মুন্সীগঞ্জে পদ্মার চরে বাসিন্ধারা পথ পাড়ি দেয় পায়ে হেঁটে

এম এম রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে পদ্মার চরে গ্রামগুলোতে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামবাসীদের পোহাতে হয় সীমাহীন দূর্ভোগ।

www.linkhaat.com

চরে বসবাসকারী মানুষগুলো হাট বাজার কিংবা উপজেলা সদরে যেতে প্রতিদিন হাঁটেন মাইলের পর মাইল পথ। পরিবহন হিসেবে গ্রামের স্বচ্ছল মানুষগুলো যাতায়াত করেন ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল। নিম্ন আয়ের মানুষের পায়ে হেঁটেই প্রতিদিনের যাতায়াত ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানাগেছে, মুন্সীগঞ্জর সদর উপজেলার শিলই ইউনিয়নটি ১৯৮৮ সালে নদী ভাঙ্গনের ফলে ৭০শতাংশ ফসলি ভূমি এবং ৬টি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়। ইউনিয়নটিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করে পদ্মার শাখ নদী । ভাঙ্গনের প্রায় ৭ বছর ওই ভাঙ্গন এলাকায় পলি জমে বিশাল চরের সৃষ্টি হয়।পদ্মার পলি মাটি উর্বর হওয়ায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পদ্মার চরে চাষাবাদ পাশাপাশি বসবাস করতে শুরু করেন।

পদ্মা নদীর উত্তরে বর্তমানে শিলই ইউনিয়ন পরিষদ। সেখানকার ৭টি গ্রামের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও পদ্মার দক্ষিনে চরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। চর বেহারপাড়া ও চর শিলই গ্রামের মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় কিংবা জেলা সদরে যাতায়াতে দুটি পথ ব্যবহার করেন।

একটি হলো পার্শবর্তী বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাংলাবাজার হয়ে সর্দারকান্দি রুটে। অন্যটি হলো পার্শবর্তী টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় বাজার হয়ে শিলই। চরে গাড়ী চলাচলের উপযোগী কোন সড়ক ব্যবস্থা না থাকায় চলেনা কোন গণপরিবহন। সেখানকার মানুষগুলো জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করেন পায়ে হেঁটেই। গ্রামের স্বচ্ছল পরিবারগুলো চলাচল করেন ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলে ।

সেখানে মোটর সাইকেল চালকরাও তাদের সুবিধামত আদায় করছেন অতিরিক্ত ভাড়া। ৪/৫ মিনিটের রাস্তার জন্য জনপ্রতি ৫০- ৭০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে তারা। নারী পুরুষ কিংবা বৃদ্ধ সকলেই জরুরি প্রয়োজনে গাগাগাদি করে চড়েন মোটর সাইকেলে। কেউবা ভাড়ী মালামাল নিয়েও। পদ্মা চরের মানুষদের বাংলাবাজার কিংবা দিঘিরপাড় হয়ে চলাচল করলেও পাড়ি দিতে হয় পদ্মার শাখা নদী।

সারাবছর পদ্মা এই নদীতে থাকে তীব্র স্রোত । ফলে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়েই চালকরা প্রতিনিয়ত যাত্রী পারাপার করে থাকেন। তাছাড়া চরের মানুষগুলো দৈনন্দিন বাজার সদাই, কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার, বীজ,কিনটানশক ক্রয়ের জন্য টঙ্গিবাড়ী উপজেলার দিঘিরপাড় বাজারের উপর বেশী নির্ভরশীল।

স্থানীয়রা জানান,বিস্তৃর্ন চরের ছোট বড় গ্রামগুলোতে ঘরে ঘরে পৌছে গেছে বিদ্যুত । এছাড়াও পদ্মার চরে রয়েছে সরকারী একটি আশ্রয়ন প্রকল্প । সেখানেও ১২০ টি পরিবার বসবাস করেন। সেই আশ্রয়ন প্রকল্পের রাস্তাটি শিলই গ্রাম বরাবর পদ্মা নদীর তীর পর্যন্ত গাড়ী যানচলাচলের উপযোগী করলে তাদের যাতায়াত সহজ হতো।

কিন্তু সেই কাঁচা রাস্তাটিরসহ চরের অন্ত: যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করায় দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়েছে চরবাসীরা। যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ত হলে চরের কৃষকরা যথা সময়ে তাদের উৎপাদিত আলুসহ অন্যান্য সবজি বাজারজাত কিংবা হিমাগারে যথাসময়ে সংরক্ষন করতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি কুষকের জমিতে ব্যবহৃত সার,বীজসহ কৃষি উপকরন সহজেই পরিবহন করতে পারবে।

অন্যদিকে ২০ হাজারেরও অধিক জনসংখ্যার এই ইউনিয়নটি পার্শবর্তী ইউনিয়নগুলোর সাথে ছিলো অনেকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ২০১০ সালের পরবর্তী সময়ে পার্শবর্তী বাংলাবাজার, আধারা, মোল্লাকান্দি ইউনিয়নসহ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়।

বাংলাবাজার টু শিলই চলাচলের রাস্তাটি হলো ইটের তৈরী। সেটিও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় অনেকটা যানচলাচলের অনুপুযোগী হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়েই নিয়মিত সাধারন মানুষ এই রুটে চলাচল করে আসছে। শিলই ইউনিয়নের প্রতিটা গ্রামের সাথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

শিলই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাশেম লিটন জানান , দীর্ঘ ৯ বছরে ইউনিয়নটিতে শতভাগ বিদ্যুৎ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা ভাঙ্গনের কারনে চরবেহেরপারা ও চর শিলইয়ে সাথে এপারের যোগাযোগ সময় সাপেক্ষের। এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মার শাখা নদীতে একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে এই ইউনিয়নটি একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তিরিত হবে।

স/এস্

Print Friendly, PDF & Email