মুন্সীগঞ্জের মেঘনা তীরে বসেছে মা ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী হাট

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা তীরে বসেছে মা ইলিশ বিক্রির অস্থায়ী হাট

এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকেই বেপরোয়া জেলেরা মেঘনা নদীতে অবাধে নিধন করছে মা ইলিশ। ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ মাছ আহরন, পরিবহন, মজুদ , ক্রয়/ বিক্রয় আইনে নিষিদ্ধ হলেও মেঘনা তীরে বসে ইলিশ বিক্রির হাট।

অসাধু জেলেরা নদীতে মাছ ধরার সাথে সাথেই তীরে এনে বিক্রি করে দিচ্ছে। নিষিধাজ্ঞার এই সময়ে মা ইলিশ বিক্রির জন্য পদ্মা এবং মেঘনার বিস্তৃর্ন এলাকা জুড়ে গড়ে উঠে একাধিক ইলিশ বিক্রির হাট। প্রতিদিন ভোর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব হাটে চলে ইলিশ মাছ বিক্রি।

www.linkhaat.com

দিনপর পদ্মা, মেঘনার তীরে থাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড়। দিনভর মেঘনা ও পদ্মার তীরে অবাধে মাছ বিক্রি হলেও আজও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে করে বেপরোয়া জেলে, অসাধু মাছ বিক্রেতা এবং অসচেতন ক্রেতাদের কারনে ধবংস হচ্ছে জাতীয় সম্পদ ইলিশ।

সরেজমিনে পদ্মা ও মেঘনার তীরে গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনা নদীর চরঝাপটা এলাকায় মেঘনায় শত শত জেলেদের অবস্থাণ। তীরে মাছ কেনার অপেক্ষায় শত শত ক্রেতা। জেলেরা জাল ফেলে মাছ তুলে এনেই সেসব ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে।

বকচর এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, দুটি স্থানে প্রায় শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার তীরে ভিড়ে আছে। তাদেরকে ঘিরে রেখেছে দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা। জেলেরা একই জায়গায় ট্রলার নোঙ্গর করে জাল ফেলার প্রস্তুতি। নদীতে জাল ফেলে মাছ তুলে এনে তীরে বিক্রির কাজটি করছে। অস্থায়ী এসব হাটে জেলা এবং জেলার বাইরের ক্রেতাই বেশী। ক্রেতারা পছন্দমত মাছ কিনে নিচ্ছে।

তবে বেশীরভাগ ক্রেতাকে নানা কৌশল অবলম্বন করতে দেখা গেছে। ইলিশ মাছ পলিথিনে মুড়িয়ে বাজারের ব্যাগে ভরছে। ব্যাগের উপর সবজির রেখে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথের যাত্রা। অনেক ক্রেতারা আবার ওইসব গ্রামগুলোতে থাকা আত্নীয়দের বাড়ীতে অবস্থান করে।

জেলে পরিবারগুলো আত্নীয়দের মাধ্যমেও জেলার বিভিন্ন স্থানে মাছ বিক্রি করে। কালিরচর এবং চরআব্দুল্লাহ এলাকায় গিয়েও দেখাগেছে একাধিক মাছ বিক্রির অস্থায়ী হাট। নদীর তীরে থাকা ক্রেতাদের উপস্থিতি দেখে ক্রেতারা বিস্তৃর্ন নদীর তীরে মাছ এনে বিক্রি করে আবার নদীতে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ মাছ ক্রেতারা মুন্সীরহাট হয়ে মরমশুরা, আলিরটেক, জাজিরা হয়ে মিনাবাজারে আসে। সেখান থেকে দীর্ঘ ৩ কিলোমিটার পথ পাঁয়ে হেঁটেই ক্রেতারা মেঘনা নদীর এসব অস্থায়ী হাটে ছুটে যায়। এছাড়াও চিতলিয়া বাজার হয়ে ট্রলারযোগে বকচর যাচ্ছে মাছ কিনতে। পার্শবর্তী ইউনিয়নগুলোর গ্রামের লোকজনও ছুটে যাচ্ছে মেঘনা তীরে। ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে মেঘনা তীরে বহিরাগত লোকের আনাগোনায় গ্রামগুলো এখন লোকে লোকারন্য।

ইলিশ ক্রেতা শিউলি বেগম জানান, রাজধানীর ঢাকার মিরপুর থেকে আসছেন মাছ কেনার জন্য। তার এক আত্নীয়ের বাড়ী বকচর গ্রামে। তিনি ৫ হাজার টাকার ইলিশ কিনেছে। সে পাঁয়ে হেটে মাছ নিয়ে মিনাবাজারের দিকে যাচ্ছে। এসময় প্রতিবেদনও হেঁটে যাচ্ছে মিনাবাজারের দিকে।

পেশাগত দায়িত্ব হিসাবে মাছ কেনা তো অপরাধ প্রশ্নটি করা হলো। সোজা উত্তর , অপরাধ জানি, সারাবছর তো ইলিশ খেতে স্বাদ লাগে না। এখন নিজের চোখে দেখে টাটকা মাছ নিচ্ছি। যারা ধরে তাদের অপরাধ বেশী। আমরা যদি নাও কিনে নেই এইমাছগুলোতে আর অবিক্রিত থাকবে না। কেউ না কেউ কিনে নিবেই। নদীতে ধরা বন্ধ হলে কেনাও বন্ধ হবে। হাতের নাগালে পেলে সবাই চায় কমদামে কিনে খাইতে।

আরেক ক্রেতা শাহজাহান বলেন, ১৫শ টাকার মাছ কিনছি বাপু। এখন যে অভিযান এটা জানতাম না। এখন জানলাম এবং বুঝলাম । যদি বুঝেন মাছ কেনা অপরাধ তাহলে মাছগুলো ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে নেন। প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন। কিনছি তো কিনছি । কষ্ট করে পাঁয়ে হেঁটে মাথার ঘাম ফেলে এতোদূর আসছি। যা হওয়ার হবেই মাছ নিয়ে যাবোই। এছাড়ও একাধিক ক্রেতাদের এমন অসচেতনতামূলক কথাবার্তা বেশী শোনা গেছে তাদের মুখ থেকে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জেলে নৌকাগুলোকে মেঘনা এবং পদ্মা তীর থেকে বিতারিত করতে হবে। জেলেরা কোনভাবেই যেন নদীতে নামতে না পারে সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। মাছ বিক্রির অস্থায়ী হাটগুলোকে চিহ্নিত করে অভিযান চালাতে হবে।

মেঘনা এবং পদ্মা তীরবর্তী গ্রামগুলোতে নদী এবং স্থল পথে চেকপোষ্ট বসানো দরকার। এসব এলাকায় আগত পথচারি এবং পরিবহন যাত্রীদেরকে তল্লাসি করতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে জাতীয় সম্পদ ইলিশ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, সকালে বকচর এলাকায় অভিযান চালিয়েছি। লোকবল সংকটের মধ্যে দিয়ে আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং কোষ্টগার্ডের সদস্যরাও কাজ করছে। মাছ বিক্রির অস্থায়ী হাটগুলোতেও অভিযান চালানো হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997