বদলগাছীতে নাটকীয় ভাবে ভূয়া নিয়োগ বোর্ডে বসিয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ

খালিদ হোসেন মিলু বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে ‘শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে’ ভূয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নাটকীয় ভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার নামে চরম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে।

করোনভাইরাসের মধ্যে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিমিয়ে গোপনে মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষককে নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করা হয়েছে। তিনি উপজেলার ‘পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের’ সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

www.linkhaat.com

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় ‘শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়’ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিদ্যালয় বন্ধ থাকার মধ্যেও গত ২৪ মার্চ তারিখে নিয়োগ বোর্ড দেখিয়ে মিজানুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টি বন্ধ থাকায় অত্যান্ত গোপনে ভ‚য়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

যেখানে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ছিলেন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দুলাল হোসেন, সদস্য সচিব ছিলেন সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জিল্লুর রহমান, ডিজির প্রতিনিধি নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিলিমা আক্তার এবং নুনুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ।

শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা ওই বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও জমিদাতা ফেরদৌস হোসেন, সহ-গ্রন্থাগারিক আব্দুস সামাদ ও পিয়ন নাজমুল বলেন, ২৪ মার্চ তারিখে স্কুল বন্ধ ছিল। করোনা ভাইরাসে কারণে কড়াকড়িভাবে লকডাউন চলছিল। তাই স্কুল খোলা হয়নি।

যেহেতু স্কুল বন্ধ ছিল, তাই নিয়োগের কোন কিছুই স্কুলে করা হয়নি।

ভূয়া নিয়োগের রেজুলেশনে কেন স্বাক্ষর করলেন বিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২৪ মার্চ করোনারভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ ছিল। শুধু বিদ্যালয় কেন, কোনো জায়গাতেই ওইদিন নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়নি। ভূয়া বোর্ড গঠন করে আলাদা আলাদাভাবে সবার স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

তিনি আরো বলেন, যদি রেজুলেশনে স্বাক্ষর না করতাম তাহলে অবসরে যাওয়ার পর শিক্ষক মিজানুর রহমান আমার অবসর ফাইলে স্বাক্ষর করবে না বলে হুমকি দেন। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তারিখ না দিয়েই স্বাক্ষর করি।

বোর্ডের সদস্য নুনুজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ বলেন, নিয়োগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কিছু জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন।

অভিযুক্ত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগের বিষয়টি নিয়োগ কমিটির। যথাযথভাবেই তারা নিয়োগ দিয়েছেন। গত ১০ মে বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। তবে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল কাশেমকে হুমকি দেয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা। এছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে স্বাক্ষাতে দেখা করতে বলেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দুলাল হোসেন ভূয়া নিয়োগ বোর্ডের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ২৪ মার্চ তারিখে স্কুলে নিয়োগ বোর্ড হয়েছিল। তবে প্রার্থী কয়জন ছিল তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
ডিজির প্রতিনিধি নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিলিমা আক্তার বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিনে বিদ্যালয়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জিল্লুর রহমান বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেখে এবং বিধি মোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসব নিয়োগ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন। আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে যাই। একজন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেতে অনেক কাঠখরি পোড়াতে হয়।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love