শাপলা বিক্রি করে চলছে আমেনা বেগমের জীবন জীবিকা

এম এম রহমান, মুন্সীগঞ্জ: জীবন যুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে হাল ছাড়েনি ৬৫ বছরের বৃদ্ধা আমেনা বেগম। বর্ষার এই সময়টাতে তিনি বিল থেকে শাপলা তুলে তা বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করেন। প্রতিদিন বিকেলে উিপজেলার পুরা বাজারে শাপলা বিক্রি করেন তিনি। এই শাপলা বিক্রির টাকা দিয়েই তিনটি নাতি /নাতনির মুখে খাবার তুলে দেন এই বৃদ্ধা।

স্থানীয়রা জানান, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার যশলং ইউনিয়নের দরজারপার গ্রামের সোহরাব হোসেন স্ত্রী আমেনা বেগম। স্বামী বহু বছর আগেই অন্য একজনকে বিয়ে করে চলে গেছে। আমেনার ২টি ছেলে এবং একটি মেয়ে। ছেলে দুইটা বিয়ে করে যার যার সংসার নিয়ে আছে। ছেলে সন্তানরা মাকে দেয়না কোন ভাত কাপড় ।

www.linkhaat.com

কোনদিন মনেও ভূলেও নেয়নি বৃদ্ধ মায়ের খবর। একটি মেয়ে ছিলো তাকেও ভালো ঘরে বিয়ে দিয়েছিলো সুখের আশায়। কিন্তু ওই মেয়ের সংসারে তিনটি সন্তান রেখেই তার মেয়ের জামাতা আবারও বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। তিনটি সন্তান নিয়ে বৃদ্ধ মায়ের কাছে চলে আসেনার আমেনার মেয়ে।

আমেনার নেই কোন জমিজমা। থাকেন রাস্তার পাশে সরকারী খালের উপর টং ঘর নির্মিাণ করে। মেয়েটিও ১ বছর আগে কর্মের সন্ধানে পাড়ি জমিছে দেশের বাইরে। বর্তমানে তিনটি নাতি/ নাতনি নিয়ে বৃদ্ধা আমেনার সংসার চলে অতি কষ্টে।

আমেনা শুকনো মৌসুমে কৃষকদের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে আর বর্ষা মৌসুমে বিক্রি করেন শাপলা। শুধু তাই নয় বৃদ্ধা হলেও পায়না বয়স্কভাতা। নেই কোন সরকারী সাহায্য সহায়তা কার্ডও। স্থানীয় গ্রামবাসীরা মাঝে মাঝে আমেনাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করলেও সেটা তার যথেষ্ট নয় বলেও জানান স্থানীয়রা।

আমেনা বেগম জানান, সকালে বাসা থেকে বের হয়ে বিল থেকে শাপলা তুলে নিয়ে আসি। বিকেলে পুরা বাজারে বিক্রি করি। প্রতিদিন দেড় দুইশ টাকা আয় হয় তা দিয়েই চলি। এছাড়াও সারাবছর কৃষকদের জমিতে শ্রমিকের কাজ করেই সংসার চালাতে হয়।

সরকারী কোন সাহায্য সহায়তা তাকে দেয়া হয়নি দাবি করে তিনি আরো বলেন, চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে অনেক ঘুরেছি বয়স্কভাতা কার্ড করার জন্য। এবছর সরকারী সাহায্য বলতে করোনার সময়ে ৫ কেজি চাল পেয়েছি। বৃদ্ধ বয়সে আর পারছিনা।

নাতি নাতনিদের নিয়ে সামনের দিনগুলো কেমনে চলবো ? থাকার কোন জায়গা নেই। খালের উপর কোন মতে টং ঘর তুলে কোনমতে দিন পার করতেছি। সরকার যদি কোন সাহায্য সহযোগিতা করিত তাহলে এই বৃদ্ধ বয়সে একটু স্ব:স্থি পাইতাম।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ হাসিনা আক্তার বলেন, বৃদ্ধ আমানাকে উপজেলা কার্যালয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। তার যদি থাকার ঘর না থাকে ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবো।

তার যদি জমি না থাকে তাহলে আমরা তাকে সরকারী খাস জমি দিবো। আমরা এই বৃদ্ধ নারীর স্বচ্ছলভাবে জীবন যাপনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love