যে ভাবে গাজীপুরের সেই চার খুন ও ধর্ষন হয়েছিল ।। অপরাধীরা সবাই ছিল প্রকাশ্যে

মাহিন সরকার :  মা সহ দুই মেয়েকে ধর্ষণের পর ৪ জনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ছিল পরিকল্পিত গ্রেপ্তারের পর পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তি।

www.linkhaat.com

২৩ এপ্রিল ২০২০ গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে গলাকেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতদের দেহে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন পুলিশ। ঘটনার তিনদিন পর পারভেজ নামে তাদের এক প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তারের পর সে নিজে ধর্ষণ ও হত্যার দায় নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আদালতকে। এরপর থেকে শুরুহয় জনমনে প্রতিক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকেই পারভেজের বক্তব্যের সত্যতার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। ওইসব মন্তব্যকে আমলে নিয়ে এরপরই আবারও শুরু হয় প্রশাসনের তদন্ত।

মূল হোতা গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ ও তার পিতা কাজিম উদ্দিনসহ (৫৫) ছয় ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে শ্রীপুরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হত্যার আলামত সংগ্রহ করেছে র‌্যাব-১এর পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা।

চমক নিউজের কাছে র‌্যাবের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজার আবদার গ্রামের কাজিম উদ্দিন, বশির, সমির, হেলাল, হানিফ ও আলামিন। এদের মধ্যে বশির ও সমির কাজিম উদ্দিনের ভাতিজা। সবার বাড়ি শ্রীপুরে। সবাই নেশাগ্রস্ত ও জুয়াড়ি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজোয়ান হোসেন কাজল ও হত্যার মাস্টার মাইন্ড কাজিম উদ্দিনের বাড়ি উপজেলার জৈনাবাজার এলাকার আবদার গ্রামের আব্দুল আউয়াল কলেজের পাশে। কাজলের বিদেশে থাকার সুবাদে বিভিন্ন প্রয়োজনে তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল কাজিম ও তার দুই সন্তান পারভেজ ও সজীবের। নিয়মিত তারা বাড়িতে যাতায়াতও করতেন। অনেকবার কাজলের দুই মেয়েকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছে পারভেজ।

ঘাতক পারভেজ আগেও ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন, বয়সের কারণে জামিনে ছিলেন

[২২ এপ্রিল] দিনের বেলায় কাজিম উদ্দিনের বাড়িতে বসে প্রবাসী কাজলের বাড়িতে চুরির পরিকল্পনা করে পুরো পরিবারটি। আগেও কাজলের বাড়িতে কাজিম উদ্দিনের সন্তান পারভেজ চুরি করেছে। পরে ধরা পড়ার পর বিচার-সালিশও করেছে স্থানীয়রা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওইদিন মধ্যরাতে দোতলা ভবনে পেছন দিক দিয়ে উঠে ২-৩ জন বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উপরের তলায় প্রবেশ করেন।

ভেতরে ঢুকে পেছনের দরজা খুলে দেয়ার পর পর্যায়ক্রমে ৭-৮ জন ঘরে ঢুকে। আসবাব থেকে নগদ টাকা ও সোনা গয়না চুরির সময় কাজলের বড় সন্তান নুরা (১৬) ও ছোট সন্তান হাওরিন (১২) টের পেয়ে যায়। এরপর তাদের দুইজনকে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। শব্দ পেয়ে তাদের মা ইন্দোনেশিয়া বংশোদ্ভূত ফাতেমা আক্তার তাদের রক্ষা করতে গেলে তাকেও আহত করে ধর্ষণ করে। পরে তাদের ছোট সন্তান ফাদিলকে (৭) সহ চারজনকেই বটি দিয়ে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করে তারা।

আধাঘণ্টার মধ্যে পেছনের দরজা দিয়ে ঘাতকরা নিজ নিজ বাড়িতে চলে যায়। অপরাধীর ঘটনা ঘটিয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে পালায়নি।

হত্যা, ধর্ষণ ও চুরিতে কাজিম উদ্দিনের মেয়ের জামাইসহ পুরো পরিবার জড়িত। লুট করে নেয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না ভাগভাটোয়ারার পর কাজিমের মেয়ে স্থানীয় একটি জুয়েলারি দোকানে সোনার আংটি গলিয়ে নতুন করে তৈরির জন্য অর্ডার দিয়েছিলেন।

সূত্রটি আরও বলেন, চুরি যাওয়া নগদ অর্থ, সোনা-গয়না, রক্তমাখা গেঞ্জি, লুঙ্গি ও জিন্স প্যান্টসহ বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। মূলত ওই ঘাতক পরিবারটির পেশা চুরি করা। তারা মাদক সেবন ও জুয়া খেলার সাথেও জড়িত।

এদিকে রোববার (২৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে শ্রীপুর উপজেলার জৈনাবাজারের আবদার গ্রাম থেকে কাজিম উদ্দিনের ছেলে পারভেজকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘাতক পারভেজ ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নীলিমা নামে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করার দায়ে ৯ মাস জেল খাটে।

ওই ঘটনায় পারভেজের বিরুদ্ধে শিশুটির বাবা মামলা দায়ের করার পরে বয়স বিবেচনায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে মুক্ত হয়ে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করলো পারভেজ।

স/এষ্

700
Print Friendly, PDF & Email