মুন্সীগঞ্জের পদ্মা – মেঘনায় মিলছেনা কাংক্ষিত রূপালী ইলিশ

এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: দিনরাত নদীতে ভেসেও রূপালী ইলিশের দেখা পাচ্ছেনা পদ্মা – মেঘনার জেলেরা। উপকূলীয় জেলাগুলোতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর পরিমান ইলিশ। কিন্তু মুন্সীগঞ্জের মেঘনা এবং পদ্মার ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ইলিশের বিচরন নেই বললেই চলে।

পদ্মা মেঘনায় প্রায় ১০ হাজার জেলে মাছ ধরার জন্য নদীতে অবস্থান করছে। রয়েছে একাধিক মৎস অবতরন কেন্দ্র সেখানে নদী থেকে ধরা ইলিশগুলো এনে জড়ো করা হয়। সারাদিন নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ ইলিশ পাচ্ছে জেলেরা। এমনটাই জানিয়েছেন পদ্মা মেঘনার জেলেরা।

www.linkhaat.com

আর মাত্র তিন দিন পর শুরু হবে নিষেধাজ্ঞার সময়। আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত এই ২২ দিন সকল প্রকার ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। গত বছরের এই সময়টাতে জেলেরা শত শত টন ইলিশ আহরন করিত । জেলেরা নদীতে ইলিশ না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ্য হয়ে বেকার সময় পার করছেন।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, পদ্মায় মেঘনায় ইলিশের দেখা না পেয়ে অধিকাংশ জেলে নৌকা উজানের দিকে এগিয়ে হাতিয়ায় অবস্থান করছে। সেখানে প্রচুর মাছ ধরা পড়লেও পদ্মা মেঘনার জেলেরা পাচ্ছেনা কোন ইলিশের দেখা। পদ্মা মেঘনার ৭০ শতাংশ জেলেই পদ্মা, মেঘনার উপর নির্ভরশীল।

ছোটঘাটো জেলেরা দূরের পথ পাড়ি দিয়ে সাগরের কাছাকাছি যেতে তেমন একটা উৎসাহী নয়। এর কারন হলো আরমাত্র দুই দিন পরই শুরু হবে নিষেধাজ্ঞার সময়। মেঘনায় ইলিশ না থাকায় মূলধন খাটিয়ে অনেক জেলে বেকার হয়ে পড়েছে।

তবে মুন্সীগঞ্জের তিন শতাধিক জেলে সাগরের কাছাকাছি হাতিয়া এলাকায় এখনও মাছ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুধুমাত্র পদ্মা মেঘনার জেলেরা নদীর ঘাটে ট্রলার ভর্তি জাল নিয়ে বেকার বসে আছে।

মেঘনার জেলে নূর উদ্দিন জানান, ৮/১০ জন জেলে নিয়ে গত দুইদিন ধরে নদীতে বার বার জাল ফেলেছি। দু”দিনে মাত্র ৪টি ইলিশ মাছ ধরেছি। গত বছর এই সময়ে প্রতিদিন লাখ টাকার বেশী ইলিশ পাইতাম। এবছরটাই খারাপ যাচ্ছে। কেন এমন হলো বুঝতে পারছিনা।

তিনি জানান,যার কারনে অনেক জেলেই কিন্তু নদীতে যাওয়া থেকে ফিরে এসেছে। মৌসুমী জেলেরাও এবার বিভিন্ন জেলা থেকে পদ্মা মেঘনায় এসেছে ইলিশ মাছ আহরনের জন্য। অনেকে আবার মাছ না পেয়ে নিজ এলাকায় ফিরে গেছে।

জেলেদের অভিযোগ, নদীর তলদেশ ময়লা আবর্জনায় জমে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। চারদিকে কলকারখানা গড়ে উঠেছে। আগে পানি হাতে নিলে মনটা ভরে যেতো। এখন পানি খাওয়া তো দূরের কথা হাত মুখ ধুতে গেলেও মনে হয় পুকুরের পানি ব্যবহার করতেছি।

কয়েক বছর আগেও গজারিয়ার মেঘনা মোহনা পর্যন্ত জাল ফেলেও ইলিশ ধরেছি। এবছর মেঘনা নদীর ২০ কিলোমিটার জুড়ে নেই কোন ইলিশ । গজারিয়া লঞ্চঘাট থেকে চাঁদপুরের মহনপুর সীমান পর্যন্ত এখন কোন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছেনা ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মন্ডল জানান, প্রতি বছর এই সময়টাতে জেলেরা প্রচুর ইলিশ শিকার করিত। বর্তমানে পদ্মা, মেঘনায় ইলিশের বিচরন কমে গেছে। নদীর দু”পাশে বিভিন্ন কলকারখানা গড়ে উঠেছে । কোথাও কোথাও নদীতে ডুবোচর, নদীর তলদেশে ময়লা আবর্জনা জমে নদী দূষন হয়েছে। একারনেই হয়তো এবার নদীতে ইলিশের বিচরন কম।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love