মুন্সীগঞ্জ সদরে একাধিক সরকারী খাল প্রভাবশালীদের দখলে

এম.এম.রহমান, মুন্সীগঞ্জ: এক সময়ে এই জনপদের পদ্মা, মেঘনা ও ধলেশ্বরী নদীতে পাল তোলা ও দাড় টানা নৌকায় যাতায়াত করতো মানুষজন। নদীর প্রবাহ বয়ে যেত জেলার ছোট বড় খাল দিয়ে। গ্রামের পর গ্রামকে স্পর্শ করে এক নদীর সঙ্গে আরেক নদীর সংযোগও ছিল এই খাল।

বিয়ের বরযাত্রী থেকে শুরু করে বউ ঝিদের নায়ৈর যাওয়াসহ হাট-বাজার করে নৌকায় বাড়ি ফিরার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই খাল। কালের বিবর্তনে তা আজ হারিয়ে গেলেও এইতো কয়েক বছর আগেও এই সব খাল দিয়ে বালুর ট্রলার বা ছোটখাটো ট্রলার বা নৌকা চলাচল করতো।

www.linkhaat.com

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সে সব সরকারী খাল প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় এখন তা অস্তিত্বহীন হয়ে পরেছে। মুন্সীগঞ্জ শহর ও শহরের বাইরে অন্তত ৬টি সরকারী ছোট বড় খাল রয়েছে। এদের মধ্যে ৪ টি খাল প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে গেছে।

বাকী খাল গুলো পলিমাটি জমে শুকনো মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে। রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা এই খালের অবৈধ দখলদার। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা আস্থে আস্থে মাটি ভরাট করে দখলে নিয়েছে ছোট বড় ৬ টি খাল। এসব খালের তালিকা বা দখলদারের বিষয়ে কোন তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট অফিসে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগেও পৌরসভা ও পাশ্ববর্তি ইউনিয়নের ভিতরে ও বাইরে কমপক্ষে ৬ টি খালের অস্তিত্ব ছিল। তখন থেকে দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়ে বর্তমানে সবকটি সরকারী খাল প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। দু” একটির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেলেও সেগুলো আর খাল নেই। ক্যানেলের চেয়ে সরু হয়ে গেছে । এতে করে শহরে জলাবন্ধতা বাড়তে শুরু করেছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ শহর ও পার্শবতী উপজেলার সরকারী খালগুলো পর্যায়ক্রমে প্রভাবশালীরা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে মার্কেট, বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানপাট ইত্যাদি। শুধুমাত্র শহরের ভিতর দিয়ে ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীতে যোগাযোগের একাধিক খাল দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা।

এসব খালগুলো হলো গনকপাড়া-মিরেশ্বর খাল, এটা বর্তমানে নতুনগাঁও এলাকার পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনে দিয়ে নয়াগাঁও চলে গেছে। মিরেশ্বরাই খাল, নয়াগাঁও খাল, পঞ্চসার খাল, মালিরপাথর খাল যে খালটি ধলেশ্বরী নদী থেকে সরাসরি মালির পাথর, মাদবর বাড়ী, আধারিয়াতলা, দশকানি হয়ে শেষ পর্যন্ত কেওয়ার হয়ে কাঁটাখালি এসে মিশেছে। যার দৈর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

এখন আর সেই খালের কোন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। প্রমান হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে ছোট ছোট কালবার্ট আর ব্রিজ এই খালগুলোর কালের স্বাক্ষী হয়ে। অন্যদিকে মালির পাথর খালটি দখল করে গড়ে উঠেছে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

মালির পাথর এলাকার বাসিন্ধা আবুল মোল্লা জানান, এই খাল দিয়ে আমরা কয়েক বছর আগে বড় বড় নৌকা নিয়ে হাট-বাজারে যেতাম এখন প্রভাবশালীরা ভরাট করে দখল করে নিয়েছে।

আরেক স্থানীয় যুবক হাসান বলেন, ছোটবেলায় এই খালে সাঁতার কাটতাম এখন আর খাল নেই। চলে গেছে খালটি দখলদারদের পেটে। খালটি উদ্ধারের ব্যাপারে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এলাকাবাসীর দাবী শহরের সরকারী খালগুলো পুণঃ উদ্ধার করে জনস্বার্থে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হউক। তিনি বলেন এসব সরকারী খাল দখলদারদের তালিকায় রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, আওয়ামী লীগ, বিএনপি সহ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা।

উপজেলা সহকারী ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন চমক নিউজকে বলেন, খালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। যদি অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো পূণ:উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love