নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে মা ইলিশ নিধন

নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই মেঘনা নদীতে প্রকাশ্যে মা ইলিশ নিধন

এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: মেঘনা নদীর কিস্তৃত এলাকা জুড়ে নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিনেই প্রকাশ্যে ইলিশ মাছ শিকার করেছে জেলেরা। অনেকটা বেপরোয়া হয়ে গেছে স্থানীয় জেলেরা।

শত শত জেলে নৌকা বুধবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মেঘনা নতীর চর ঝাপটা, বকচর, চরআব্দুল্লা এবং কালিচর এলাকায় প্রকাশ্যে নদীর তীরে জাল নিয়ে অবস্থান করে।

www.linkhaat.com

দলবেধে জেলেরা কিছুক্ষন পর পর নদীতে গিয়ে দ্রুতগামী ট্রলারের মাধ্যমে জাল নদীতে ভাগিয়ে আবার তীরে চলে আসে। ১০ মিনিট পর গিয়ে আবার সেই জাল টেনে ডিম ওয়ালা ইলিশগুলো তুলে আনছে। আর সেই মাছ কেনার জন্য নদীর তীরে শত শত নারী পুরুষ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে।

নদীর তীরে জালসহ মাছ ধরার নৌকাগুলোর অবস্থান দেখলে মনে হবে ইলিশ ধরার মুখ্য সৌসুমেই জেলেরা মাছ ধরছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা ইলিশ মাছ নিধন করেই চলছে। নদী তীরবর্তী গ্রামের বাড়ীগুলোতে রাতের বেলা যেসকল জেলে নদীতে যাবে তারাও এক ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরেজমিনে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত নদীতে অবস্থান করে দেখা যায়, মেঘনা নদীর চরঝাপটা এলাকায় একদল জেলে দুপুর থেকেই মাছ ধরছে নদীতে। সেখানে শতাধিক জেলে নৌকাকে মাছ ধরতে দেখা যায় পুরো নদী জুড়ে। বিকেল ৪ টার দিকে নদীতে প্রশাসনের লোক নেমেছে এই খবরে জেলেরা নদীর তীরে জাল নিয়ে নৌকা নোঙ্গর করে রাখে। নদী থেকে প্রশাসনের লোক চলে গেছে ।

এমন খবর আসার পর পর আবারও জেলেরা নেমে পড়েন নদীতে। বিকেল ৪ টা থেকে পুরো মেঘনা নদীতে দেখা যায় জেলেদের কর্ম তৎপরতা। এরপর বকচর গ্রামের মেঘনা তীরে গিয়ে দেখা মিলে প্রায় শতাধিক জেলে নৌকার সাথে। জেলেরা নদীর তীরে নৌকা নোঙ্গর করে কারেন্টজালগুলো বাজ দিচ্ছে। যেকোন মুহুর্তে দ্রুতগামী ট্রলারের মাধ্যমে তারা নদীতে জাল ফেলে আবারও টান দিয়ে উঠিয়ে নিয়ে আসবে।

এক জায়গায় এতোগুলো জেলে নৌকা দেখে সামনে এগুতেই দেখা যায়, হঠাৎ করে নোঙ্গর করা জেলে নৌকাগুলো মাঝ নদীতে জাল ফেলে আবার চলে আসছে। এভাবে তারা প্রকাশ্যে মাছ শিকার করেই চলছে। নদীর তীরেও উৎসুক জনতা এবং মা ইলিশ ক্রেতাদের ছিলো উপচে পড়া ভিড়। এসময় কথা হয় স্থানীয় গ্রামগুলোর একাধিক নারী ও পুরুষদের সাথে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেঘনা তীরের একাধিক বাসিন্ধা জানান, প্রশাসনের লোক আসে আবার চলে যায়। আজকে ২০ মিনিট নদীতে কোন জেলে নামে নাই। নদীতে একটি সিবোট চলতে দেখে। বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে মাছ ধরা। এতো মাছ ধরার ট্রলার জালসহ নদীর তীরে কেমনে থাকে।

অভিযান দিছে সরকার কিন্তু জেলেরা তো জালসহ নদীতে আছেই। প্রশাসনের লোক এসে জাল এবং নৌকাগুলো আটক করেনা কেন ?

আরেক নারী জানান, রাতে একদল জেলে নদীতে নামবে তারাও প্রস্তুতি নিতাছে। মাছ কিনতে আসছে? এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক নারী ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, অভিযান দিলে আবার মাছ ধরে কেমনে। ধরে দেখেই তো কম দামে কিনতে আসছি। যারা ধরতাছে তাগো গিয়া জিগান। এ সময় একাধিক জেলের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সরকার চাল কি সব জেলেকে দেয়। মাছ তো ধরা নিষিদ্ধ ধরছেন কেন? এসময় একাধিক জেলে বলে এখন না ধরলে পড়ে এই নদীতে মাছ থাকবে না। সব জেলে নৌকাই তো মাছ ধরে আমরা কি একা ধরি। প্রশাসন সবাইকে বন্ধ রাখুক আমরাও বন্ধ রাখমু।

স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা অভিযোগ করে বলেন, কাগজে কলমে অভিযান। বাস্তবে এর চিত্র উল্টো। মুখের কথা নয় আপনার ভিডিও করে নিয়ে যান এবং ছবি তোলেন। নদীর তীরে মাছ ধরা , সারি সারি জেলে নৌকায় মাছ ধরার ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলেরা হঠাৎ করে ট্রলার নিয়ে নদীতে নামে। মাত্র ১০/১৫ মিনিটের ব্যবধানে সেঞ্চুরি করে চলে আসছে। বিস্তৃর্ন মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞার জেলেদের নৌকার সারি মাছ ধরার সুযোগ করে দিয়ে কয়জনকে ধাপরিয়ে ধরা যাবে?

জেলে নৌকাগুলো এই ২২ টা দিন আটক রাখলে তো এখন তারা বের হতে পারতো না। প্রশাসনের উদাশীনতায় শত শত জেলে নৌকা এখন মেঘনায় উন্মুক্ত। অভিযান সফল করতে সকল জেলে নৌকাগুলোকে তালাবন্ধ এবং মেঘনা তীরবর্তী গ্রামে যার যার বাড়ীতে জাল আছে এগুলোও জব্দ করতে হবে।

ইলিশের প্রধান প্রজনন সারাদেশে ইলিশ মাছ আহরন, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করন এবং ক্রয়- বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। কিন্তু মেঘনা নদীর জেলেরা এতো বেপরোয়া কেন। প্রশাসন একটু কঠোর হলেই সবই সম্ভব। নৌ পুলিশ, কোষ্টগার্ড তারা নদীতে ঝড়ের গতিতে আসে আবার ঝড়ের গতিতে চলে যায়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল বলেন, আজকে সকাল থেকে নদীতে অবস্থান করেছিলাম। জেলা মৎস্য অফিসের জনবল সংকট রয়েছে। তার পরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মা ইলশ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love