রায়পুরায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, পলাতক লম্পট সৈকত

রায়পুরা ঘুরে এসে রাহুল রাজ : নরসিংদীর রায়পুরায় প্রেমিককে দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নুসরাত ইমরোজ লিজা (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। লিজা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নার্সিং বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে রায়পুরা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড মেরাতলী গ্রামের মো.আসাদুজ্জামানের জেষ্ঠ্য মেয়ে লিজা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। চার ভাই বোনের মধ্যে লিজা ছিলেন সবার বড়।

www.linkhaat.com

আত্মহত্যার আগে লিজা তার ফেইসবুকে সৈকত নামে একটি ছেলেকে দায়ী করে দুটি স্ট্যাটাস দেয় এবং নিকট আত্মীয়দের ম্যাসেঞ্জারে জানিয়ে যান সৈকত তার প্রেমের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছে, নিজের মৃত্যুর পরে সৈকতের বিচার চেয়ে যান লিজা। সৈকত ঢাকা মিরপুরে জাপান বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ৩য় বর্ষের ছাত্র।

লিজার বাবা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার দিন বড় ভাইয়ের বাড়িতে পারিবারিক দাওয়াতে যায় পুরো পরিবার। লিজা সবাইকে রেখে আগেই বাড়ি চলে আসে। আধ ঘন্টা পর বাড়িতে এসে ঘরের দরজা জানালা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পাই। অনেক ডাকাডাকির পরও কোন সাড়া শব্দ না পেলে দরজা ভেঙ্গে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই।

খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেন। রায়পুরা থানার তদন্তকর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে লাশের সুরতহাল শেষে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ব্যাপারে থানায় ৩০৬ ধারায় সৈকতকে আসামী করে একটি মামলা হয়েছে।

লিজার ছোট ভাই আলামিন জানান, লিজা মিরপুরে থাকাকালীন জাপান বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্র সৈকতের সাথে তার বোনের পরিচয় হয়। লিজা কুমিল্লা ভর্তি হলেও সৈকতের সাথে যোগাযোগ ছিল। এদিকে ঘটনার পর থেকে সৈকতের ০১৫….. নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সেই সাথে নিজের ফেসবুক আইডি সৈকত ডিএকটিভ করে দিয়েছে সে। জাপান বাংলাদেশ নার্সিং ইনস্টিটিউটে সৈকতের সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জ।

ঢাকায় মিরপুরের শাওড়া পাড়ায় একটি বাড়িতে সৈকত ভাড়া থাকে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু লিজা তার প্রেমে প্রতারণার সিকার হয়নি। অতীতেও অনেক মেয়েকে সে নিজের প্রেমে ফেলে তাদের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করে ঘনিষ্ট মুহুর্ত মোবাইলে ধারণের মাধ্যমে ব্লাকম্যালিং করে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা হাতিয়ে নিত।

লিজা রবার স্কাউট, মেয়েদের ফুটবল- ক্রিকেট ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠকের সাথে নিবিড় ভাবে জড়িত ছিলেন। লিজার মৃত্যু কিছুইতে মেনে নিতে পারছে না মা, বাবা, আত্মীস্বজন ও প্রতিবেশীরা। লিজার বাবা মো. আসাদুজ্জামান কান্না ভেজা কণ্ঠে অভিযুক্ত সৈকতের যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love