স্বাধীন কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন

স্বাধীন কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে গ্রামীণ নারী দিবস উদ্যাপন

ঝিনাইদাহ প্রতিনিধি : নারী কৃষকের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ নারী কৃষক, স্বাধীন কৃষক সংগঠনের কৃষক নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিগণ।

১৫ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষ্যে জার্মানীর ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড এর অর্থায়নে ঝিনাইদহের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উন্নয়ন ধারার সহযোগিতায় গড়ে ওঠা স্বাধীন কৃষক সংগঠন এর ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা ও মাগুরা সদর অঞ্চলের উদ্যোগে ও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে মাগুরা জেলার সদর উপজেলার রাউতড়া হাইস্কুল প্রাঙ্গনে গ্রামীণ পর্যায়ে র‌্যালী, আলোচনা সভা, গ্রামীণ ঐতিহ্যসমূহ উপস্থাপন সহ নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে এ দিবস পালিত হয়।

www.linkhaat.com

গ্রামীণ খেলাধূলা, গ্রামীণ বীজ সংরক্ষণ, নারীদের হস্তশিল্প, পিঠাপুলির আয়োজন, গ্রামীণ নাচ-গান এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণে উক্ত দিবস পালিত হয়। স্বাধীন কৃষক সংগঠন-হাজরাপুর ইউনিয়নের সভাপতি মো: নাসিরুল ইসলাম বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীন কৃষক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খুরশীদ আলম রুবায়েত, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন ধারার নির্বাহী পরিচালক  ডা. মো: মসিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫ নং হাজরাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: কবির হোসেন, স্বাধীন কৃষক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোবারেক হোসেন মৃধা, স্বাধীন কৃষক সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: নূরুল ইসলাম; অর্থসম্পাদক মো: রবিউল ইসলাম সহ স্বাধীন কৃষক সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের স্তরের কৃষক নেতাকর্মীবৃন্দ।

গ্রামীণ নারীদের বহুমাত্রিক ভূমিকা ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য আন্দোলন চলছে যুগ যুগ ধরে। সমাজের অগ্রগতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান অনস্বীকার্য। কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র দূরীকরণের ক্ষেত্রে গ্রামীণ নারীর ভূমিকার প্রতি স্বীকৃতিস্বরূপ এবং পরিবার ও সমাজে গ্রামীণ নারীর অবস্থার মূল্যায়নের লক্ষ্যেই প্রতি বছর আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালন করা হচ্ছে।

গৃহস্থালীর সকল কাজের পাশাপাশি গরু-ছাগল-হাঁস-মুরগী-কবুতর পালন, বসতভিটায় শাক-সব্জি ও ফলমূল উৎপাদন, বীজ সংরক্ষণ, শস্য মাড়াই ও মাড়াই পরবর্তী কার্যক্রম, খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবারের খাবার টেবিল বা বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বেশিরভাগ কাজই নারীরা করে থাকেন। এমনকি খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়েও তাদের অবদান কম নয়। সরকার বা নীতিনির্ধারকগণ জাতীয় অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করলেও সেখানে গ্রামীণ নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

আবহমানকাল থেকেই সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রামীণ নারীর প্রতি বৈষম্য এবং টেকসই স্থায়িত্বশীল কৃষিতথা বিষমুক্ত নিরাপদ কৃষির সামগ্রীক উন্নয়নে নারীর অবদানকে যথাযথ মুল্যায়ন প্রদর্শন না করা ও স্বীকৃতি না দেওয়া যেন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

আর এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষিতে নারী কৃষকের কাজের স্বীকৃতির স্বপ্ন রয়ে যাবে অধরাই। তাই টেকসই ও নিরাপদ কৃষির জন্য রাষ্টীয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে কৃষিতে নারীর কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে নারী কৃষকের কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অত্যাবশ্যক। গ্রামীণ নারীদের কাজের মূল্যায়ন এবং সুযোগ সৃষ্টির ফলেই মিলবে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে নিষ্কৃতি এবং সম্ভাবনা থাকবে দেশের উন্নয়নের চুড়ায় পৌঁছানোর।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love