অচিন্তপুর ইউনিয়ন- শ্বশুর-জামাইসহ ১৪ প্রার্থী

গৌরীপুর প্রতিনিধি শেখ বিপ্লব : নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ঘোষনা পর পরেই ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী উত্তাল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আবার জমতে শুরু করেছে পাড়া মহল্লা ও মোড়ের চায়ের দোকানগুলো। আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইতে শুরু করেছে কোন প্রার্থী কোন দলের কতটুকো নিবেদিত আবার কে উড়ে এসে জোড়ে বসেছে। শেষ অবধি কে টিকবে এ নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনা চলছে অচিন্তপুরের হাটে-ঘাটে-মাঠে।

www.linkhaat.com

ইতিমধ্যে প্রায় স্বতন্ত্রসহ প্রায় ১৪ জন প্রার্থী এখন মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছে। এবার একটু আগে ভাগেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন। চষে বেড়াচ্ছেন ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, করছেন গনসংযোগ, সাধ্যমত করছেন সামাজিক কাজ কর্ম।

সরে জমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত নির্বাচনে এই ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হন গৌরীপুর সরকারী কলেজেরে সাবেক ভিপি অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম (অন্তর)।

এলাকার ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখতে গিয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন বলে এলাকাবাসী জানায়। তারা আরো জানায়, রাজনৈতিক অন্তঃদন্ধ ও অনিয়মেরন কারনে সাধারন ভোটার ও নেতা কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে তিনি সরকারী অনুদানসহ নিজস্ব অর্থায়নের ইউনিয়নের কর্মহীন মানুষের মাঝে নিজে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ত্রান পৌছে দিয়েছেন।

ইউনিয়নবাসীর করোনা পরিক্ষায় স্ব-উদ্দ্যোগে রোগী আনা নেয়ার জন্য ফ্রি এ্যাম্বল্যান্স সার্ভিস চালু করেন। ইউনিয়নের প্রতিটি হাট-বাজারে প্রতিনিয়ত মাস্ক বিতরন করেছেন। করোনা মহামারীতে শ্রমিক সংকটের কারনে ইউনিয়নের কৃষকরা ধানকাটা ও মারাই নিয়ে যখন সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল তখন চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম যুবসামাজ নিয়ে ধান-কাটাও মারাই কাজে সহযোগীতা করে।

ভিজিএফ,ভিজিডি সুবিধা ভোগীদের জন্য সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সুবিধা গ্রহনের ব্যবস্থা করা। তারা আরো জানায়, চেয়ারম্যান শহিদের হারিয়ে যাওয়া জনপ্রিয়তা এখন অনেকটাই পুনঃরোদ্ধা হয়ে গেছে। এ ভাবে কাজ করতে থাকলে খুব দ্রুত তার হ্রাস পাওয়া জন প্রিয়তা পুনঃরোদ্ধার সম্ভব এবারও তিনি নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপর দিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই আহম্মদ উল্লাহ গত নির্বাচনে পরাজিত হবার পরে থেকেই তিনি ইউনিয়ন বাসীর সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন। এ বছরও তিনি নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অচিন্তপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আঃ রাজ্জাক ও জামাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরবানু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জয়নাল আবেদীনও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সোহেল তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। অচিন্তপুর ইউনিয়ন সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও পাছার সামাদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ মাজাহারুল ইসলাম রিপন তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও ইউপি সদস্য মোঃ আবুল হাসেম (মেম্বর) তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে বিভিন্ন জনকল্যান ও উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।

সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুন সমাজে সেবক মোঃ জাকির হোসেন জিয়া বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে অব্যহত রেখে একটি মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যায় নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত কাজ করে যাচ্ছেন তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।

গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক, ভাষা সৈনিক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুস সামাদের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জহিরুল ইসলাম ছোটন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যশী।

তালে হোসেন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল হাশেম মাস্টার তিনিও নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী।এ ব্যাপারে আ,লীগ নেতারা জানায়, তিনি কবে কখন কোথায় আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন তা আমাদের জানা নেই। বিগত সময় আমরা দেখেছি তিনি বিএনপি‘র সকল কর্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল। হঠাৎ করে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। পাচকাহনিয়া গ্রামের মৃত- মেহের আলীর ছেলে আজিজুল হকও নৌকার প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপর দিকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী শহিদুল ইসলাম অন্তর নৌকা প্রতিকের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করে ৬ শতধীক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এর পর থেকেই তিনি পাড়া মহল্লা চষে বেড়াচ্ছে। তার জন প্রিয়তার কোন কমতি ঘটেনি।

উপজেলা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক, ময়মনসিংহ (উঃ) জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম তালুকদার তিনিও এ বছর ধানের শীষ প্রতিকের মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অপর দিকে মহিষ্মরন গ্রামের মৃত- মনির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে।

ইউনিয়নের ভোটারদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, নির্বাচন মানেই গনতন্ত্রের উৎসব আমরা এটাকে উৎসবের মতই পালন করি। এবার নির্বাচনের সম্ভব্য তারিখ ঘোষনার শুরুতেই এ ইউনিয়নে প্রার্থীদের হিড়িক পড়েছে। আরো নতুন মুখ আসার সম্ভবনা রয়েছে।

এ/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love