মুন্সীগঞ্জে সোনালী ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষানীরা

এম এম রহমান: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বাংলাবাজার এবং শিলই ইউনিয়নের পদ্মার চরে ফসলের মাঠ জুড়ে ছড়িয়ে আছে ধানের সোনালি আভা। দখিণা বাতাসে দোল খেতে খেতে দেশের প্রধান এ খাদ্য শস্য হাঁসি ফুটিয়েছে কৃষকদের মুখে, বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের ব্যস্ততা।

কৃষকদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষানীরাও। বন্যা এবং অতি বৃষ্টির কারনে চিন্তিত থাকার পরও কষ্টে সৃজিত ফলন আনন্দ-চিত্তেই ঘরে তুলছেন কৃষক।

www.linkhaat.com

চরের বিভিন্ন স্থানে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে , আমন, হাইট্রা, শাহী বালাম ধানের বাম্পার ফলনের চিত্র। প্রকৃতি এ বছর দ”ুহাত ভরে দিয়েছে কৃষকদের। আবহাওয়া ছিল অনুকূলে, ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো। পেকেছে মাঠের ধান তাই ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথেই শুরু হয় ব্যস্ততা।

স্বর্ণ রঙে পাকা ধান কাটতে শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কাস্তে হাতে মাঠে ছোটেন কৃষক। ধান কাটা আর আঁটিবাঁধা শেষে মাথায় বোজা নিয়ে যাচ্ছে বাড়ির উঠোনে অথবা সুবিধাজনক স্থানে। প্রতিটা কৃষক পরিবারেই এখন নতুন ধানের গন্ধ। মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধান কাটা উৎসব।

বাড়িতে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। আর এসব কাজে কৃষকদের পাশাপাশি ব্যস্থতা বেড়েছে কৃষানীদেরও। সাংসারিক কাজের ফাঁকেও কৃষানীরা অনেকে মাড়াই করা ধান চিটা এবং মরা ধান বাছাই করার জন্য দক্ষিনা বাতাসে উঁড়াচ্ছে ধান। কৃষকরা মাছে আর কৃষনীরা বাড়ীতে ধান সিন্ধ করা, শুকানো এবং চিটা পরিস্কার কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

বাহের চর গ্রামের মাহবুব বলেন, এবছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারনে তিনি তার বাবাকে সাহায্য করছেন ধান মাড়াই ও খড়কুটা শুকাতে। তার মাও একজন নারীকে নিয়ে ধান পরিস্কার করছেন দক্ষিনা বাতাসে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক খুঁজে পাওয়াটাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। শ্রমিক পাওয়া গেলেও শ্রমিকদের মজুরি দেড়গুন বেশী দিতে হয়।

এজন্য অনেক স্কুল পড়ুয়া ছেলে মেয়েরাও ধান ঘরে তুলতে সাহায্য করছে পিতামাতাকে।

কৃষক তোফাজ্জল বলেন, ভালো বীজ ছিলো তাই ভালো ফলন হয়েছে। এবছর ধানের জমিতে কোন ধরনের রোগ বালাই হয়নি। সরকারী কোন বীজ বা সহায়তা পান কিনা? এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারী বীজ যার দরকার সে একবারও পায়না। যার দরকার না সে তিনবারও পাইছে। সরকারী সহায়তা পেলে ধান চাষে আমাদের খরচ কম হতো তাতে লাভবান বেশী হইতাম।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love