মুন্সীগঞ্জে কপি চারা উৎপাদনে লাভের মুখ দেখছে চাষিরা

এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: কপি চারা উৎপাদনে অন্যান্য ফসলের চেয়ে খরচ ও খাটুনি দুটোই কম। উৎপাদন খরচ কম তাই মুন্সীগঞ্জে কপির চারা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা ।

কপি চাষে এবার লাভের আশা করছেন কৃষকরা। বেশ কয়েক বছর ধরে কৃষকরা চারা উৎপাদনে লাভের মুখ দেখায় এবারও বিপুল পরিমান জমিতে বাঁধা কপি, ফুলকপির চারা রোপন করেছে কৃষরা। সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপি শীতের মুখ্য ফসল।

www.linkhaat.com

এই মৌসুমে অনাবাদী ও উঁচু জমিতে আগাম কপির চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাচা পদ্ধতির মাধ্যমে ভাদ্র মাসেই তারা চারা তৈরি শুরু করেন। এরপর আশ্বিনের শুরু থেকেই কপির চারা বিক্রি শুরু করেন।

সরেজমিনে কৃষি জমিগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, সিরাজি, সাতাত্তুর, দেশী হাইট্রা, দেশী পৌষা, হেমাদি, ফ্রেশসহ বিভিন্ন জাতের ফুলকপি ও বাঁধা কপির চারা উৎপাদন করেছে জেলা সদরের পঞ্চসার, রামপাল, বজ্রযোগিনী, পার্শবর্তী টঙ্গিবাড়ী উপজেলার যশলং, কে-শিমুলিয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। চারা বিক্রি শুরু করে দিছে কৃষকরা। চারা কিনতে সাভার, বলিরামপুর, চাঁদপুরের মতলব এবং বান্দরা থেকে পাইকাররা কৃষকের জমিতে চারা কেনার জন্য দর কষাকষি করছেন।

কয়েকদিনের বৃষ্টির কারনে চাষিদের চারা রোপনে ১০/১৫ অপেক্ষা করতে হয়েছিলো। এখণ চাষা রোপনের সময় তাই চারা উৎপাদনকারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন।

কপির চারা উৎপাদনকারী কৃষক ইলিয়াস দেওয়ান জানান, জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চারা কেনার জন্য পাইকাররা আসতে শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই চারা বিক্রি শেষ হবে। প্রথম ধাপে উঁচু জমিতে এ জেলার চাষিরাও রোপন করবে এই কপির চারা।

মুন্সীগঞ্জ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের প্রায় ৬টি জেলায় বিক্রি হয় মুন্সীগঞ্জে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার কপির চারা। তিনি আরো জানান, দ্বিতীয়ভাপেও জেলা এবং জেলার বাইরে বিক্রি হবে কপির চারা। পনেরদিন আগে রোপন করা চারা ১৫ দিন আগে বিক্রি। আর যেগুলো ১৫ দিন পরে চারা করতে দিয়েছি সেগুলো ২৫ দিন পর বিক্রির উপযোগী হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: শাহ আলম জানান, এবার কপির চারার ব্যাপক চাষ হয়েছে। দাম ও ফলন দুটোই ভালো হওয়ায় কৃষকদের বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ অন্যান্য সবজির চারা উৎপাদনে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love