বুক ফেটে কান্না আসে : দিলারা জামান

অন্তর সরকার : বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। প্রায় ছয় দশকের অভিনয় জীবন তার। পর্দায় তাকে মায়ের চরিত্রেই বেশি দেখা যায়। বেশিরভাগ অভিনয়শিল্পী তাকে মা বলেই ডাকেন। লকডাউনের কারণে তিনিও সবার মতো এখন ঘরবন্দি। সর্বশেষ গেল ১৮ই মার্চ তিনি শুটিং করেন বলে জানান। লকডাউনের এই সময়গুলো কিভাবে কাটছে? এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সর্বশেষ ১৮ই মার্চ ৩০০ ফিট এলাকায় শুটিং করেছি। তারপর থেকে বাসায় আছি।

www.linkhaat.com

চমক নিউজকে দিলারা জামান জানান, দুই মাস হয়ে গেল। এর মধ্যে বের হইনি। আগে আকাশ দেখতে পারতাম। এখন পারি না। চারপাশে উঁচু দালান হয়ে গেছে। বুক ফেটে কান্না আসে। রোজার আগে ছাদে হাঁটতাম। এখন তা সম্ভব হচ্ছে না। একা মানুষ। সব কাজ নিজেরই করতে হয়। ফোনে কথা হয় সন্তানদের সঙ্গে। সহকর্মীরাও খোঁজ খবর নেয়। করোনায় আপনার কী উপলব্ধি হলো? দিলারা জামান বলেন, আমরা অদৃশ্য এক শত্রুর সঙ্গে যুদ্ধ করছি।

আমার মনে হয় প্রকৃতি শোধ নিচ্ছে। অনেকদিন হয় চড়-ই পাখি দেখতাম না, এখন সকাল বেলা তাদের ডাক শুনছি। প্রকৃতির উপর আমরা অত্যাচার করেছি। পাহাড় ধ্বংস করেছি, বন উজাড় করেছি, নদী নষ্ট করেছি। বড় মেয়ের কাছে জাপানে গিয়ে দেখেছি ওরা পাহাড়ের ভেতর দিয়ে টানেল করেছে। আর আমরা পাহাড় কেটে বাড়ি করেছি ব্যবসার জন্য। এসবের দাম দিচ্ছি এখন।

বিটিভিতে অনেক বছর পর আবার প্রচার হচ্ছে আপনার অভিনীত জনপ্রিয় নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’। এ সময়ে নাটকটি দেখে কেমন লাগছে? দিলারা জামান বলেন, এখন নাটকটি দেখে হাসি পায়। কত ছোট ছিলাম আমরা সবাই। এখন প্রযুুক্তিগত অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু সে সময় অনেক কষ্ট করে কাজ করেছি আমরা। ঐ ধরনের গল্প আর হবেও না। আর এখন মানুষের এত সময় নেই যে, সবাই একসঙ্গে বসে নাটক দেখবে। সে বোধ হারিয়ে গেছে। একাই নিজের সময় বুঝে যে যার মতো দেখে নেয়। সকলে মিলে দেখার যে অভ্যাস সেটা হারিয়ে গেছে।

ছোটপর্দার পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন দিলারা জামান। ‘অর্জন ৭১’ নামের একটি ছবিতে একজন শহীদ পুলিশ অফিসারের মায়ের চরিত্রে কাজ করছেন তিনি। লকডাউনের কারণে ছবিটির শুটিং বাকি। এছাড়া ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ নামের ছবিতে বঙ্গবন্ধুর মায়ের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email