মৃত গৃহবধূর বিবাহবার্ষিকী ছিল আজ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: চার বছর আগে আজকের এই দিনেই ভালোবেসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন তাসমিম মিম। মিমের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কামিরহাট। পিতার নাম মহিবুল আলম। ছেলে একই জেলার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার জিন্না মোল্লার ছেলে এজাজ আহমেদ বাপ্পি।

www.linkhaat.com

আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ছিলো দুজনের চতুর্থ তম বিবাহবার্ষিকীর দিন। ১৬ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আই সি ইউ তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গৃহবধূ তাসমিম মিম।

২০১৬ সালে বিয়ের পর থেকেই স্বামী-সংসার নিয়ে মিমের দিনকাল বেশ ভালই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এরই মধ্যে স্বামী বাপ্পি ও শাশুড়ি কোহিনুর মোটরসাইকেল যৌতুক দিতে হবে বলে দাবি করেন।
এতে গৃহবধূ মিমকে উঠতে বসতেই প্রায় প্রতিদিনই শুনতে থাকেন নানান ধরনের কথা।

একপর্যায়ে গত ১ সেপ্টেম্বর স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনে গুরুত্ব আহত হলে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক অবস্থার অবনতি চিকিৎসকের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আই সি ইউ তে ভর্তি করা হয় ২ সেপ্টেম্বর। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে মৃত্যু বরণ করেন মিম।

মিমকে নির্যাতনের বিষেয় গত কয়েকদিন আগে দৌলতপুর থানায় মিমের পিতা মহিবুল আলম বাদী হয়ে অভিযোগপত্র তার পক্ষে মিমের খালাতো ভাই অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ না নিয়ে ফেরত দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মিমের পরিবারের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে মিমের পরিবারের বলেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে প্রথমে অভিযোগ নেননি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি নিশিকান্ত সরকার। আমাদের এক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোন দিলে তারপর অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়।

এ ব্যাপারে মিমের স্বামী অভিযুক্ত এজাজ আহমেদ বাপ্পির সঙ্গে মুঠোই ফোনে যোগাযোগ করা তার মুঠোই ফোনটি বন্ধ পা্ওয়া গেছে।

দৌলতপুর থানার (ওসি) জহুরুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোই ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কালই যোগদান করেছি। আবারও অভিযোগ দিতে বলেছি। মিমের পরিবার অবশ্যই বিচার পাবেন।

স/ পলাশ

Print Friendly, PDF & Email