান, দিনে অনেক গাড়ী উল্টে যায়। অটো মিশুক অনেক ঝুঁকি নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছি। বৃষ্টি আসলে কাঁদাজ্বলে গাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আধুনিক যুগে এমন সড়ক হয়তো জেলার কোথাও নেই। এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্ধাদের অভিযোগ,চেয়ারম্যান যায় চেয়ারম্যান আসে কিন্তু এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। বহু বছর আগের সড়ক এখনও রয়েছে আধাকাচা। খানাখন্দে ভরপুর সড়কটি কবে নাগাদ পিচ ডালাই হবে?

চেয়ারম্যানরা নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোন চেয়ারম্যানই এই সড়কটির উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। গ্রামকে শহরে পরিনত করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। দ্রুত এই সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারন মানুষের।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love